জগন্নাথ মন্দিরের পর দুর্গা অঙ্গন, একুশের মঞ্চে ঘোষণা মমতার
সোমবার একুশের সভামঞ্চ থেকে এবার দুর্গা অঙ্গন তৈরির ঘোষণা করলেন মুুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷

Published : July 21, 2025 at 7:59 PM IST
কলকাতা 21 জুলাই: বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন । নির্বাচনের দোড়গোড়ায় 2018 সালের প্রতিশ্রুতি মেনে দিঘায় জগন্নাথ মন্দির তৈরি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ এই মুহূর্তে তা নিয়ে জোর আলোচনা রাজ্য রাজনৈতিক মহলে ৷ এই আবহে সোমবার একুশের শহিদ স্মরণের সভামঞ্চ থেকে রাজ্যে বড় দুর্গা অঙ্গন তৈরির ঘোষণা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো ৷
ধর্মতলার একুশের মঞ্চ থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করেন মমতা ৷ নাম না-করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করে বলেন, "হঠাৎ মা কালী, মা দুর্গার নাম মনে পড়েছে ৷ নির্বাচন এসেছে বলে ! বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা । মাঝে মাঝেই বলা হয় বাংলায় নাকি সরস্বতী পুজো করতে দেওয়া হয় না । দুর্গা পুজো, কালীপুজো করতে দেওয়া হয় না ।" মন্দির ভাঙার প্রসঙ্গ তুলে বিজেপিকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "এখানে কোনও মন্দির ভাঙলে হইচই করত । অথচ বিজেপি শাসিত রাজ্য অসমে একটি কালী মন্দির ভাঙা হয়েছে ৷ এখন তার কথা তো কেউ বলছেন না ৷"
সম্প্রতি দুর্গাপুরের সভায় 'জয় শ্রী রামের' পরিবর্তে 'জয় মা দুর্গা' বলতে শোনা যায় প্রধানমন্ত্রীকে ৷ এদিন সেই প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, "ইলেকশনের সময় হঠাৎ মা দুর্গার কথা মনে পড়েছে । জগন্নাথ ধামের মতো একটি দুর্গা অঙ্গন আমি তৈরি করব ।" এদিন কেবল মমতা নন, প্রধানমন্ত্রী 'মা দুর্গা'র স্লোগানের কটাক্ষ করতে শোনা যায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ৷ অভিষেকের পর একুশের সভামঞ্চে বক্তব্য রাখেন মমতা ৷ এদিন রাজ্যে বড় দুর্গা অঙ্গন তৈরির ঘোষণা করেন তিনি ৷
প্রসঙ্গত, দিঘায় জগন্নাথ মন্দির নির্মাণের পর রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে যায় ৷ মন্দির তৈরিকে কেন্দ্র করে উঠে আসে একাধিক তত্ত্ব ৷ দিঘার সমুদ্র সৈকতে পুরীর মন্দিরের আদলে জগন্নাথ মন্দির রাজ্যবাসীর কাছে খুব জনপ্রিয় হলেও, প্রধান বিরোধী দল বিজেপি জগন্নাথ মন্দিরের সঙ্গে 'ধাম' শব্দযোগে আপত্তি তুলেছে বারবার । রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, "সরকারি অর্থ খরচ করে মন্দির করা যায় না ৷" এই আবহে 2026 সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রীর দুর্গা অঙ্গন তৈরির ঘোষণা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ ৷

