ETV Bharat / state

এক কোপেই কাটা হয়েছে মাথা ! মিলল দত্তপুকুরে মুণ্ডুহীন যুবকের পরিচয়

ট‍্যাটুর সূত্র ধরে উদ্ধার হওয়া যুবকের পরিচয় মিলেছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে পুলিশ জানতে পারে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে এক কোপে যুবকের মুণ্ডুচ্ছেদ করা হয়েছে ৷

DUTTAPUKUR HEADLESS BODY
চাষের জমির আল থেকে এক যুবকের মুণ্ডুহীন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ ৷ প্রতীকী ছবি (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 6, 2025 at 9:46 AM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

দত্তপুকুর, 6 ফেব্রুয়ারি: দেহ উদ্ধারের 48 ঘণ্টার মধ্যেই দত্তপুকুর-কাণ্ডের কিনারা করল পুলিশ। মিলল মুণ্ডুহীন যুবকের পরিচয়ও। ট‍্যাটু-র সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পেরেছে উদ্ধার হওয়া ওই যুবকের পরিচয়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবকের নাম হজরত লস্কর। বছর উনত্রিশের ওই যুবকের বাড়ি উত্তর 24 পরগনার গাইঘাটার আঙুলকাটা এলাকায়। তাঁকে খুনের অভিযোগে বুধবার রাতে বারাসত স্টেশন চত্বর থেকে ওয়াইদুর মণ্ডল নামে মৃতের এক আত্মীয়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তার স্ত্রী পূজাকে গ্রেফতার করা হয় ৷

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জেরায় খুনের কথা কবুল করেছে ওয়াইদুর মণ্ডল। পুরনো কোনও শত্রুতার জেরেই এই খুন বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করছেন তদন্তকারীরা। তবে, এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কিনা, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃত দু'জনকে নিজেদের হেফাজতে নিতে আজ, বৃহস্পতিবার তাদের বারাসত আদালতে পেশ করতে চলেছে পুলিশ।

DUTTAPUKUR HEADLESS BODY
ট‍্যাটু-র সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পেরেছে উদ্ধার হওয়া ওই যুবকের পরিচয় (ইটিভি ভারত)

দত্তপুকুরে যুবকের মুণ্ডুহীন দেহ উদ্ধারের পর থেকেই হন্যে হয়ে মৃতের পরিচয় জানার চেষ্টা করছিল পুলিশ। প্রথমে স্থানীয় বাজিতপুর খালে কাটা মুণ্ডুর খোঁজে ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। দু'দিন ধরে সেখানে দফায় দফায় তল্লাশি চালিয়েও খোঁজ মেলেনি যুবকের কাটা মুণ্ডুর। তারই মধ্যে মৃতদেহের বাঁ-হাতের ট‍্যাটুর সূত্র ধরে যুবকের পরিচয় জানতে মরিয়া হয়ে ওঠে বারাসত জেলা পুলিশ। ট‍্যাটুর ছবি দিয়ে বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানো হয় পুলিশের তরফে।

সেই ছবি দেখে বুধবার দুপুরে বারাসত হাসপাতালের মর্গে ছুটে আসেন গাইঘাটার এক মহিলা। গত 2 ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁর স্বামী বেপাত্তা! কোনও খোঁজ মিলছিল না। মহিলার স্বামীর হাতেও ছিল একই ধরনের ট‍্যাটু! যুবকের বাঁ-হাতের ট‍্যাটু দেখে শেষে দেহটি শনাক্ত করেন ওই মহিলা। তিনি দাবি করেন, ওই দেহটি তাঁর স্বামীর। সেই সঙ্গে ওই মহিলা জানান, তাঁর স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁদের দূর সম্পর্কের আত্মীয় ওয়াইদুর মণ্ডলেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

এরপরই পুলিশ তাঁর মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করা শুরু করে। পুলিশ জানতে পারে, দমদম থেকে ট্রেনে করে সে বারাসতের দিকে আসছে।এরপরই ছদ্মবেশে পুলিশের একটি টিম মোতায়েন করা হয় বারাসত স্টেশনে। ট্রেন থেকে নামতেই পুলিশ তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর, দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ওয়াইদুরকে। ওই জিজ্ঞাসাবাদ ভেঙে পড়ে খুনের কথা স্বীকার করে সে। রাতেই তাকে গ্রেফতার করে তুলে দেওয়া হয় দত্তপুকুর থানার পুলিশের হাতে। পুরনো শত্রুতা নাকি এর নেপথ্যে বড় কোনও চক্রান্ত রয়েছে, তা ধৃতকে জেরা করে জানার চেষ্টা করছে পুলিশ ৷

এনিয়ে বারাসত জেলার পুলিশ সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খাড়িয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "ট‍্যাটু এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পরই এই খুনের রহস্য ভেদ করা গিয়েছে । ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ওই যুবকের কাটা মুণ্ডুর খোঁজ করা হবে। এই খুনের পিছনে আরও কেউ যুক্ত আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।"

প্রসঙ্গত, সোমবার সাতসকালে দত্তপুকুরের ছোট জাগুলিয়ার মালিয়াকপুরে চাষের জমির আল থেকে এক যুবকের মুণ্ডুহীন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।পরিচয় লুকাতে দেহটি হাত-পা বেঁধে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাও হয়। শুধু তাই নয়, যুবকের যৌনাঙ্গও ছিল ক্ষতবিক্ষত। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে পুলিশ জানতে পারে, ধারালো কোনও অস্ত্র দিয়ে এক কোপে যুবকের মুণ্ডুচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে, মৃতের শরীরে কোনও অ্যালকোহলের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে মদের গ্লাস ও চিপসের প‍্যাকেট মেলায় পুলিশ মনে করছে, খুনের আগে মদ‍্যপান করেছিলেন ধৃত যুবক। মুণ্ডু না-মেলায় কিছুতেই মৃত যুবকের পরিচয় জানা যাচ্ছিল না। শেষে নিহত যুবকের বাঁ হাতের ট‍্যাটু-র সূত্র ধরেই দত্তপুকুর-কাণ্ডে বড়সড় সাফল্য পেল বারাসত জেলা পুলিশ।