ETV Bharat / state

কার অনুমতিতে বসে সোনাঝুরি হাট, সদুত্তর দিতে পারল না বন বিভাগ

সোনাঝুরি হাট নিয়ে পরিবেশ আদালতে মামলার অভিযোগের সঠিক উত্তর জানাতে পারল না বন বিভাগ । তবে কি এই হাট বেআইনি ?

Shonajhuri Haat
শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি হাট (ফাইল ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : September 15, 2025 at 9:36 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

বোলপুর, 15 সেপ্টেম্বর: সরকারি কোন দফতরের অনুমতিতে বসছে শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরির খোয়াই হাট ? জাতীয় পরিবেশ আদালতে জানাতে পারল না বন বিভাগ ৷ এমনকি, এই হাট 'বেআইনি' মামলায় পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্তের অভিযোগগুলিকে জাতীয় পরিবেশ আদালতে হলফনামা দিয়ে কার্যত মান্যতা দিয়েছে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ও বন বিভাগ ৷

হলফনামায় উঠে এসেছে বিস্ফোরক সব দাবি । বন বিভাগের জমি দখল করে জঙ্গলে গড়ে উঠেছে রিসর্ট, জঙ্গলের পরিবেশ ধ্বংস করে যথেচ্ছভাবে বাড়ছে প্লাস্টিকের ব্যবহার, জঙ্গলের মধ্যে গাড়ির পার্কিং-সহ একাধিক সরকারি তথ্য ৷

সোনাঝুরির হাট মামলায় পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্তের বক্তব্য (ইটিভি ভারত)

পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত বলেন, "আমি হাটের ছবি তুলে যে অভিযোগগুলো আদালতে করেছিলাম হলফনামায় সেগুলোকে মান্যতা দিয়েছে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ও বন বিভাগ ৷ হাটটি বৈধ কিনা তা বলতেই পারেনি । কে এই হাট বসার অনুমতি দিল, তাও জানাতে পারেনি । আদালত যে নির্দেশ দেবে তা দুই পক্ষই পালন করবে বলে হলফনামায় জানিয়েছে ৷ 14 নভেম্বর আদালত এই মামলার রায় দেবেন ।"

শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি জঙ্গলে 'খোয়াই হাট' পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ । বছরে লক্ষ লক্ষ পর্যটক আসেন এখানে ৷ শান্তিনিকেতনে বেড়াতে আসা মানেই সোনাঝুরি জঙ্গলের হাটে কেনাকাটা ও আদিবাসী মানুষজনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাচ । এটা না হলে যেন ঘোরা সম্পূর্ণ হয় না ৷

কিন্তু, এই সোনাঝুরির খোয়াই হাট 'বেআইনি'। বন বিভাগের জায়গায় পরিবেশ ধ্বংস করে কোনও হাট বসতেই পারে না ৷ এই মর্মে জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা করেছিলেন পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত । সেই মামলার প্রেক্ষিতে আদালত হলফনামা চেয়েছিল । নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ও বন বিভাগ আদালতে হলফনামা দিয়েছে ৷

Sonajhuri Haat
সোনাঝুরি হাটের ছবি (ইটিভি ভারত)

রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ হলফনামায় উল্লেখ করেছে

১) সোনাঝুরি জঙ্গলে দুটো রিসর্ট বন দফতরের জায়গায় গড়ে উঠেছে । সেই বিষয়ে তারাই বলতে পারবে ৷
২) রূপপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এই নির্মাণের অনুমতি দিলেও জেলা প্রশাসনের অনুমতি আছে কিনা জানা নেই ৷
৩) জঙ্গলের মধ্যে সপ্তাহে 6 দিন হাট বসে ৷
৪) জঙ্গলের মধ্যে যত্রতত্র আবর্জনা ও প্লাস্টিক পড়ে থাকে ৷
৫) জঙ্গলের মধ্যে গাড়ি পার্কিং হয় ৷
৬) হোটেল বা রিসর্ট থেকে অপরিশোধিত বর্জ্য জঙ্গলে ফেলা হয় ৷
৭) জঙ্গলে নিষিদ্ধ কালো জেনারেটর ব্যবহার হয় ৷
৮) হোটেল বা রিসর্টে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কোনও ছাড়পত্র নেই ৷

জাতীয় পরিবেশ আদালতে হলফনামা দিয়ে বন বিভাগ জানিয়েছে

১) 2024 সালের অগস্ট মাস থেকে এই হাট বসছে ৷
২) জঙ্গলে বায়ো টয়লেট আছে ৷
৩) খরা প্রবণ এলাকা হওয়ায় কিছু গাছ নষ্ট হয়েছে ।
৪) চারটি হোটেল বা রিসর্ট বন বিভাগের জায়গায় গড়ে উঠেছে । তাদের উচ্ছেদের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে ।
৫) জঙ্গলে গাড়ি পার্কিং বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে ৷

Sonajhuri Haat
পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত (ইটিভি ভারত)

পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্তের অভিযোগ, এই হাট বসার ক্ষেত্রে সরকারের কোন দফতর অনুমতি দিয়েছে, তার সদুত্তর বন বিভাগ দিতে পারেনি ৷ অর্থাৎ, হাটটির বৈধতা নিয়ে কোনও উত্তর নেই সরকারের কাছে ৷ এছাড়া, বন বিভাগের জায়গায় রিসর্ট গড়ে তোলার অনুমতি রূপপুর গ্রাম পঞ্চায়েত দেয় কীভাবে ?

সোনাঝুরি হাটের শুরু

2000 সালে শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি জঙ্গলের মধ্যে একটি শৈল্পিক হাটের সূচনা করেছিলেন আশ্রমিক শ্যামলী খাস্তগীর । স্থানীয় আদিবাসী গ্রামের মানুষজন সপ্তাহে মাত্র একটি দিন, শনিবার নিজেদের তৈরি শিল্পকর্ম নিয়ে হাটে বসতেন ৷ এই হাটের নাম ছিল 'অন্য বনের খোয়াই হাট' বা 'শনিবারের হাট'।

পরবর্তীতে রাজ্যে পালা বদলের সঙ্গে সঙ্গে হাটের পরিধি বৃদ্ধি পেতে থাকে ৷ 2016-17 সাল থেকে এই হাট বৃহৎ আকার ধারণ করে । বর্তমানে প্রায় 1800টিরও বেশি দোকান বসে হাটে ৷ তাদের কাছ থেকে টাকাও নেওয়া হয় ৷ সেই টাকা সরকারের কোন খাতে জমা পড়ে কেউ জানে না ৷ সোনাঝুরি জঙ্গলের মধ্যেই সারি সারি বাইক, চারচাকা গাড়ি চলাচল করে, যা অধিকাংশই ব্যবসায়ীদের ৷

এছাড়া, জঙ্গলের মধ্য দিয়েই রিসর্টে গাড়ি চালিয়ে যান পর্যটকরা ৷ এতে বহু গাছ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, নতুন করে আর গাছ জন্মায় না ৷ জঙ্গলজুড়ে আবর্জন, প্লাস্টিক পড়ে থাকার অভিযোগও নতুন নয় ৷ গত দুই বছর ধরে আবার সোনাঝুরি জঙ্গলের মধ্যে চলছে দেদার আবির খেলা ৷ লক্ষ লক্ষ পর্যটকের ঢল নামে । গাছ নষ্ট করেই গাড়ি পার্কিং হয় ।

এই সব মিলিয়ে বন বিভাগের জায়গায় পরিবেশ ধ্বংস করে একটি ব্যবসায়িক হাট কীভাবে বসতে পারে, এই অভিযোগ তুলেই পরিবেশ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত ।