স্যালাইন বিতর্কে সাসপেন্ড! অনশনে মেদিনীপুর মেডিক্যালের চিকিৎসকরা
মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন কাণ্ডে মেদিনীপুরের 12 জন চিকিৎসককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷

Published : January 19, 2025 at 12:15 PM IST
মেদিনীপুর, 19 জানুয়ারি: বিভিন্ন জায়গায় মেল মারফত অভিযোগ জানিয়েও উত্তর পাওয়া যায়নি ৷ অবশেষে অনশনে বসলেন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকরা । শনিবার রাত দশটা থেকে অনশন শুরু করলেন অ্য়ানাস্থেসিয়া ও স্ত্রীরোগ বিভাগ মোট 38 জন জুনিয়র ডাক্তার ৷ চিকিৎসকদের বিক্ষোভে ফের নতুন করে চাঞ্চল্য মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ।
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে প্রসূতিদের অসুস্থ ও পরে একজনের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি ৷ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শনিবার অর্চনা মজুমদারের নেতৃত্বে মেদিনীপুরে পৌঁছয় জাতীয় মহিলা কমিশনের দল ৷ তিনি চলে যাওয়ার পর হাসপাতালের অধ্যক্ষ-সহ স্বাস্থ্য়কর্তাদের ঘেরাও করেন জুনিয়র চিকিৎসকরা ৷
এরপর নিজেদের মধ্যে আলোচনা সারেন জুনিয়র চিকিৎসকরা ৷ সাসপেনশন অর্ডার প্রত্যাহারের আরজি জানিয়ে বিভিন্ন দফতরে মেল করেন ৷ কিন্তু, সেই আবেদনের কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি ৷ অবশেষে অনশনে বসার সিদ্ধান্ত নেন জুনিয়র চিকিৎসকরা ৷ তাঁদের দাবি, পিজিটি চিকিৎসকদের সাসপেনশন রদ না-করা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন ৷
উল্লেখ্য, মামণি রুইদাস নামে এক প্রসূতির মৃত্যুতে এই অশান্তির সূত্রপাত ৷ অভিযোগ, চিকিৎসায় গাফিলতি ও মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইনের বিষক্রিয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে । সেই ঘটনায় 6 জন পিজিটি, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার-সহ মোট 12 জন ডাক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ে ৷ সঙ্গে সাসপেনশন অর্ডারও । তবে শনিবার নতুুন করে শ্বেতা সিং নামে আরও এক পিজিটি-র নাম যোগ করা হয় এফআইআর-এ । ইতিমধ্যেই, ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি ।
সাসপেন্ড হওয়া চিকিৎসকের তালিকায় রয়েছেন বিভাগীয় প্রধান মহম্মদ আলাউদ্দিন ও হাসপাতাল সুপার জয়ন্ত রাউত । সেই সঙ্গে, মাতৃমা বিভাগে ইউনিট 1 সি-র বেড ইনচার্জ দিলীপ পাল, সিনিয়র চিকিৎসক হিমাদ্রি নায়েক, আরএমও সৌমেন দাস, অ্যানাস্থেশিস্ট পল্লবী বন্দ্যোপাধ্যায়, পিজিটি প্রথম বর্ষের চিকিৎসক মৌমিতা মণ্ডল, পূজা সাহা, ইন্টার্ন চিকিৎসক সুশান্ত মণ্ডল, পিজিটি তৃতীয় বর্ষের চিকিৎসক জাগৃতি ঘোষ, ভাগ্যশ্রী কুণ্ডু, পিজিটি প্রথম বর্ষের অ্যানাস্থেশিস্ট মণীশ কুমার ও শ্বেতা সিং (PGT) ।

