ETV Bharat / state

চম্পাহাটির ভোটার তালিকায় মালদা-শিলিগুড়ির বাসিন্দাদের নাম, ভূতুড়ে কাণ্ডে শোরগোল

চম্পাহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের তালিকায় মালদা, মুর্শিদাবাদ থেকে শিলিগুড়ির বাসিন্দাদের নামের দেখা মিলেছে ৷ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভুয়ো ভোটারদের নাম নিয়ে শোরগোল ৷

fake voters
চম্পাহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোটার তালিকায় ভুয়ো নাম (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 23, 2025 at 1:52 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

বারুইপুর, 23 ফেব্রুয়ারি: চম্পাহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোটার তালিকায় ভুয়ো নাম ৷ ভোটার তালিকা স্ক্রুটিনি করতে গিয়ে সামনে আসে আসল তথ্য ৷ মালদা, মুর্শিদাবাদ থেকে শিলিগুড়ির বাসিন্দাদের নাম চম্পাহাটির ভোটার তালিকায় দেখে চক্ষু চড়কগাছ প্রধান থেকে পঞ্চায়েত সদস্যদের ৷ ঘটনায় বিরোধীদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে তৃণমূল ৷ যদিও পালটা শাসকদলকে কাঠগড়ায় তুলেছে সিপিএম ও বিজেপি ৷

মহারাষ্ট্র ও দিল্লির ভোটে অস্বাভাবিক হারে ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে তথ্য-সহ অভিযোগ এনেছে বিরোধীরা । মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অভিযোগ করেছেন, প্রকৃতদের বাদ দিয়ে বহিরাগতদের নাম ভোটার তালিকায় ঢোকানো হচ্ছে । এই আবহেই দক্ষিণ 24 পরগনা জেলার বারুইপুরের চম্পাহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোটার তালিকা স্ক্রুটিনি করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে ভূতুড়ে কাণ্ড । মালদা, মুর্শিদাবাদ, শিলিগুড়ির লোকজনের নাম উঠে এসেছে ভোটার তালিকায় । চাঞ্চল্যকরভাবে একই ফোন নম্বর যুক্ত আছে চার-পাঁচজনের নামে, যা খোঁজ করতে গিয়ে বিস্মিত হয়েছেন পঞ্চায়েত প্রধান থেকে শুরু করে সদস্যরা ।

ভুয়ো ভোটারদের ধরার তোড়জোড় গ্রাম পঞ্চায়েতে (ইটিভি ভারত)

পঞ্চায়েত সূত্রে খবর, গত লোকসভা ভোটে চম্পাহাটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ভোটার সংখ্যা ছিল সাড়ে 18 হাজার থেকে 19 হাজার । চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয় । তাতে দেখা গিয়েছে, ভোটার বেড়ে হয়ে গিয়েছে 22 হাজার 400 । এরপর স্ক্রুটিনি করতে গিয়ে আসল রহস্য ফাঁস হয় । দেখা গিয়েছে, পঞ্চায়েতের 22টি সংসদের মধ্যে কোনও বুথে বেড়ে গিয়েছে 200 ভোটার । আবার কোনও বুথে বেড়েছে 300 ভোটার ।

fake voters
চম্পাহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোটার তালিকায় ভূতুড়ে কাণ্ড (নিজস্ব ছবি)

ভোটার তালিকা ধরে স্ক্রুটিনি করতে গিয়ে আরও দেখা গিয়েছে, পঞ্চায়েতের 41 নম্বর বুথে গত লোকসভা নির্বাচনে ভোটার সংখ্য্যা ছিল 1053 জন । এবার তা অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়ে 1357 জন হয়েছে । যাঁদের এলাকায় কোনও অস্তিত্ব নেই, তাঁরাও রয়েছে ভোটার তালিকায় ৷ এদের কারও বয়স 66 বছর, কারও আবার 60 বছর বয়স ।

ভুয়ো ভোটার নিয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, "দিল্লি নির্বাচনের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে ভুয়ো ভোটার রয়েছে ৷ আমার অনেক দিন আগে থেকে বলছি বাংলায় প্রতি বুথে 30 থেকে 40 জন ভুয়ো ভোটার রয়েছে ৷ ভূতুড়ে ভোটার ৷ যাদের এলাকার মানুষ চেনেন না ৷ দিল্লির ভোটের পর মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বোধ হয়েছে ৷ ভূতুড়ে ভোটারের কারবারে মুখ্যমন্ত্রী চলেন ৷ ভূতুড়ে ভোটারদের দ্বারা, ভূতুড়ে সরকার নির্বাচিত হয়, তার ভূতুড়ে মুখ্যমন্ত্রীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । কোন বুথে কত ভূতুড়ে ভোটার রয়েছে সরকারের এটা দেখা উচিত ।"

বিজেপির যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মনোরঞ্জন জোয়ারদার বলেন, "হঠাৎ করে একটি গ্রাম পঞ্চায়েতে পাঁচ হাজার ভোটার বেড়েছে ৷ বিষয়টি নির্বাচন কমিশন দেখা উচিত ৷ নির্বাচন কমিশনের দ্বারা মনোনীত লোকই ভোটার লিস্টের কাজ করেন ৷ স্বচ্ছ নির্বাচন করতে ভুয়ো ভোটারের তালিকা বাদ দিক সরকার । তৃণমূল কংগ্রেস ভুয়ো ভোটার কারবারী ৷ বিজেপির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ যুক্তিহীন ৷ বিজেপি বরং বারবার ভোটার তালিকা সংশোধনের দাবি জানিয়ে এসেছে ৷ শুধু চম্পাহাটি নয়, মল্লিকপুরে একই ঘটনা ঘটেছে ৷ নির্বাচন কমিশন অবিলম্বে ব্যবস্থা নিক ৷ স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করুক ৷"

চম্পাহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অসিতবরণ মণ্ডলের কথায়, "অস্বাভাবিকভাবে ভোটার তালিকার নাম বেড়েছে ৷ বিষয়টি নজরে আসতেই প্রত্যেক সদস্যকে বলা হয়েছে তাঁদের নিজস্ব ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখতে এবং গ্রামের মানুষজনের সঙ্গে কথা বলে ভুয়ো ভোটারদের নাম বের করার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৷"

এই ঘটনার পিছনে বিরোধীদের চক্রান্তের অভিযোগ করেন তিনি ৷ পাশাপাশি এ নিয়ে আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেন পঞ্চায়েত প্রধান ৷ অসিতবরণ মণ্ডল বলেন, "এত ভুয়ো ভোটার হলে আমরা ভোট পাব না ৷ নির্বাচন কমিশনের গাফিলতি রয়েছে ৷ তারা তদন্ত করে দেখুক ৷ আমরা প্রমাণ দিয়ে দেব ৷ 4 থেকে সাড়ে হাজার ভোটার বেড়েছে ৷"

এই বিষয়ে পঞ্চায়েত সদস্য সুব্রত কুণ্ডু বলেন, "2026 সালে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে হারানোর জন্য বিজেপির লোকেরা ভুয়ো ভোটার লিস্ট তৈরি করেছে ৷ যারা ভোটার নয় ৷ আমার বুথে প্রায় 300 থেকে 350 ভুয়ো ভোটার পেয়েছি । আমরা এই ভুয়ো ভোটার তালিকা বিডিওর কাছে জমা দেব । এভাবে ভুয়ো ভোটার তালিকা তৈরি করে উন্নয়নকে স্তব্ধ করা যাবে না ।"