ETV Bharat / state

হোয়াটসঅ্যাপে স্ট্যাটাস দিয়ে চরম পদক্ষেপ কলেজ ছাত্রীর, বাঁচাতে এসে বেধড়ক মার খেলেন সহপাঠীরা

তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, তিন যুবক ছাত্রীর ঘরের দরজা ভেঙে ঢুকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ নামান ৷ মোবাইল থেকে তথ্য লোপাটের চেষ্টা করেন তাঁরা ।

College student ends life
প্রতীকী ছবি (ফাইল চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 21, 2025 at 2:48 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

জলপাইগুড়ি, 21 অগস্ট: হোয়াটসঅ্যাপে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের জীবন শেষ করলেন কলেজ ছাত্রী । তাঁর ওই স্ট্যাটাস দেখে তরুণীকে বাঁচাতে আসেন সহপাঠীরা ৷ সেসময় এলাকার মানুষরা ওই তিন কলেজ পড়ুয়াকে ধরে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ । তথ্য প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে ওই তিন যুবকের বিরুদ্ধে ।

বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির পাতকাটা গ্রামপঞ্চায়েতের শঙ্ক পাড়ায় । মৃত ছাত্রীর নাম কেয়া রায় (19) । তাঁর পরিবারের অভিযোগ, তিন যুবক ছাত্রীর ঘরের দরজা ভেঙে ঢুকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ নামান ৷ পাশাপাশি মোবাইল থেকে তথ্য লোপাটের চেষ্টা করেন তাঁরা । এমন খবর পেয়েই স্থানীয়রা ঘিরে ফেলে তিন যুবককে । এরপর তাঁদেরকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ । রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কোতয়ালি থানার পুলিশ । গুরুতর আহত অবস্থায় তিন ছাত্রকে উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি গভর্মেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় ।

College student ends life
আহত কলেজ পড়ুয়া (নিজস্ব ছবি)

পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, "আহত যুবকদের চিকিৎসা চলছে । তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে । অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে । ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে ।"

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কেয়া রায় জলপাইগুড়ি পলিটেকনিক কলেজের পড়ুয়া । বুধবার সন্ধ্যায় ফাঁকা বাড়িতে নিজের ঘরে চরম পদক্ষেপ করেন তিনি । তার আগে হোয়াটসঅ্যাপে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন । সেটি দেখার পরেই ছাত্রীর বাড়িতে ছুটে আসেন তিন বন্ধু দেবাশিস রায়, সুদীপ রায় এবং অর্ঘ সেন ।

College student ends life
কলেজ ছাত্রীকে বাঁচাতে এসে মার খেলেন সহপাঠীরা (নিজস্ব ছবি)

আহত দেবাশিস রায় জানান, তাঁরা ওই স্ট্যাটাস দেখার পরেই বান্ধবীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর খোঁজ করেন । পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় কেয়া ঘুমোচ্ছে । এরপর ডাকাডাকির পর সাড়া শব্দ না-পেয়ে দরজা ভেঙে কেয়ার দেহ উদ্ধার করা হয় । ঝুলন্ত দেহ নামানোর সময় পরিবারের লোকেরাও ছিলেন বলে দাবি দেবাশিসের ।

স্থানীয় প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান প্রধান হেমব্রম বলেন, "খবর পেয়েই আমি ঘটনাস্থলে ছুটে আসি । শুনতে পেলাম হঠাৎই রাতে তিনটি ছেলে এসে বলে কেয়া রায়ের বাড়ি কোথায় । এরপর তারা কেয়ার বাড়িতে এসে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে তার ঝুলন্ত দেহ নামায় । তারপর মেয়েটির মোবাইলের তথ্য ডিলিট করতে থাকে । এরপরেই কেয়ার পরিবারের লোকেরা তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে, কীভাবে ঘটনাটি হল ? তারা কে ? এরপর ক্ষিপ্ত জনতা তিনজন ছেলেকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয় ।"

College student ends life
জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল (নিজস্ব ছবি)

মৃত ছাত্রীর বাবা কিশোর রায় বলেন, "সন্ধের পর দেখি মেয়ের ঘরে কোনও সাড়া শব্দ নেই । ওদের কলেজের তিনজন ছেলে বাড়িতে আসে । আমার মেয়ে কোথায় জানতে চায় । ওরাই দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকে । মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় নামানোর পর তার মোবাইল ঘাঁটাঘাঁটি করছিল । লোকজন জড়ো হয়ে যায় । সবাই জিজ্ঞাসা করে তোমরা কীভাবে জানলে মেয়েটি চরম পদক্ষেপ নিয়েছে । এরপর তিনজনকে স্থানীয়রা পুলিশের হাতে তুলে দেয় ।"

আত্মহত্যা কোনও সমাধান নয়

যদি আপনার মধ্যে কখনও আত্মহত্যার চিন্তা মাথাচাড়া দেয় বা আপনার কোনও বন্ধু বা পরিচিত এই সমস্যায় জর্জরিত হন, তাহলে ভেঙে পড়বেন না। জানবেন, এমন কেউ আছে যে আপনার যন্ত্রণা, আপনার হতাশা ভাগ করে নিতে সদা-প্রস্তুত। আপনার পাশে দাঁড়াতে তৎপর। সাহায্য পেতে দিনের যে কোনও সময়ে 044-24640050 এই নম্বরে কল করুন স্নেহা ফাউন্ডেশনে। টাটা ইন্সটিটিউট অফ সোশাল সায়েন্সের হেল্পলাইন নম্বরেও (9152987821) কল করতে পারেন। এখানে ফোন করতে হবে সোমবার থেকে শনিবার সকাল 8টা থেকে রাত 10টার মধ্যে।