ETV Bharat / state

দেউচা-পাচামি খনি প্রকল্পে দুর্নীতি ? বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি সেলিমের

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সিউড়িতে গিয়ে প্রস্তাবিত কয়লা খনি প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। চাকরির টেন্ডার নিয়ে স্বজনপোষণের অভিযোগও করেছিলেন তিনি। এবার সরব হল সিপিএম ৷

DEUCHA PACHAMI MINING PROJECT
দেউচা-পাচামি খনি প্রকল্পে কেলঙ্কারি ? (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : July 4, 2025 at 2:19 PM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 4 জুলাই: দেউচা-পাচামি খনি প্রকল্পে আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ তুলল সিপিএম ৷ রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সংবাদিক বৈঠক থেকে এই প্রকল্প নিয়ে বেশ কয়েকটি তথ্য তুলে ধরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। আগামী 14 জুলাই বীরভূমে যাবেন বলেও জানিয়েছেন সেলিম।

এর আগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সিউড়িতে গিয়ে সংবাদিক বৈঠক করে এই প্রস্তাবিত কয়লা খনি প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। চাকরির টেন্ডার নিয়ে স্বজনপোষণের অভিযোগও করেছিলেন তিনি। এবার সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম 12টি স্লাইডের পিপিটি প্রেজেন্টেশনে গোটা প্রকল্পের কোথায়, কী 'জালিয়াতি' করা হয়েছে তার বিস্তারিত তথ্য-সহ অভিযোগ করেন।

দেউচা-পাচামি খনি প্রকল্প নিয়ে সেলিমের অভিযোগ

তিনি বলেন, "2023 সালের নভেম্বর মাসে রাজ্য মন্ত্রিসভা বিদ্যুৎ দফতরের প্রস্তাব অনুযায়ী WBPDCL-কে বেসরকারি সংস্থা বাছাই করে দেউচা-পাচামিতে 431.47 একর জমিতে ব্যাসল্ট খনন করে বাজারে বিক্রি করার অনুমতি দেয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের সরকারি সংস্থার মাধ্যমে ব্যাসল্ট খনন করা এবং বিক্রি করার অনুমতি দেওয়ার কোনও যুক্তিপূর্ণ ভিত্তি নেই। 2024 সালের মার্চ মাসে এই প্রক্রিয়ায় গরমিল পাওয়া যায়।"

তাঁর কথায়, "সে বছরই অক্টোবর মাসে দেউচা-পাচামিতে 12 একর জমিতে ব্যাসল্ট খনি প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রক যে পরিবেশগত ছাড়পত্র দেয়, তাতে ব্যাসল্ট খনির আয়তন ইচ্ছাকৃতভাবে কম করে দেখানো হয়। পাশাপাশি 2025 সালের 5 ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর বাণিজ্য সম্মেলনের মঞ্চ থেকে কয়লা খনি প্রকল্প শুরু করার ঘোষণাটি ছিল সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ৷ কারণ আজ পর্যন্ত কয়লা খননের জন্য খনির লিজ বা মাইনিং প্ল্যান কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রকে জমা করা হয়নি। এবছর ফেব্রুয়ারি মাস থেকে দেউচা-পাচামিতে যা শুরু হয়েছে তা আসলে একটি স্বতন্ত্র ব্যাসল্ট খনি প্রকল্প ৷ "

পাশাপাশি যে সংস্থা খননের টেন্ডার নিয়েছিল পরে সেটিকে অধিগ্রহণ করে অন্য একটি সংস্থা ৷ এভাবে খনি প্রকল্প শুরু হওয়ার পর মালিকানা বদল স্পষ্টতই নিয়মবহির্ভূত বলে মনে করেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক ৷ এখান থেকেই দুর্নীতির ইঙ্গিত পাওয়া যায় দাবি করে তিনি বলেন, "পরিবেশ সংক্রান্ত আইনকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। দেউচা-পাঁচামিতে ব্যাসল্ট খনন প্রকল্প অবিলম্বে স্থগিত রেখে পুরো বিষয়টির বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত। কারণ, কেন্দ্রীয় সরকারের আইন না মেনে কাজ হচ্ছে। পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয় মানুষদের ঠকানো হচ্ছে। যে আধিকারিক বা যে দফতর এই কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।"