পর্যটকদের পুজোর উপহার, সিকিমে 'ব্যাটেলফিল্ড ট্যুরিজমে' জুড়ছে ডোকলাম-চো লা
প্রতিরক্ষামন্ত্রক ও সিকিম প্রশাসনের যৌথ আলোচনার পর পর্যটকদের জন্য খোলা হচ্ছে এই দুই উপত্যকা ৷ থাকছে বিধিনিষেধও ৷

Published : September 9, 2025 at 2:30 PM IST
শিলিগুড়ি, 9 সেপ্টেম্বর: গত দু'বছরে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত সিকিম। তাই এবার পর্যটনকে হাতিয়ার করে পুজোর মরশুমে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া প্রতিবেশী রাজ্য ৷ ইতিমধ্যে উত্তর সিকিম খুলে দেওয়া হয়েছে পর্যটকদের জন্য ৷ যদিও লাচেনে পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকছে ৷ তবে, এবার আরও দুই পর্যটন কেন্দ্র পুজোর আগে খুলতে চলেছে সিকিম প্রশাসন ৷
চলতি বছরের 15 জানুয়ারি রণভূমি পর্যটন বা ব্যাটেলফিল্ড ট্যুরিজমের কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ৷ আর সেই মতো এবার 27 সেপ্টেম্বর থেকে ভারতীয় পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে ইন্দো-চিন সীমান্ত সংলগ্ন ডোকলাম ও চো লা পর্যটন কেন্দ্র ৷ সোমবার ওই দু’টি যুদ্ধক্ষেত্র পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন সিকিমের পর্যটন দফতরের সচিব সি শুভাকর রাও ৷

তিনি বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে ইতিমধ্যে চো লা ও ডোকলামে পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে ৷ আপাতত প্রত্যেকদিন দু’টি জায়গায় 25টি গাড়ি ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে ৷" সিকিমের পর্যটন সচিব সি শুভাকর রাও বলেন, "সিকিমে তিনটে যুদ্ধক্ষেত্র রয়েছে ৷ নাথু লা, চো লা ও ডোকলাম ৷ আমরা ভারতীয় সেনা, বিআরও এবং পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে কেন্দ্রের অনুমোদনে ওই দুই পর্যটন কেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি ৷ এতে পর্যটনে নতুন দিশা আসবে ৷"

সিকিম সরকার সূত্রে খবর, ভারতীয় সেনার ত্রিশক্তি কর্পস, বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন, সিকিম পুলিশ, শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে রণভূমি পর্যটন নিয়ে বৈঠক করেন সিকিমের মুখ্যসচিব রবীন্দ্র তেলাং, পর্যটন সচিব সি শুভাকর রাও-সহ অন্যান্যরা ৷ ওই বৈঠকেই চো লা ও ডোকলামে পর্যটন চালুর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ৷ সেই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রকে ৷
2017 সালে ইন্দো-চিন সীমান্ত সংলগ্ন ডোকলামের অধিকার নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে ভারত ও চিনের সেনা বিবাদে জড়িয়েছিল । গ্যাংটক থেকে প্রায় 68 কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 13,780 ফুট উচ্চতায় থাকা ডোকলাম ভুটান, চিন ও ভারতের তিন সীমান্তের চুম্বি উপত্যকা ৷ 2017 সালের জুন মাসে চিন ভুটানের দাবি করা এলাকায় রাস্তা নির্মাণ শুরু করলে, ভারতীয় সেনা হস্তক্ষেপ করে ৷ প্রায় দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা অচলাবস্থার পর চিন নির্মাণকাজ থামিয়ে দেয় ৷

একইভাবে পর্যটন শুরু হচ্ছে চো লা'তে ৷ ফলে নাথু লা'র পর আরও দুটি 'রণভূমি' হয়ে উঠছে পর্যটনস্থল ৷ 1967 সালে সীমান্তের অধিকার নিয়ে ভারত-চিন সংঘর্ষ হয়েছিল নাথু লা এবং চো লা'য়। কয়েক বছর ধরেই নাথু লা একটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছে ৷ নাথু লা আগে থেকেই জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র । যা গ্যাংটক থেকে প্রায় 58 কিলোমিটার দূরে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 14,140 ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ৷ অন্যদিকে, চো লা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 17,780 ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ৷
জানা গিয়েছে, ডোকলাম ও চো লা’য় সেনার সহযোগিতায় ক্যাফেটেরিয়া, শৌচাগার, পার্কিং ও অন্যান্য সুবিধা তৈরি হচ্ছে পর্যটকদের জন্য ৷ উচ্চতাজনিত কারণে যাতে শারীরিক সমস্যায় না-পড়তে হয় পর্যটকদের, তাই চিকিৎসা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সেনার সাহায্য নেওয়া হবে ৷ তার জন্য সেখানে বেস ক্যাম্পের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে ৷
এই বিষয়ে ইস্টার্ন হিমালয়া ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সন্দীপন ঘোষ বলেন, "এটা সত্যিই ভালো খবর যে পুজোর আগে নতুন দু’টি পর্যটন কেন্দ্র নিশ্চিতভাবে পর্যটকদের আকর্ষণ করবে ৷ এইধরনের পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে নিয়ে পর্যটকদের বিশেষ কৌতূহল থাকে ৷" হিমালয়ান হসপিটালিটি ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, "এই দুই পর্যটন কেন্দ্র নতুন মাত্রা আনবে উত্তরের পর্যটনে ৷ আমরাও আরও বেশি করে এই নিয়ে প্রচার চালাব ৷"

