গঙ্গারামপুরে বেটিং চক্রে ধৃত শিক্ষকের শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার কোটি টাকা
বেটিং চক্র-কাণ্ডে ধৃত শিক্ষক এবং তাঁর সহযোগীর পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজত ৷ জেরার পাশাপাশি জারি তল্লাশি, জানালেন পুলিশ সুপার ৷

Published : September 15, 2025 at 8:44 PM IST
গঙ্গারামপুর, 15 সেপ্টেম্বর: গঙ্গারামপুর বেটিং চক্র-কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া শিক্ষক অপূর্ব সরকারের বাড়ি ও শ্বশুরবাড়িতে দিনভর তল্লাশি চালালো পুলিশ ৷ যে তল্লাশিতে খাট ও ঠাকুরঘর থেকে মোট 1 কোটি 34 লক্ষ 97 হাজার টাকা উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা ৷ অপূর্বর শ্বশুরবাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে 1 কোটি 17 লক্ষ 97 হাজার টাকা ৷ এই ঘটনায় ধৃত অপূর্ব এবং তাঁর সাগরেদকে জেরা করছে পুলিশ ৷ প্রয়োজনে ফের তল্লাশি অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার ৷
জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে অনলাইন গেম ও বেটিং চক্র চালানোর অভিযোগে পিন্টু ঘোষ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছিল গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ ৷ সেই সঙ্গে বেশ কিছু জায়গায় চলে তল্লাশি অভিযান ৷ সেই অভিযানে, নেমে দুই যুবক অপূর্ব সরকার (37) এবং কুণাল দাসের (34) খোঁজ পান তদন্তকারীরা ৷
অপূর্ব সরকার গঙ্গারামপুরের নয়াবাজার হাইস্কুলের সায়েন্সের শিক্ষক ৷ গত 12 সেপ্টেম্বর তাঁকে গ্যাংটক গ্রেফতার করা হয় ৷ প্রায় 10-12 দিন ধরে কাউকে না-জানিয়েই স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন ৷ রবিবার গঙ্গারামপুর পুলিশ তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই বালুরঘাটে টাকা লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন অপূর্ব ৷ তাঁকে এবং কুণালকে রবিবার গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে, বিচারক তাঁদের পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠায় ৷
এরপর অপূর্বকে সঙ্গে নিয়ে বালুরঘাট ব্লকের রঘুনাথপুর এলাকায় তাঁর শ্বশুরবাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায় পুলিশ ৷ সেখানে বাড়ির খাট ও ঠাকুরঘর থেকে বান্ডিল-বান্ডিল নোট উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা ৷ সেই টাকা গোনার জন্য আনা হয় মেশিন ৷ সেখান থেকে মোট 1 কোটি 17 লক্ষ 97 হাজার টাকা উদ্ধার হয় ৷ একই সঙ্গে তল্লাশি চালানো হয় গঙ্গারামপুর অপূর্বর বাড়িতেও ৷ সেখানে মোট 17 লক্ষ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ ৷

তবে, অপূর্ব সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করেন, তিনি এই বেটিং চক্রের সঙ্গে জড়িত নন ৷ পিন্টু ঘোষ তাঁকে ফাঁসাচ্ছেন ৷ কিন্তু, তাঁকে কেন ফাঁসাবেন পিন্টু, কিসের যোগ তাঁদের ? এসব প্রশ্নে চুপ করে থাকেন অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষক অপূর্ব সরকার ৷
এই নিয়ে সোমবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তল বলেন, "আমরা তদন্ত করছি ৷ অনলাইনে বেটিংয়ে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হয়েছিল ৷ তার ভিত্তিতে আমরা তদন্তে নেমে প্রথমে পিন্টু ঘোষকে গ্রেফতার করি ৷ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে অপূর্ব এবং কুণালের নাম পাই ৷ অপূর্ব সরকারকে আমরা গ্যাংটক থেকে গ্রেফতার করেছি ৷ তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে ৷ আর কোনও তথ্য পেলে সেই মতো তদন্ত এগোবে ৷ এই চক্রে আর কারা জড়িত, তা জানা গেলে অভিযান চালানো হবে ৷"

