পর্যটকদের জন্য খুলে গেল বিশ্বভারতী ক্যাম্পাস, কবে-কখন করা যাবে 'হেরিটেজ ওয়াক'
বন্ধ হয়েছিল কোভিডকালে ৷ ফের পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হল বিশ্বভারতী ক্যাম্পাস ৷ কবে ও কোন সময় 'হেরিটেজ ওয়াক' চালু থাকবে, জেনে নিন ৷


Published : August 3, 2025 at 4:30 PM IST
বোলপুর, 3 অগস্ট: 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ' শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাস খুলে দেওয়া হল পর্যটকদের জন্য ৷ কোভিডকালে পর্যটকদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর, এদিন প্রথম পর্যটকেরা ঘুরে দেখলেন ঐতিহ্যবাহী ভবন, ভাস্কর্য ও স্থাপত্যগুলি ৷ বিশ্বভারতীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গাইড পর্যটকদের ঘুরে ঘুরে বুঝিয়ে দিলেন প্রতিটি ঐতিহ্যের ইতিহাস ৷ এবার থেকে প্রতি রবিবার পাঁচ দফায় 'হেরিটেজ ওয়াক' চালু থাকবে বিশ্বভারতীতে, যা নিয়ে রীতিমতো আপ্লুত পর্যটকেরা ৷
বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রভবনের অধিকর্তা অমিত হাজরা বলেন, "আজ থেকে শুরু হল হেরিটেজ ওয়াক ৷ প্রতি রবিবার খোলা থাকবে ক্যাম্পাস ৷ পরবর্তীতে আরও বেশি দিন খোলা রাখা যায় কি না চিন্তাভাবনা করছি ৷ কলাভবন, সঙ্গীতভবন, শ্রীনিকেতনও পর্যটকদের জন্য খোলার পরিকল্পনা রয়েছে।"
কোভিড পরিস্থিতি সময় থেকেই বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসে পর্যটকদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল । 2023 সালের 17 সেপ্টেম্বর বিশ্বকবির 'প্রাণের আরাম' শান্তিনিকেতনকে 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ' তকমা দেয় ইউনেসকো । এই মুহূর্তে বিশ্বের একমাত্র চলমান বিশ্ববিদ্যালয় এই তকমার অধিকারী । তাই শান্তিনিকেতন জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী ভবন, ভাস্কর্য, সম্পদ রক্ষা করা বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের কাছে বাড়তি চ্যালেঞ্জ ।

তবে ইউনেসকোর তরফে পর্যটকেরা বিশ্ব ঐতিহ্যের স্থান যাতে ঘুরে দেখতে পারেন, তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করার নির্দেশিকাও রয়েছে । সেই মতো প্রথমবার পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হল বিশ্বভারতী ক্যাম্পাস ।

এদিন, সকাল থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত পর্যটকদের দল বিশ্বভারতী ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেন ৷ দীর্ঘদিন পর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত আশ্রম প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখতে পেরে আপ্লুত পর্যটকেরা ৷ এবার থেকে প্রতি রবিবার পর্যটকদের জন্য খোলা থাকবে বিশ্বভারতী ক্যাম্পাস ৷ পরবর্তীতে পাঠভবনের ছুটির দিন অর্থাৎ বুধবার পূর্ণ দিবস ও শনিবার অর্ধদিবস এই ক্যাম্পাস খোলা রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ।

কোথা থেকে টিকিট সংগ্রহ করবেন ও কী কী নিয়মাবলী
বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালা থেকেই 'হেরিটেজ' ক্যাম্পাস ঘুরে দেখার টিকিট সংগ্রহ করা যাচ্ছে ৷ সংগ্রহশালার বিপরীতের গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করানো হচ্ছে । মাথাপিছু টিকিট মূল্য 300 টাকা । পড়ুয়াদের কোনও দল ঘুরতে এলে মাথাপিছু টিকিট মূল্য 50 টাকা ৷ একক কোনও পড়ুয়ার জন্য টিকিট মূল্য 150 টাকা ৷ বিদেশি পর্যটকদের জন্য মাথাপিছু টিকিট মূল্য 1000 টাকা ৷

পাঁচটি দলে সর্বাধিক 25 জন করে পর্যটকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে ৷ সকাল সাড়ে 10টা, বেলা সাড়ে 11টা, সাড়ে 12টা, দুপুর আড়াইটে ও বিকেল সাড়ে 3টে, এই পাঁচবার প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে ৷ প্রত্যেক দলের সঙ্গে বিশ্বভারতীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন করে গাইড থাকছেন ৷

নিরাপত্তার জন্য একজন পুরুষ ও একজন মহিলা নিরাপত্তারক্ষী থাকছেন ৷ নির্দিষ্ট রুটের বাইরে পর্যটকদের যেতে দেওয়া হচ্ছে না ৷ ভ্রমণের সময় স্থিরচিত্র তোলার ক্ষেত্রে কোনও রূপ নিষেধাজ্ঞা থাকছে না ৷

তবে এখনই পর্যটকদের বিশ্বভারতীর গুরুত্বপূর্ণ কলাভবন ও সঙ্গীতভবনের দিকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না ৷ বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পরবর্তীতে একটি কম্বো টিকিট পদ্ধতি চালু করে ক্যাম্পাস-সহ কলাভবন, সঙ্গীতভবন ও শ্রীনিকেতনও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে ৷

প্রথম দিন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্পর্শ পাওয়া বিশ্বভারতী ক্যাম্পাস ঘুরে দেখতে পেরে পর্যটকদের মধ্যে দেবলীনা জয়সওয়াল, সৌমিত্র দেবনাথ, শাশ্বতী দেবনাথ বলেন, "আমরা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছি ৷ বিশ্বভারতী পর্যটকদের জন্য খুলে যাওয়ার পর প্রথম দিনই এখানে সবকিছু ঘুরে দেখতে পারছি ৷ ছোট থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান, কবিতা শুনে বড় হয়েছি ৷ তাঁর সেই জায়গায় প্রবেশ করতে পেরে দারুণ খুশি আমরা ৷ ঘুরে ঘুরে দেখানো হচ্ছে, খুব সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে ৷ আমরা সবাই খুবই খুশি ৷"

