ETV Bharat / state

বাড়িতেও সৌরবিদ্যুৎ, জলপাইগুড়িতে সম্ভাব্য প্রথম সোলার মিটার WBSEDCL-এর

1 লক্ষ 28 হাজার টাকা খরচ করে সোলার প্যানেল ও মিটার বসিয়েছেন জলপাইগুড়ির পরিবেশ কর্মী ৷

DOMESTIC SOLAR METER
জলপাইগুড়িতে বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : May 4, 2025 at 4:22 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

জলপাইগুড়ি, 4 মে: এবার বাড়িতেও ঢুকে গেল সৌরবিদ্যুৎ। WBSEDCL-এর পক্ষ থেকে জলপাইগুড়ি জেলায় সম্ভাব্য প্রথম সোলার পিভি সোর্সের মিটার দিল রাজ্য সরকারের এই সংস্থা ৷ সরকারি সৌরবিদ্যুৎ মিটার লাগল জলপাইগুড়ির নিউটাউন পাড়ার বাসিন্দা চা-বাগানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী দেবাশিস গুহ-র বাড়িতে ৷

সোলার প্যানেলের সঙ্গে WBSEDCL-এর পক্ষ থেকে মিটার লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে ৷ দেবাশিস গুহ’র দাবি, তাঁর বাড়িতেই জেলায় প্রথম এই ডোমেস্টিক সৌর বিদ্যুতের মিটার লাগানো হল ৷ সোলার প্যানেলের মাধ্যমে যে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে তার নিরিখেই বিদ্যুৎ পরিষেবা পাবেন গ্রাহক ৷ মিটারের মাধ্যমে গ্রাহক কত বিদ্যুৎ খরচ করলেন, তা জানা যাবে ৷ পাশাপাশি, সোলার প্যানেলের মাধ্যমে কত পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপন্ন হল সেটাও মিটারে উঠবে ৷

এবার বাড়িতেও সৌরবিদ্যুৎ (নিজস্ব ভিডিয়ো)

দেবপাড়া চা-বাগানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী দেবাশিস গুহ বলেন, "আমি কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার পরেই সিদ্ধান্ত নিই বাড়িতে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল লাগাব ৷ যেহেতু আমি পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত, তাই আগে থেকে এ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করেছিলাম ৷ সেই মতো আমি রাজ্য সরকারের ডব্লিউবিএসইডিসিএল-এর ওয়েবসাইটে ও অফলাইনে সোলার মিটারের জন্য আবেদন করেছিলাম ৷ আমাকে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার তরফে নেট মিটার লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে ৷ গত 1 এপ্রিল আমার বাড়িতে তা ইনস্টল করা হয়েছে ৷ কিন্তু, গত তিনদিন থেকে সৌরবিদ্যুৎ পরিষেবা চালু হয়েছে ৷"

DOMESTIC SOLAR METER
দেবাশিস গুহ-র বাড়িতে WBSEDL-এর তরফে সোলার মিটার ৷ (নিজস্ব ছবি)

দেবাশিস গুহ বলেন, "প্রথমে ইলেকট্রিসিটি অফিসে ফর্ম ফিলাপ করেছি ৷ 590 টাকা দিয়ে আবেদন করি ৷ আমি আমার বাড়িতে 2.3 কিলোওয়াটের জন্য আবেদন করেছিলাম ৷ আমাকে নেট মিটারের জন্য 11 হাজার 57 টাকা জমা দিতে বলা হয় ৷ 90 দিনের মধ্যে এই টাকা জমা দিতে হয়েছে ৷"

DOMESTIC SOLAR METER
সোলার বক্স ৷ (নিজস্ব ছবি)

আবেদন করার জন্য আধার কার্ড ও ইলেক্ট্রিক বিলের প্রয়োজন হয় দেবাশিস গুহ’র ৷ তাঁর কথায়, "আমি দীর্ঘদিন পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ৷ 30 বছর আমি কর্মসূত্রে শহরের বাইরে ছিলাম ৷ বাড়ি ফিরেই আমি সৌরবিদ্যুৎ নেওয়ার জন্য খোঁজখবর শুরু করি ৷ এরপর রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার মাধ্যমে জানতে পারি, সৌরবিদ্যুতের জন্য নেট মিটার দেওয়া হচ্ছে ৷

DOMESTIC SOLAR METER
চা-বাগানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী দেবাশিস গুহ’র বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল ৷ (নিজস্ব ছবি)

দেবাশিস গুহ আরও বলেন, "আমি বেসরকারি ভেন্ডরের মাধ্যমে বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল লাগিয়েছি ৷ চারটি টপ কর্ন মনোপট বাইফেসিয়াল সোলার প্যানেল লাগানো হয়েছে ৷ চারটি প্যানেল-সহ সব কিছু নিয়ে আমার খরচ পড়েছে 1 লক্ষ 28 হাজার টাকা ৷ সোলার প্যানেলে 30 বছরের ওয়ারেন্টি রয়েছে ৷ আমি যে টাকা খরচ করে সোলার প্যানেল লাগিয়েছি, তাতে মনে হতে পারে অনেক টাকা খরচ করলাম ৷ কিন্তু আমার এই টাকা আগামী 5 বছরে উঠে যাবে ৷ আমি কার্যত বিনে পয়সাতেই সোলার বিদ্যুৎ পরিষেবা নিতে পারব ৷ কারণ, বছরে আমার যা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে, সেই তুলনায় আমার খরচ অনেক কম ৷"

তবে, দেবাশিস গুহ’র আক্ষেপ, জনমানসে সোলার বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির প্রচার না-থাকার কারণে সাধারণ মানুষ এই পরিষেবা নিতে পারছে না ৷

এ নিয়ে ডব্লিউবিএসইডিসিএল-এর জলপাইগুড়ির রিজিওনাল ম্যানেজার সঞ্জয় মণ্ডল বলেন, "আমরা সোলার প্যানেল লাগাচ্ছি না ৷ কাস্টোমার ভেন্ডরের মাধ্যমে সোলার প্যানেল লাগিয়েছে ৷ জলপাইগুড়িতে আমরা ডোমেস্টিক সোলার মিটার দেওয়া শুরু করেছি ৷ আমরা প্রাথমিকভাবে কাস্টোমারের আবেদনের ভিত্তিতে এই মিটার দেওয়া শুরু করেছি ৷ তবে, কমার্শিয়াল ক্ষেত্রে অনেক আগেই সোলার মিটার দেওয়া শুরু হয়েছে ৷"

জলপাইগুড়ি সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাবের সম্পাদক রাজা রাউত বলেন, "দেবাশিস গুহ’র উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই ৷ উনি পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ৷ আমাদের ক্লাবের অনেক পুরনো সদস্য ৷ তিনি সৌরশক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিষেবা নিচ্ছেন, তা আমাদের পরিবেশের পক্ষে অনেক ভালো ৷"