একমাসে 3 বার ! পাথরপ্রতিমার পুকুরে ঢুকে মাছ খাচ্ছে কুমির, রাতভর চেষ্টার পর অবশেষে জালবন্দি
পুকুরে ঢুকে মাছ ধরে খাচ্ছে কুমির ৷ ভগবতপুর কুমির প্রকল্প থেকে বিশালাকার সরীসৃপের লোকালয়ে প্রবেশ বলে অনুমান বন দফতরের ৷

Published : July 4, 2025 at 5:42 PM IST
পাথরপ্রতিমা, 4 জুলাই: সুন্দরবনের পাথরপ্রতিমার মানুষের কুমির আতঙ্ক যেন পিছু ছাড়ছে না ৷ ফের লোকালয়ে কুমির ঢুকে পড়ল সেখানে ৷ এ নিয়ে চলতি মাসে মোট তিনবার এমনটা হল ৷ এবার পাথরপ্রতিমা গ্রাম পঞ্চায়েতের দে মার্কেট কিশোরীনগর সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা খোকন বেরার পুকুরে একটি বিশালাকার কুমির ঢুকে পড়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ৷ সারা রাত চেষ্টা করার পর, শুক্রবার সকালে কুমিরটিকে ধরতে সফল হয়েছে বন দফতর ৷
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে পুকুরে নামেন খোকন বেরা ৷ জলে নামার পরেই লক্ষ্য করেন পুকুরের সব মাছ লাফাচ্ছে ৷ কী হয়েছে, বুঝতে জল থেকে উঠে পড়েন তিনি ৷ বেশ কিছুক্ষণ পুকুরে মাছের লাফালাফি দেখার পর চোখ কপালে ওঠে তাঁর ৷ দেখেন, পুকুরের জলে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিশালাকার একটি কুমির ৷ আর পুকুরের মাছ খাচ্ছে সে ৷ ভয় পেয়ে চিৎকার শুরু করেন খোকন বেরা ৷ স্থানীয়দের ডেকে আনেন তিনি ৷ পুকুরের জলে এত বড় কুমির দেখে আতঙ্ক তৈরি হয় লোকজনের মধ্যে ৷
এরই মধ্যে খবর দেওয়া হয় ভগবতপুর রেঞ্জের বনকর্মীদের ৷ কিছুক্ষণের মধ্যে বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং জাল দিয়ে পুকুরটি ঘিরে ফেলেন ৷ তবে, কুমির ধরতে গিয়ে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় বনকর্মীদের ৷ বারবার জাল টানলেও, কুমির ধরা দিচ্ছিল না ৷ কোনও না-কোনওভাবে জাল ফসকে বেরিয়ে যাচ্ছিল সেটি ৷ শেষ পর্যন্ত চারটি পাম্প বসানো হয় পুকুরের জল সেচ করার জন্য ৷ সকাল সাতটার মধ্যে পুকুরের জল অনেকটা কমিয়ে ফেলে জাল টানা হয় ৷
জল কম থাকায় এবারে আর ফাঁকি দিতে পারেনি চারপেয়ে দৈত্য ৷ জাল টেনে সেটিকে ডাঙায় তোলেন বনকর্মীরা ৷ এরপর কুমিরের হাত-পা ভালো করে বেঁধে জাল-সহ সেটিকে ভগবতপুর কুমির প্রকল্পে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ কিন্তু, বারবার একই ঘটনা কেন ঘটছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা ৷ এর আগে দু’বার পাথরপ্রতিমার রাক্ষসখালি এলাকার দু’টি পুকুরে কুমিরের দেখা মেলে ৷ প্রতিবারই বন দফতর গিয়ে কুমির উদ্ধার করে নিয়ে যায় ৷ কিন্তু, একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে আতঙ্কে রয়েছেন গ্রামবাসীরা ৷
এ নিয়ে দক্ষিণ 24 পরগনা জেলার মুখ্য বন আধিকারিক বা ডিএফও নিশা গোস্বামী বলেন, "পাথরপ্রতিমা এলাকার কাছাকাছি ভগবতপুর কুমির প্রকল্প থাকার কারণে, পাথরপ্রতিমার বেশিরভাগ নদীতে কুমিরের বাস ৷ পাথরপ্রতিমা এলাকাতে বহু দ্বীপ রয়েছে, ফলে জোয়ারের জলে কুমির লোকালয়ে ঢুকে যায় ৷ কিন্তু, বন দফতরের কর্মীরা অত্যন্ত তৎপর রয়েছেন ৷ মানুষের কোনও ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই কুমির উদ্ধার করে পুনরায় সুন্দরবনের নদীতে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে ৷"

