ETV Bharat / state

স্কুলের লক্ষ লক্ষ টাকা লোপাটে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক, নাম জড়াল তৃণমূল নেতারও

টাকা লোপাটের ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে রাখতে স্কুলে গত তিন বছর ধরে অডিট না করানোর অভিযোগও তোলেন অভিভাবকরা।

MONEY EMBEZZLED AT BANKURA SCHOOL
টাকা লোপাটের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : March 19, 2025 at 4:33 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

বাঁকুড়া, 19 মার্চ: পরিচালন সমিতির দায়িত্বে থাকা তৃণমূলের যুব নেতার সঙ্গে যোগসাজস করে স্কুল উন্নয়নের 52 লক্ষ টাকা লোপাটের অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে ঘেরাও, বিক্ষোভ দেখালেন অভিভাবকরা ৷ এর জেরে তুমুল উত্তেজনা মগরা হাইস্কুলে ! শারিরীক অসুস্থতার সাফাই প্রধান শিক্ষকের ৷ দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা দফতর ৷

বাঁকুড়া জেলার বড় স্কুলগুলির মধ্যে অন্যতম বাঁকুড়া 2 নম্বর ব্লকের মগরা হাইস্কুল। এই স্কুলে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা। এবার স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি পদে থাকা ব্লকের তৃণমূল যুব নেতা বুদ্ধদেব শর্মার সঙ্গে যোগসাজস করে স্কুলের লক্ষ লক্ষ টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুকেশ পাত্রের বিরুদ্ধে।

টাকা লোপাটের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে (ইটিভি ভারত)

স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, 2019 সাল থেকে ধাপে ধাপে স্কুলের নতুন ক্লাসরুম তৈরি, সীমানা পাঁচিল তৈরি ও পুরনো ভবন সংস্কারের জন্য মোট 52 লক্ষ টাকা অনুদান পেয়েছে স্কুল। অভিভাবকদের অভিযোগ, সেই টাকায় স্কুলের কোনও কাজ না করে পরিচালন সমিতির সঙ্গে যোগসাজস করে ওই বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মস্যাৎ করে নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক মুকেশ পাত্র।

টাকা লোপাটের ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে রাখতে স্কুলে গত তিনবছর ধরে অডিট না করানোর অভিযোগও তোলেন অভিভাবকেরা। এই অভিযোগ সামনে রেখে গতকাল বিকালে অভিভাবকরা একত্রিত হয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে ওই টাকার হিসাব চাইতে যান। প্রধান শিক্ষক সেই হিসাব দেখাতে না পারায় বিকাল তিনটে থেকে প্রধান শিক্ষক-সহ স্কুলের সমস্ত শিক্ষককে ঘেরাও করে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন অভিভাবকেরা। প্রায় সন্ধ্যা সাড়ে ছ'টা পর্যন্ত এই বিক্ষোভের জেরে স্কুলেই আটকে থাকেন প্রধান শিক্ষক-সহ অন্যান্য শিক্ষকেরা। ঘটনার খবর পেয়ে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশকে ঘিরেও বিক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকেরা। পরে প্রধান শিক্ষক অসুস্থ বোধ করায় অভিভাবকদের বুঝিয়ে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে পুলিশ।

এদিকে অভিভাবকদের এই বিক্ষোভে রীতিমত অস্বস্তিতে পড়ে নিজের মতো করে সাফাই দেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক। তাঁর দাবি, কোনও টাকা আত্মসাৎ করা হয়নি। অনুদানের সমস্ত টাকাই স্কুলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আছে। শারিরীক অসুস্থতা ও পারিবারিক সমস্যার কারণেই তিনি ওই টাকা খরচ করতে পারেননি। দ্রুত টেন্ডার করে ওই টাকায় কাজ শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি। বাঁকুড়ার জেলা স্কুল পরিদর্শকের দাবি, 2018 সাল থেকে 2022 সাল পর্যন্ত দফায় দফায় স্কুলটিকে 54 লক্ষ 56 হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছিল। বারবার স্কুলকে সেই টাকা খরচ করার কথা বলা হলেও স্কুল সেই টাকা খরচ করেনি। সেই টাকা কোথায় আছে তা খতিয়ে দেখে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা তিনি।

এদিকে এই ঘটনায় প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার বলেন, "অভিভাবকদের অভিযোগ সর্বৈব সত্য। অবিলম্বে ওই প্রধান শিক্ষক ও পরিচালন সমিতির সদস্যকে গ্রেফতার করা হোক ৷" তৃণমূল অবশ্য গোটা ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ছায়া দেখছে।