বিরাটি থেকে ধৃত আজাদ মল্লিক কি পাকিস্তানি গুপ্তচর ! ইডির হাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য
বুধবার আজাদ মল্লিক নামে ওই পাকিস্তানি নাগরিককে আদালতে পেশ করে ইডি ৷ আদালত ধৃতকে আরও পাঁচদিনের জন্য ইডি হেফাজতে পাঠিয়েছে ৷

Published : May 8, 2025 at 9:23 PM IST
কলকাতা, 8 মে: বিরাটি ধৃত আজাদ মল্লিক কি পাকিস্তানি গুপ্তচর ? ইডির জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য । সেখান থেকেই তৈরি হয়েছে এই সন্দেহ ৷
তাই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আরও পাঁচদিনের হেফাজতে চেয়ে আদালতে আবেদন করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) । নগর দায়রা আদালতের বিচারক সুকুমার রায়ের এজলাসে দীর্ঘ শুনানিতে তাঁকে হেফাজতে রেখে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একাধিক ব্যাখ্যাও দেওয়া হয় ইডির তরফে ৷
সওয়াল-জবাব শেষে আদালত ইডির আবেদন মঞ্জুর করে ৷ পাঁচদিনের জন্য অর্থাৎ আগামী 13 মে পর্যন্ত আজাদ মল্লিককে ইডির হেফাজতে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন নগর দায়রা আদালতের বিচারক সুকুমার রায় ৷ ইডি এদিন আদালতে দাবি করেছে, প্রায় 20 হাজার পাতার ডকুমেন্টস পাওয়া গিয়েছে এই পাকিস্তানি নাগরিকের থেকে ৷ যা অতন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ইডি ।
আদালতে ইডি আরও জানিয়েছে, লক্ষাধিক অডিয়ো-ভিডিয়ো পাওয়া গিয়েছে । বেশ কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট রয়েছে ৷ যেখানে দেখা গিয়েছে পাকিস্তানি নাগরিকদের সঙ্গে কথা হতো তাঁর । বেশ কিছু চ্যাট পেয়েছে ইডি ৷ টাকা লেনদেনের বিষয়ও সামনে এসেছে । এরা কারা ছিল, এদের পরিচয় জানতে হবে ।
আদালতে ইডি জানিয়েছে, আজাদের মোবাইলে 20 হাজারের বেশি নম্বর পাওয়া গিয়েছে । সেখান থেকে প্রচুর চ্যাট মিলেছে । সেই সমস্ত যোগাযোগের আইএসডি নম্বর খতিয়ে দেখতেই বোঝা গিয়েছে সে পাকিস্তানের নাগরিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত । সেই নম্বরগুলি কি আজাদের পাক হ্যান্ডলারের, জানতে চান কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা । বেশকিছু ‘সন্দেহজনক’ গ্রুপেও যুক্ত ছিলেন তিনি । উদ্ধার হয়েছে প্রচুর ভয়েস রেকর্ড । কার সঙ্গে কী কথা হয়েছে, তা জানতে সেই ভয়েসগুলি ডিকোড করছে ইডি । এই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট দেখিয়ে আজাদকে জেরা করতে চায় ইডি ।
এ রাজ্যে জাল পাসপোর্টের ব্যবসা ফেঁদেছিল আজাদ । তদন্তের সূত্রে জানা গিয়েছে, জালিয়াতির টাকা ঘুরপথে হাওয়ালা মারফত বাংলাদেশে যেত । সেই টাকা ‘টেরর ফান্ডিং’ বা সন্ত্রাস ছড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে । আজাদকে জেরা করতে গিয়ে ইডি তদন্তকারীরা দেখছেন, ঠিকমতো বাংলা বলতে পারেন না তিনি । বাংলা বুঝতে পারেন । কিন্তু বাংলা বলায় হিন্দির টান মারাত্মক । তারপরেও এতদিন কীভাবে তিনি বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে বিরাটিতে থেকে গেলেন, কীভাবে ব্যবসা চালালেন, তা নিয়ে ধন্দে ইডি ।
পাসপোর্ট জালিয়াতি কাণ্ডে আজাদ মল্লিককে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট । প্রথমে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছিলেন যে আজাদ বাংলাদেশি । কিন্তু আজাদ মল্লিকের উত্তর 24 পরগনার বিরাটির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় পাকিস্তানের ড্রাইভিং লাইসেন্স । আজাদ হোসেন নামে ওই পাক ড্রাইভিং লাইসেন্সটি যে আসলে আজাদ মল্লিকেরই, সেই ব্যাপারে ইডির গোয়েন্দারা নিশ্চিত ।
এরপর তাঁকে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জেরা করেন । গোয়েন্দারা অনেকটাই নিশ্চিত যে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে আজাদের । এখনও পর্যন্ত অন্তত দু’শো জনের ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে তারই ভিত্তিতে জাল পাসপোর্ট বানান আজাদ । এই সংখ্যাটি 500-তে গিয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও ধারণা ইডি আধিকারিকদের ।

