নিউ গড়িয়ার আবাসনে বৃদ্ধা খুনে গ্রেফতার আয়া-সহ 2
শুক্রবার পঞ্চসার থানা এলাকার নিউ গড়িয়ার একটি আবাসন থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বৃদ্ধার দেহ উদ্ধার করা হয় ৷ ঘটনায় দু'জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ ৷

Published : August 23, 2025 at 3:31 PM IST
কলকাতা, 23 অগস্ট: নিউ গড়িয়ার আবাসনে বৃদ্ধা খুনের ঘটনায় 24 ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার আততায়ী ৷ মৃতার আয়া ও তার সহকারীকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ৷
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার তদন্তে নেমে দক্ষিণ 28 পরগনার চন্দ্রপুর এলাকা থেকে দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে । ধৃত আয়ার নাম আশালতা সর্দার । বয়স 36 বছর । তার সঙ্গী 41 বছরের মহম্মদ জালাল মীর । দু’জনেই দক্ষিণ 24 পরগনার ঢোলাহাটের বাসিন্দা । পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বৃদ্ধ দম্পতির সম্পত্তি হাতানোর চক্রান্ত করে তারা ৷ তবে, হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পুরো বিষয়টি জানা যাবে ৷
এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার বলেন, "তদন্তে নেমে আমরা দু'জনকে গ্রেফতার করেছি । এই ঘটনায় আর কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে । ধৃতদের আজ আদালতে পেশ করা হবে ।"
শুক্রবার সকালে পঞ্চসার থানা এলাকায় নিউ গড়িয়ার একটি আবাসনে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হয় বিজয়া দাস (79) নামে এক বৃদ্ধার রক্তাক্ত দেহ । দেহে মেলে একাধিক আঘাতের চিহ্ন । বৃদ্ধার দেহের পাশেই হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়েছিলেন তাঁর স্বামী প্রশান্ত দাস ৷ ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছিয়ে অশীতিপর সেই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায় ৷ খাস কলকাতার এই ঘটনায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ৷
জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাত 1টা 40 মিনিট নাগাদ ঢোলাহাটের বাড়ি থেকে প্রথমে জালালকে গ্রেফতার করে পুলিশ । পরে শনিবার সকাল 8টা 5 মিনিটে নরেন্দ্রপুরের ভাড়া বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত আয়া আশালতাকে । এদিন ধৃতদের আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে চাইবে কলকাতা পুলিশ । এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷ ঘটনায় কেউ জড়িত না-থাকলে ধৃতদের নিয়ে গোটা ঘটনার পুনর্নিমাণ করারও পরিকল্পনা রয়েছে তদন্তকারীদের ৷
পঞ্চসার থানার অন্তর্গত এই এলাকায় 36 বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করতেন আক্রান্ত বৃদ্ধ দম্পতি ৷ পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁদের এক মেয়ে এবং এক ছেলে । কর্মসূত্রে দু'জনেই দেশের বাইরে থাকেন ৷ তাঁদের ইতিমধ্যেই খবর দেওয়া হয়েছে । ধৃত আয়া যে সংস্থার কর্মী ছিলেন, তাদের সঙ্গেও কথা বলছে পুলিশ ।
সূত্রের খবর, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালে পরিচারিকা বাড়িতে গিয়ে কলিং বেল বাজান ৷ কিন্তু, একাধিকবার ডাকাডাকি করেও ভিতর থেকে কারও সাড়া-শব্দ মেলেনি ৷ তাঁর সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়দের বিষয়টি জানান পরিচারিকা ৷ এরপর পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা ৷ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে বাড়িতে ঢোকে এবং ঘর থেকে বৃদ্ধার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে ৷ খবর পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে পৌঁছন হোমিসাইড বিভাগের গোয়েন্দারাও ৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়িতে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার তার কাটা ছিল ৷

