ETV Bharat / state

দোল উপলক্ষে তুঙ্গে সুগন্ধি আবিরের চাহিদা, জোগান বৃদ্ধিতে ভিনরাজ্য থেকে আসছেন কারিগররা

মন্দিরবাজারের বিভিন্ন কারখানায় ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে ৷ দিন-রাত এক করে চলছে আবির তৈরির কাজ। গতবারের থেকে এবার দাম খানিকটা বেড়েছে বলেই দাবি ব্যবসায়ীদের।

ABIR MAKING IN MANDIR BAZAR
মন্দির বাজারের আবির কারখানায় রাসায়নিকবিহীন আবির ৷ (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : March 9, 2025 at 9:53 PM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

মন্দিরবাজার (দক্ষিণ 24 পরগনা), 9 মার্চ: "মধুর অমৃত বাণী বেলা গেল সহজেই, মরমে উঠিল বাজি বসন্ত এসে গেছে...! আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা ৷ বসন্তের হাওয়ায় রংয়ের ছোঁয়ায় মেতে উঠবে দেশ তথা বাংলার মানুষ ৷

আর রংয়ের এই উৎসবে আবিরের চাহিদা থাকবে না, তা অসম্ভব ৷ প্রতিবারের মতো এবারেও ব্যস্ততা তুঙ্গে দক্ষিণ 24 পরগনার মন্দিরবাজারের বিভিন্ন কারখানায় ৷ নাওয়া-খাওয়া ভুলে জোরকদমে কাজ করে চলেছেন কারিগররা ৷ রাসায়নিক ছাড়া সুগন্ধি আবিরের চাহিদা এখানে সবচেয়ে বেশি ৷

দোল উপলক্ষে তুঙ্গে সুগন্ধি আবিরের চাহিদা (ইটিভি ভারত)

পরিশ্রমও অনেক ৷ সময়ে চাহিদা পূরণে তাই ভিনরাজ্য থেকে কারিগর নিয়ে আসা হয়েছে ৷ এই কারখানাগুলিতে মূলত আটটি রংয়ের আবির তৈরি হয় ৷ দক্ষিণ 24 পরগনার ব্যবসায়ীরা তো বটেই, এমনকি উত্তর 24 পরগনা, কলকাতা থেকেও ব্যবসায়ীরা মন্দিরবাজারের কারখানাগুলিতে আসেন আবির কিনতে ৷

Abir Making in Mandir Bazar
দোল উপলক্ষে আবির তৈরিতে ব্যস্ত কারিগর ৷ (নিজস্ব চিত্র)

এ নিয়ে আবির কারখানার মালিক অভিজিৎ পুরকাইত বলেন, "গতবছরের তুলনায় আবিরের চাহিদা অনেকটাই বেড়েছে ৷ এই আবির তৈরি করার ক্ষেত্রে কোনও কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না ৷ তাই এই আবিরে ত্বকের কোনও ক্ষতি হবে না ৷ আমাদের এই আবির কলকাতা থেকে শুরু করে কাকদ্বীপ, নামখানা, ডায়মন্ডহারবার, ক্যানিং, পাথর প্রতিমা, বজবজ-সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যায় ৷

Abir Making in Mandir Baza
আবির তৈরির পর, তা প্যাকেটে ভরার কাজে ব্যস্ত কারিগর ৷ (নিজস্ব চিত্র)

দোলের আগে তিনমাস আমাদের এই ব্যবসা চলে ৷" তবে, কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে আবিরের দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে বলে জানালেন প্রস্তুতকারকরা ৷ 25 কেজি বস্তার আবিরের দাম 330 টাকা ৷ আর 20 কেজি সুগন্ধি আবিরের বস্তার দাম 310 টাকা ৷

বিহার থেকে আসা কারিগর চিন্টু খুশবাঁ বলেন, "বিহার থেকে আমরা আবিরের কাজ করার জন্য 10 জন এসেছি ৷ বছরে দু’মাস আবির তৈরি হয় ৷ আবির তৈরি করে প্রতি মাসে 15-16 হাজার টাকা আয় হয় ৷ এখানে মূলত আট রকমের আবির তৈরি হয় । আবিরের চাহিদা রয়েছে, তাই দিনরাত এক করে কাজ করছি আমরা ৷"

স্থানীয় রং ব্যবসায়ী গৌড় মজুমদার বলেন, "রংয়ের তুলনায় আবিরের চাহিদা অনেকটাই বেড়েছে ৷ প্রতিবছর এখান থেকেই আমরা আবির কিনে নিয়ে যাই ৷ এ বছরও আমরা আবির কিনতে এসেছি ৷ জেলায় এখানকার আবিরের সুনাম রয়েছে ৷"