ছোটবেলায় ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন মা ! এখন আর তাঁর দায়িত্ব নিতে নারাজ নাবিক ছেলে, মামলা হাইকোর্টে
কলকাতা হাইকোর্টে মা বনাম ছেলের মামলার শুনানি ৷ কী নির্দেশ দিলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা ৷

Published : July 4, 2025 at 12:44 PM IST
কলকাতা, 4 জুলাই: ছোটবেলাতেই নাকি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন মা । সেই মা এখন বার্ধক্যে এসে কার্যত অসহায় ৷ তাঁকে দেখার কেউ নেই । ছেলের সাহায্য প্রার্থনা করলেও, তিনি মাকে দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে নারাজ ৷ অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন বৃদ্ধা । এদিকে, ছেলের বক্তব্য, ছোটবেলায় যখন তাঁর স্নেহ, ভালোবাসা পাওয়া প্রয়োজন ছিল, তখন তাঁর পাশে থাকেননি জন্মদাত্রী ৷ তিনি সেই সময় সন্তানকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন ৷ কাজেই এখন আর সেই মায়ের দায়িত্ব নিতে চান না ছেলে ৷
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানান, মা ও ছেলের এই সমস্যার মধ্যে তিনি ঢুকতে চান না । আদালত এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না । তবে মা এখন বিপদে পড়েছেন । ছেলের আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে । তিনি পেশায় নাবিক । তাই ছেলে আদালতকে জানান, তিনি তাঁর মায়ের ভরণপোষণ এবং চিকিৎসার খরচ বাবদ কত টাকা দিয়ে সাহায্য করতে পারবেন । আগামী নয় জুলাই মামলাটি ফের শুনানির জন্য রাখা হয়েছে ৷ ওইদিন ওই ব্যক্তিকে জানাতে বলা হয়েছে যে, তিনি কত টাকা তাঁর মাকে দিতে পারবেন ।
আদালত সূত্রে জানা যাচ্ছে, লেকটাউনের বাসিন্দা বৃদ্ধা গত বছর বিভিন্ন রকম শারীরিক অসুস্থতার মধ্যে পড়েন । লিভারের সমস্যা-সহ একাধিক সমস্যা দেখা দেয় তাঁর । লেকটাউনে তিনি একাই থাকেন । বছর 15 আগে তাঁর স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায় । বৃদ্ধার দাবি, তার পর তাঁর যা আর্থিক সামর্থ্য ছিল, তার সবটাই তিনি ছেলের পড়াশোনার পেছনে খরচ করেছিলেন । ছেলের জন্য টাকা পাঠাতেন বলে দাবি করেছেন ওই বৃদ্ধা ৷ ভবিষ্যতে ছেলে তাঁর দায়িত্ব নেবেন, দেখাশোনা করবেন, এমনই আশা করেছিলেন তিনি ৷
উলটোদিকে ওই বৃদ্ধার ছেলের বক্তব্য, মা 15 বছর আগে তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন । মায়ের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগই ছিল না । মায়ের স্নেহ, ভালোবাসা ছাড়াই তিনি মামার বাড়িতে বড় হয়েছেন । যে মা প্রয়োজনের সময় তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, ছেলের সঙ্গে এতদিন কোনও যোগাযোগ রাখেননি, সেই মায়ের দায়িত্ব তিনি নিতে পারবেন না ।
বৃদ্ধা আদালতকে জানিয়েছেন, গত বছর গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার মধ্যে পড়ে তিনি নানা ভাবে ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন । প্রশাসনকে জানিয়েওছিলেন একাধিকবার । শেষে একটি মানবাধিকার সংগঠনের মারফৎ একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ হয় তাঁর । বর্তমানে তিনি কল্যাণীর একটি বৃদ্ধাশ্রমে থাকেন । কিন্তু তাঁর ভরণপোষণ এবং চিকিৎসার খরচ দেওয়ার কেউ নেই । এই পরিস্থিতিতে একমাত্র সন্তানই তাঁর ভরসা । কিন্তু সেই সন্তান বেঁকে বসায়, বাধ্য হয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি । বিচারপতি অমৃতা সিনহা দুই পক্ষের এই বক্তব্য শোনার পর কার্যত হতভম্ভ হয়ে যান ৷
তবে বৃদ্ধার ছেলে বর্তমানে জাহাজে কর্মরত, পেশায় নাবিক । সেই জন্য তাঁর যেহেতু আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে, তাই বিচারপতি সিনহা সেই ছেলেকে বলেন, তিনি তাঁর মায়ের চিকিৎসা এবং ভরণপোষণের জন্য কত টাকা দিতে পারবেন, তা আগামী নয় জুলাই আদালতকে জানাতে । বিচারপতি জানিয়েছেন, মায়ের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ করার প্রয়োজন নেই । ছেলে চাইলে কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা দিয়ে দিতে পারেন ।

