কমিশনের নির্দেশ অমান্য ! তলবে সাড়া দিয়ে দিল্লি যাচ্ছেন মুখ্যসচিব
কমিশনের তলবে সাড়া দিয়ে দিল্লি যাচ্ছেন মুখ্যসচিব ৷ ঠিক কোন পরিস্থিতিতে নির্দেশ পালন করা সম্ভব হয়নি তা কমিশনের সামনে তুলে ধরবেন রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তা ৷

Published : August 12, 2025 at 3:26 PM IST
কলকাতা, 12 অগস্ট: ভোটার তালিকা তৈরির কাজে গাফিলতিতে অভিযুক্ত চার আধিকারিকদের সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন ৷ সেই নির্দেশ না মেনে দুই আধিকারিককে নির্বাচনের কাজ থেকে সরিয়ে দিয়েছে রাজ্য ৷ এমতাবস্থায় রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে তলব করল নির্বাচন কমিশন ৷ বুধবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে দিল্লির নির্বাচন সদনে গিয়ে তাঁকে হাজিরা দিতে হবে বলে জানা গিয়েছে ৷ রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে আগামিকাল দিল্লি যাচ্ছেন মুখ্যসচিব।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়েছে রাজ্য প্রশাসন ৷ কমিশনের তরফে চার WBCS আধিকারিককে সাসপেন্ড করতে বলা হয়েছিল। সোমবারের মধ্য়ে সেই নির্দেশ কার্যকর করতে হত রাজ্যকে ৷ প্রকাশ্যেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর সোমবার মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে জানান, দু'জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার হয়েছে। সুতরাং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে চারজনকে সাসপেন্ড বা পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই দু'জনকেও সাসপেন্ড করা হয়নি ৷ ভোটের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৷ এরপরই কমিশনের তরফে মুখ্য়সচিবকে তলব করার বিষয়টি প্রকাশ্য আসে ৷
ঘটনার সূত্রপাত, অগস্ট মাসের 5 তারিখ ৷ নির্বাচন কমিশনের তরফে বারুইপুর এবং ময়নায় ভোটার তালিকা তৈরির সঙ্গে জড়িত চার আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দেয় ৷ কিন্তু তা না করে রাজ্যের তরফে এই দু'জায়গার এক নির্বাচনী আধিকারিক ও এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন-সম্পর্কিত সমস্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ৷
নিয়ম অনুযায়ী, লোকসভা অথবা বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণা হলে দেশ অথবা রাজ্যে আদর্শ আচারণ বিধি লাগু হয় ৷ তখন পুলিশ-প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় নির্বাচন কমিশনের হাতে ৷ নির্বাচনের কাজ সুষ্ঠুভাবে করতে প্রশাসনিক আধিকারিক বদলি করে কমিশন ৷ কিন্তু এখন বাংলায় ভোট নেই ৷ তার আগে কমিশন যেভাবে আধিকারিকদের সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছে তা নিয়ে প্রথম থেকেই প্রশ্ন তুলে আসছে বাংলার শাসক শিবির ৷
আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্য়বস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এসআইআর নিয়েও বিরোধীদের সঙ্গে কমিশনের সরাসরি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ৷ এর সঙ্গেই আছে ভোট চুরির প্রসঙ্গ ৷ কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দাবি, ভোটার তালিকায় কারচুপি করে বিজেপিকে নির্বাচনে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে কমিশন ৷ দিন কয়েক আগে এই ধরনের নানা দাবি নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি ৷ গত বৃহস্পতিবারের সাংবাদিক সম্মেলনের পর সোমবার দিল্লির রাজপথে নামে বিরোধীরা ৷ নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত পদযাত্রা করেন বিরোধী সাংসদরা ৷ তাঁদের আটকায় দিল্লি পুলিশ ৷ পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগ থেকে শুরু করে মহুয়া মৈত্ররা ৷ পরে সাংসদদের আটক করে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয় ৷ সামগ্রিকভাবে এমনই উত্তেজনার আবহে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংঘাত তীব্র আকার নিল ৷

