স্বাস্থ্যেখাতে GST-তে বড় ছাড়, কতটা উপকৃত হবেন সাধারণ মানুষ?
স্বাস্থ্যখাতে জিএসটি-তে বড় ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র ৷ আগামী 22 সেপ্টেম্বর থেকে চালু হবে নয়া এই নিয়ম ৷ সাধারণের উপর কী প্রভাব পড়বে ?

Published : September 4, 2025 at 9:39 PM IST
কলকাতা, 4 সেপ্টেম্বর: জীবনবিমা ও স্বাস্থ্যবিমায় কর ছাড়ের দাবি দীর্ঘদিন ধরে উঠছিল বিভিন্নমহল থেকে ৷ অবশেষে বুধবার রাতে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে যে এবার থেকে আর জীবনবিমা ও স্বাস্থ্যবিমায় জিএসটি (গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স বা পণ্য ও পরিষেবা কর) দিতে হবে না ৷ কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত খুশি চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষ ৷
কেন্দ্র শুধু যে বিমায় ছাড় দিয়েছে, তা নয় ৷ জীবনদায়ী ওষুধের ক্ষেত্রেও জিএসটি কমিয়েছে ৷ ফলে সাধারণের পকেটে এবার চিকিৎসা খরচে কম টান পড়বে ৷ সেই কারণে বহু মানুষ খুশি৷ তবে অনেকে মনে করেন পেট্রোপণ্যকেও জিএসটি-র অধীনে আনলে ভালো হতো ৷ তাই কেউ কেউ কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে নির্বাচনী গিমিক হিসেবেই দেখছেন ৷
উল্লেখ্য, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়া গেলেও সময় অনেক লেগে যায় ৷ তাই অনেকেই বেসরকারি হাসপাতালের দ্বারস্থ হন । কিন্তু সেখানেও তাঁদের চিকিৎসার গুনতে হয় অনেক টাকা ৷ তাই অধিকাংশ মানুষই স্বাস্থ্যবিমায় নিজেদের নাম নথিভুক্ত করে রাখেন । কিন্তু সেই বিমার কারণে বছর কিংবা মাসের শেষে তাদের দিতে হয় একটা অংকের টাকা । কিন্তু সেখানে শুল্ক মুকুব হওয়ায় বহু মানুষের চিকিৎসা ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে পারবে বলেই আশাবাদী বেসরকারি হাসপাতালগুলি ।
বাইপাস ধারের এক বেসরকারি হাসপাতালের চেয়ারম্যান সজল দত্ত বলেন, "জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও স্বাস্থ্যবিমায় জিএসটি কমানো এক প্রশংসনীয় পদক্ষেপ, যা সরাসরি রোগী ও পরিবারের বোঝা হালকা করবে । ক্যানসার, হৃদরোগ, কিডনির অসুখ ও বিরল রোগের জরুরি ওষুধ এখন উল্লেখযোগ্যভাবে কম দামে পাওয়া যাবে । এর সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমায় কম জিএসটি যুক্ত হওয়ায় চিকিৎসার খরচ কমবে এবং ভালো মানের পরিষেবা আরও সুলভ হবে । গড়ে হাসপাতালে ভর্তির খরচ 8 থেকে 10 শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে, যা সমগ্র স্বাস্থ্যক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আর্থিক স্বস্তি এনে দেবে ।"
কলকতা শহরের আরও একটি বেসরকারি হাসপাতালের ইউনিট হেড চিকিৎসক সৌম্যব্রত রায় বলেন, ‘‘এটি একটি সতর্ক পদক্ষেপ । এর ফলে সাধারণ মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হতে ভয় কম পাবে । কারণ, এখানে অনেকটাই খরচ কমবে ।’’
সরকারের এই সিদ্ধান্তের সাধুবাদ জানিয়েছেন আলিপুরের কাছের একটি বেসরকারি হাসপাতাল । সেখানকার সিইও রূপক বড়ুয়া বলেন, "মেডিক্যাল গ্রেড অক্সিজেন, অ্যানেসথেটিকস ও ডায়াগনস্টিক সামগ্রীর উপর জিএসটি 12 শতাংশ থেকে কমিয়ে পাঁচ শতাংশ করা হয়েছে । তার সঙ্গে আগালসিডেজ বেটা ও ইমিগ্লুসেরেসের মতো জীবনরক্ষাকারী ওষুধকে জিএসটি থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে । এর ফলে চিকিৎসার খরচ সরাসরি কমে আসবে ।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘একইভাবে স্বাস্থ্য ও জীবনবিমায় জিএসটি মকুব হওয়ায় প্রিমিয়াম কমবে এবং কভারেজ আরও বিস্তৃত হবে । সব মিলিয়ে এই পদক্ষেপগুলো রোগীদের খরচ কমাবে । নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে সাহায্য করবে ।’’
অন্যদিকে মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভদের কেন্দ্রীয় সংগঠন ফেডারেশন অফ মেডিক্যাল অ্যান্ড সেল রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েন অফ ইন্ডিয়া বহুদিন ধরেই ওষুধে শুল্কের ছাড়ের দাবি তুলেছিলেন । সেই মোতাবেক 33টি জীবনদায়ী ওষুধের উপর জিএসটি-তে ছাড় দেওয়া হয়েছে । এই বিষয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পার্থ রক্ষিত বলেন, ‘‘আমরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি । দেখা যাচ্ছিল অত্যাধিক ওষুধের দামের কারণে অনেক মানুষের ওষুধ কিনছিল না । তাই সেখানে যদি সরকার শুল্ক ছাড় বা ওষুধের দাম কমিয়ে সাধারণ মানুষকে ওষুধ কিনতে সাহায্য করে, তাদের সেক্ষেত্রে আমরা সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাব ।’’
তিনি আরও জানান যে তাঁরা নজরে রাখবেন আদৌ মানুষ উপকৃত হচ্ছে কি না এই ছাড়ের ফলে । তিনি বলেন, ‘‘বাজার অর্থনীতির ওপর ওষুধের দাম ছেড়ে দেওয়া হয়েছে । তাই লাফিয়ে ওষুধের দাম বাড়ছে । সেই কারণেই চিকিৎসা অত্যন্ত খরচ সাপেক্ষ হয়ে গিয়েছে ।" কারণ হিসাবে তিনি উল্লেখ করেন, হাঁটু অপারেশনের ক্ষেত্রে ওষুধে কর ছাড় দেওয়া হলেও অপারেশনের জন্য যে প্লেটটার প্রয়োজন সেটা দামী হতে পারে ৷ তাই সেক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপ কি থাকছে, সেখানে আমাদের নজর থাকবে ৷’’
তবে বহু মানুষ মনে করছেন নির্বাচনের জন্যই এহেন পদক্ষেপ । গৌরবদীপ ভট্টাচার্য নামে এক ব্যক্তি বলেন, "প্রথমেই বুঝতে হবে বছরের মাঝখানে এই বাজেট কেন ? সামনে নির্বাচন, যেভাবেই হোক জিততে হবে । সাধারণ মানুষের কিছুটা সুবিধা হবে ঠিকই । কিন্তু এর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিস আছে । যেগুলো মানুষ আলোচনায় আনছে না । পেট্রোলিয়ামজাত জিনিসগুলির উপর সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কী ? আমরা অল্পে ভুলে যাচ্ছি । সমস্যাটা এখানেই । একটা জীবন কিংবা স্বাস্থ্যবিমায় জিএসটি শূন্য করে সাধারণ মানুষকে খুব লাভ দিলাম সেটা নয় ।"
অন্য আরেকজন সৌমিক রুদ্র রায় বলেন, "পেট্রলের দাম কিঞ্চিত মাত্র কমেনি । কিন্তু অনেক বড় বড় কথা বলা হয়েছিল । সাধারণ মানুষ অনেক সময় অনেক কিছু বুঝতে পারেন না । কিন্তু যদি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলে বোঝা যাবে পুরোটাই নির্বাচনের জন্য করা । এটা ঠিক কিছুটা রেহাই পাওয়া যাবে । অনেকের স্বাস্থ্যবিমা করতে পিছিয়ে যাচ্ছিলেন । আমার মনে হয় এরপর অনেকেই স্বাস্থ্যবিমা করবেন । তবে এই পদক্ষেপটা আরও আগে নেওয়া উচিত ছিল । তবে আমার মনে হয় সাধারণ মানুষের রোজগার তো বাড়েনি । তাই পেট্রোপণ্যের হাত ধরে আরও অনেক কিছুর দাম কমা উচিত ।"

