বড় সাফল্য রাজ্য পুলিশের ! দেশের মোস্ট ওয়ান্টেড সাইবার অপরাধী গ্রেফতার দুর্গাপুরে
কুখ্যাত সাইবার অপরাধী খগেন দাঁ এবং ধানবাদের মিঠুন দাঁ-সহ মোট আটজন গ্রেফতার দুর্গাপুর থানা ও দুর্গাপুর সাইবার সেলের পুলিশের হাতে।

Published : September 10, 2025 at 5:39 PM IST
দুর্গাপুর, 10 সেপ্টেম্বর: আজ আর মহল্লায় মহল্লায় ডাকাত দল বোমাবাজি করতে করতে হারে রে রে চিৎকার করতে করতে বন্দুক উঁচিয়ে সিন্দুক ভেঙে ডাকাতি করার ডাকাত দল নেই। এখন আপনার কাছে থাকা মোবাইল ফোনে আসা ওটিপি, অবাঞ্চিত আ্যপ, লিঙ্কে ক্লিক করলেই মুহূর্তে আপনার মোবাইল থেকে গায়েব হয় লক্ষ কোটি টাকা। আর সাইবার ক্রাইমের পিঠস্থান, 'ইউনিভারসিটি অফ সাইবার ক্রাইম' বলে চিহ্নিত ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া জেলা । সেই জেলার কুখ্যাত সাইবার অপরাধী খগেন দাঁ এবং ধানবাদের মিঠুন দাঁ-সহ মোট আটজন গ্রেফতার দুর্গাপুর থানা ও দুর্গাপুর সাইবার সেলের পুলিশের হাতে। সারা দেশের পুলিশের কাছে এই খগেন দাঁ একজন 'মোস্ট ওয়ান্টেড' অপরাধী।
কেওয়াইসি আপডেট করার নামে জামতারা গ্যাং ফাঁদে ফেলল প্রাক্তন এলআইসি কর্মীকে। হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়ো কল, স্ক্রিন শেয়ার অন করার ফাঁদ এবং একের পর এক ওটিপি, মুহূর্তের মধ্যেই উধাও প্রায় চার লক্ষ টাকা। ঘটনা ঘটেছিল 28 জুন। আতঙ্কে স্তব্ধ মৃণালবাবু পরে বুঝতে পারেন সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে। অবশেষে 1 জুলাই সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযোগ হাতে নিয়েই তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই প্রতারণার পেছনে রয়েছে কুখ্যাত জামতারার গ্যাং। গ্রেফতার হয় মূলচক্রী খগেন দাঁ ও মিঠুন দাঁ-সহ মোট 8 জন।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রতারণার টাকা দিয়ে অভিযুক্তরা কিনেছিল আড়াই লক্ষ টাকার দুটি দামি মোবাইল ও প্রায় 55 হাজার টাকার সোনা। তবে পুলিশের তৎপরতায় সেইসব উদ্ধার হয়েছে। বাকি টাকাও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার অভিষেক গুপ্তা সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “প্রতারকরা এলআইসির প্রাক্তন এজেন্টকে টার্গেট করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল। বহু মানুষকে ভুল বুঝিয়ে প্রতারণা করত এই দল। মাস্টারমাইন্ড খগেন দাঁ, সে ফোন করেই ফাঁদে ফেলতো সাধারণ মানুষকে। আমাদের তৎপরতায় সেই চক্র ধরা পড়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে দুজন মূল মাথা-সহ আট জনকে। ব্যাঙ্কের তথ্য কিভাবে সাইবার প্রতারকদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে সেই নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা সেই নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”

প্রতারিত মৃণাল কান্তি তিওয়ারি জানিয়েছেন, “ভুল বুঝিয়ে প্রতারণা করা হয়েছিল। পরে বুঝতে পেরেছি ভুল করেছি। তবে পুলিশের এই সাফল্যে আমি স্বস্তি পেয়েছি।” ধৃতদের পুলিশি হেফাজত শেষ হওয়ায় পুনরায় পুলিশি হেফাজত চেয়ে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতের তোলা হয়।তবে সাইবার অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যাঙ্কের যদি কেউ থেকে থাকেন এবং ভুয়ো ঠিকানায় মোটা টাকার বিনিময়ে যে যে কুরিয়ার সংস্থা এই সাইবার অপরাধীদেরকে নানা সামগ্রী পৌঁছে দিত তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানান ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ অভিষেক গুপ্তা।
পুলিশ জানিয়েছে, সাইবার অপরাধী খগেন দাঁ বিভিন্ন ভাষায় কথা বলতে পারে। পুলিশের দাবি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলার পর সাধারণ গ্রাহকদের প্রায় হিপনোটাইজ করে ফেলত এই খগেন দাঁ। গ্রাহকের সমস্ত তথ্য নিয়েই তাকে কল করতে বসত খগেন দাঁ। কুখ্যাত এই অপরাধীর খোঁজে গোটা দেশের পুলিশ বহু অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু শেষমেষ দুর্গাপুর সাইবার সেল ও দুর্গাপুর থানার এই কেসের ইনভেস্টিগেশন অফিসার অতনু বাজপায়ীর দুরন্ত নেটওয়ার্ক ও সোর্স খগেন দাঁকে পুলিশের ফাঁদে ফেলে।

