কোচবিহারে হস্টেলে খুন ডাক্তারির পড়ুয়া! পুলিশে অভিযোগ দায়ের, রহস্যময়ীর খোঁজে তদন্তকারীরা
বুধবার রাতে দেহ উদ্ধার ৷ পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে ৷ প্রাথমিকভাবে প্রেমঘটিত কারণ বলে অনুমান ৷

Published : February 14, 2025 at 4:22 PM IST
কোচবিহার, 14 ফেব্রুয়ারি: হাসপাতালে চিকিৎসককে খুনের অভিযোগ উঠল ৷ ঘটনাস্থল কোচবিহারের এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ৷ বৃহস্পতিবার ওই মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলে ইন্টার্নের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় ৷ শুক্রবার সেই ঘটনাতেই খুনের অভিযোগ দায়ের করল পরিবার ।
মৃত চিকিৎসকের নাম কিষান কুমার ৷ তিনি কোচবিহারের এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ইন্টার্ন হিসেবে কর্মরত ছিলেন ৷ ওই মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলের 304 নম্বর ঘরে তিনি থাকতেন ৷ তিনি বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা । বুধবার গভীর রাতে হস্টেলের ঘরে তাঁর ঝুলন্ত দেহ পাওয়া যায় ৷
সহপাঠীদের দাবি, বুধবার রাত 12টার পর দেখা যায় দরজা ভেতর থেকে বন্ধ । ডাকাডাকি করলেও কোনও সাড়া না মেলায় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয় ৷ কলেজ কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেন ৷ স্থানীয় থানা থেকে পুলিশ যায় হস্টেলে ৷ তার পর দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে পুলিশ ৷ তখন দেখা যায় ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছে কিষানের দেহ ৷
পুলিশ প্রাথমিক বিষয়টিকে আত্মহত্যার ঘটনা বলেই মনে করেছিলেন ৷ কোচবিহারের পুলিশ সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, প্রেমঘটিত কারণ থাকতে পারে ৷ তবে মৃতের দেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি । তবে মৃতের পরিবারের দাবি, এটা খুনের ঘটনা ৷ খুনের পর কিষানকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে ৷ তাই পুলিশের কাছে এই নিয়ে তারা অভিযোগ দায়ের করেছে ৷
মৃতের দাদা চন্দন কুমার বলেন, ‘‘ভিডিয়ো ফুটেজ থেকেই পরিষ্কার খুন করে ভাইকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে । তাই খুনের অভিযোগ দায়ের করেছি ।’’ অন্যদিকে কোচবিহারের এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এমএসভিপি নির্মলকুমার মণ্ডল জানান, পুলিশ তদন্ত করে দেখছে । কেন এই ঘটনা, এই নিয়ে কিছু জানা নেই ।
তবে পুলিশ সূত্রে খবর, কিষানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর এক রহস্যময়ী মহিলার খোঁজ শুরু করছে পুলিশ । ওই মহিলার সঙ্গে মৃত ইন্টার্নের সম্পর্ক ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা । তবে সেই সম্পর্কের গভীরতা কতটা ছিল, এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর পেছনে এই সম্পর্ক কতটা দায়ী, সবটাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ ।
উল্লেখ্য, দু’বছর আগেও এমজেএন মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রীদের হস্টেল থেকে এক ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়েছিল । তখনও ব্যাপক হইচই পড়েছিল ৷ ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল ৷ নতুন করে এই নিয়ে শোরগোল পড়েছে ৷ কিষানের সহপাঠী বা অন্য পড়ুয়ারা কেউ এই নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ ৷

