ETV Bharat / state

কৃষি না-হলে শিল্প হোক, একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতার বার্তার আশায় সিঙ্গুরের কৃষকরা

এত বছরে একটা শিল্প আনতে পারেনি তৃণমূল সরকার । যে আশা নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিলেন, তা পূর্ণ হয়নি বলে আক্ষেপের সুর কৃষকদের গলায় ।

Trinamool martyrs day
সিঙ্গুরে সিংহের ভেড়িতে শহিদ স্তম্ভ (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : July 20, 2025 at 6:46 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

সিঙ্গুরে, 20 জুলাই: বিধানসভা ভোটের আগে শেষ একুশে জুলাইয়ের সভা এবছর । তৃণমূলের শহিদ দিবস এবারে আলাদা মাত্রা পাবে । নানা সমীকরণের মধ্যে ভোটের ঘুঁটি সাজাচ্ছে তৃণমূল । দল বেঁধে তৃণমৃলের নেতা-কর্মী থেকে বহু মানুষ কলকাতায় শহিদ দিবসের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছে । সেই জায়গা থেকে বাদ নেই সিঙ্গুর ।

সিঙ্গুর আন্দোলনের পরই রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান হয়েছে । তারপর পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর স্মারক হিসাবে সিঙ্গুরে সিংহের ভেড়িতে শহিদ স্তম্ভ করেছে রাজ্য সরকার । জমি আন্দোলনের একাধিক মুখ থাকলেও বর্তমানে সিঙ্গুরে তৃণমূলের প্রধান মুখ হরিপালের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্না । তাঁর নেতৃত্বে তৃণমূলের শহিদ দিবসের ডাকে সিঙ্গুরে রতনপুরে মঞ্চ করা হয়েছে । এখান থেকেই একাধিক বাস নেতা-কর্মীদের নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হবে । কিন্তু যেই সিঙ্গুরের কৃষিজমি রক্ষা কমিটির আন্দোলনের জেরে তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের এত প্রভাব প্রতিপত্তি, সেই জমিতে আজও চাষ হয় না । এত বছরে একটা শিল্পও আসেনি । যে আশা নিয়ে কৃষকরা আন্দোলন শুরু করেছিলেন, সেই আশাও পূর্ণ হয়নি বলে আক্ষেপের সুর কৃষকদের গলায় ।

আক্ষেপের সুর সিঙ্গুরের কৃষকদের গলায় (ইটিভি ভারত)

সিঙ্গুরের জমি দিতে অনিচ্ছুক কৃষকরা জানাচ্ছেন, আজও চাল ও টাকা তাঁরা পান ঠিকই । তবে আজও সিঙ্গুরে টাটা প্রজেক্টের জমি চাষযোগ্য হয়নি । যদিও তারপরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আস্থা রাখছেন কৃষক ও জমি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তৎকালীন নেতারা । সকলেই চান, সিঙ্গুরের জমিতে চাষ অথবা শিল্প হোক । বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাই একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে সিঙ্গুরের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও বার্তা দেবেন কি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেদিকে তাকিয়ে সকলে ৷

July 21 rally
চাষের অযোগ্য সিঙ্গুরের জমি (নিজস্ব ছবি)

সিঙ্গুরের বাজেমেলিয়ার বাসিন্দা জমি দিতে অনিচ্ছুক কৃষক সহদেব কোলে । তাঁর পরিবারের চার বিঘার উপর জমি ছিল । সেই জমিও চাষযোগ্য নেই আর । যেখানে আগে তিনফসলি চাষ হত । এখন কিছুই হয় না । তিনি বলেন, "এখানে শিল্প হল না । আমাদের জমি চাষযোগ্য করে দিক । সরকারের তরফে টাকা দেওয়া হচ্ছে । কিন্তু তাতে সমাধান হয় না । আমরা বলেছিলাম, জমি চাষযোগ্য করে দিক না-হলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিক । কৃষি না-হলে শিল্প হোক এখানে ।"

July 21 rally
একুশে জুলাই উপলক্ষে মঞ্চ রতনপুরে (নিজস্ব ছবি)

সিঙ্গুর আন্দোলনের শহিদ তাপসী মালিকের বাবা মনোরঞ্জন মালিক বলেন, "সিঙ্গুরের আন্দোলনে আমার মেয়ে শহিদ হয়েছে । তার বিচার আজও পায়নি । তাই আমি আজও মর্মাহত । একুশের সভায় আমার পরিবার যায় । তাপসীর মা এবারে যাবেন । দিদি মুখ্যমন্ত্রী আছে এবং থাকবে । দিদি যা করেছে মানুষ তাকেই ভোট দেবে । দিদির কাছে এখনও মাসে 2 হাজার টাকা ও 16 কিলো চাল পায় অনিচ্ছুক কৃষকরা । এখানে সকলেই তৃণমূল বিরোধী বলে কিছু নেই ।"

July 21 rally
কৃষি না-হলে শিল্প চাইছেন সিঙ্গুরের কৃষকরা (নিজস্ব ছবি)

সিঙ্গুরের এক সময়ের আন্দোলনের মুখ দুধকুমার ধারা । তাঁর পরিবারের পাঁচ বিঘা জমি ছিল । সেই জমি চাষযোগ্য নেই । তিনি বলেন, "এই শহিদ দিবসের প্রতি আমাদের আর টান নেই । সিঙ্গুরের কৃষকদের সঙ্গে এখানকার প্রশাসক এবং এখানকার নেতা ও বিধায়ক বেচারাম মান্না বিশ্বাসঘাতকতা করছেন । উনি দাবি করছেন 92 শতাংশ জমি চাষ হয়ে গিয়েছে । কিন্ত আমরা বলছি, 30 শতাংশ জমি চাষ হয়েছে । আমরা দীর্ঘদিন ধরে চাষযোগ্য জমি করার জন্য দরবার করেছি মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্যসচিবের কাছে । যারা আন্দোলন করেছিলাম তারা বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে শহিদ হয়েছেন ।"

July 21 rally
সিঙ্গুরের জমি (নিজস্ব ছবি)

এদিন বেচারাম মান্নার বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন দুধকুমার ধারা । তাঁর দাবি, "ভয় হোক ভক্তিতে, কিছু মানুষ শহিদ দিবসে যাবেন । সৎ মানুষকে সরিয়ে জমি মাফিয়াদের ঠাঁই দেওয়া হয়েছে এখানে । সিঙ্গুরের জমিকে এভাবে বন্ধা না করে টাটা বিড়লা যে কাউকে এনে শিল্প করা হোক । ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এর দায় আমাদেরকে নিতে হচ্ছে ।"

এদিকে মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, "2026 সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই 21 জুলাই আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ । অতীতের রেকর্ডকে ভেঙে দেবে এবারের ধর্মতলার সভা । সিঙ্গুরের শহিদ পরিবার রাও যাবে সেখানে । সারা জেলা ও অন্যান্য জেলা থেকে বহু মানুষ যোগ দেবে । সিঙ্গুরে তৃণমূলের তরফে ক্যাম্প করে দেওয়া হবে । সিঙ্গুরের আন্দোলনের কৃষকরা তাদের জমি ফেরৎ পেয়েছে । তারা চাষ করছে । কিছু জমি চাষযোগ্য করা বাকি আছে । সেটাও দ্রুত গতিতে কাজ করার ব্যবস্থা চলছে । যে যাই বলুক সিঙ্গুরের মানুষের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আস্থা আছে । আগামিদিনেও তিনি থাকবেন বাংলায় ।"