পুজোর নিরাপত্তায় কোনও গাফিলতি বরদাস্ত নয়, কড়া নির্দেশ নগরপালের
প্রতিটি থানার অফিসার-ইন-চার্জকে বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে ৷ তাঁদের নিজস্ব এলাকায় নিরাপত্তার খুঁটিনাটি সবকিছু খতিয়ে দেখতে বলেছেন নগরপাল ৷

Published : September 15, 2025 at 3:08 PM IST
কলকাতা, 15 সেপ্টেম্বর: পুজোর আগে গোটা শহরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিল কলকাতা পুলিশ । নগরপাল মনোজ কুমার ভার্মা সম্প্রতি মাসিক ক্রাইম বৈঠকে একাধিক নির্দেশিকা জারি করেছেন । তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুজোর সময় শহরে মানুষের ভিড় বাড়ে, আর সেই সুযোগ নিয়ে অপরাধ চক্রগুলি সক্রিয় হয়ে ওঠে । তাই প্রতিটি থানার অফিসার-ইন-চার্জকে বিশেষ সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিজস্ব এলাকায় নিরাপত্তার খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
বিশেষ করে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, প্রতিটি থানার ওসি তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলিতে যে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো আছে, সেগুলি কার্যকর অবস্থায় রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখবেন । সমস্ত রিপোর্ট দ্রুত লালবাজারে পাঠানোর কথাও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন নগরপাল ।
এছাড়াও কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের আওতাধীন 'ওয়াচ সেকশন' থেকে শুরু করে গুন্ডা দমন শাখা ও র্যাফের মহিলা ব্যাটেলিয়ানকে সদা প্রস্তুত থাকতে হবে । পাশাপাশি রাতে ও ভোরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ভিড় জমা হওয়া এলাকায় টহলদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । পুলিশের মতে, এই সময়েই বেশিরভাগ অপরাধ সংঘটিত হয় ।
প্রতি বছরের মতো এবারও পুজোর আগে শহরে ছিনতাই, ডাকাতি ও চুরির মতো অপরাধ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে । পুলিশ সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক এলাকায় প্রাতঃভ্রমণকারীদের উপর হামলা এবং ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে । এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে পার্ক সার্কাস এলাকায় । সেখানে এক প্রাতঃভ্রমণকারীর মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে ।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তৎপরতার সঙ্গে তদন্তে নামে পুলিশ । অভিযান চালিয়ে দ্রুত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয় । ধৃতদের নাম বিবেক রায় (24) ও রোহিত রাজবংশী (25)। দু'জনেই কলকাতার তপসিয়া রোড দক্ষিণের বাসিন্দা । তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন এবং অপরাধে ব্যবহৃত একটি মোটরবাইক । প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, তাঁরা আগে একাধিকবার একই ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল ।
নগরপাল মনোজ কুমার ভার্মা সর্বশেষ মাসিক ক্রাইম বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পুজোর সময়ে অপরাধ দমনে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না । প্রতিটি থানাকে সক্রিয়ভাবে কাজ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত সমাধান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । তিনি আরও জানান, বাড়তি পুলিশ মোতায়েন, মোবাইল ভ্যান টহল এবং গোয়েন্দাদের গোপন নজরদারি চালিয়ে যাওয়া হবে ।
পুজোর ভিড় সামাল দেওয়া যেমন পুলিশের কাছে চ্যালেঞ্জ, তেমনই নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান দায়িত্ব । তাই এ বছর পুজোর আগেই শহরজুড়ে নিরাপত্তার আঁটোসাঁটো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে লালবাজার । পুলিশের আশা, কড়া নজরদারি এবং বাড়তি টহলদারি ব্যবস্থা অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা নেবে ।

