গিলেন বারি সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন শিশু, খরচ চালাতে সমস্যায় পরিবার
আপাতত শিশুটির বিপদ কেটে গিয়েছে। তবে হাসপাতালে রেখে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করাতে হবে। নার্সিংহোমে দৈনিক খরচ 45-50 হাজার টাকা। মেয়ের চিকিৎসার জন্য সরকারের দুয়ারে বাবা ।

Published : January 30, 2025 at 9:00 PM IST
শিলিগুড়ি, 30 জানুয়ারি: গিলেন বারি সিনড্রোমে আক্রান্ত চার বছরের শিশু ৷ চিকিৎসা চলছে শিলিগুড়ির বেসরকারি হাসপাতালে । 13 জানুয়ারি কোচবিহারের দুর্গাবাড়ির বাসিন্দা সুমন মণ্ডলের মেয়ে অসুস্থ হয়ে ভর্তি হয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে । অবস্থার অবনতি হলে ওইদিনই তাকে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় । স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে চিকিৎসকরা জানতে পারেন শিশুটি জিবিএসে আক্রান্ত ।
শিশুটির চিকিৎসা শুরু হয় । পরবর্তী সময় 19 জানুয়ারি তাকে ছুটি দেওয়া হয়। মাত্র ক'দিন পর মানে 22 জানুয়ারি ফের অসুস্থ হলে তাকে ভর্তি করা হয় শিলিগুড়ির ওই বেসরকারি হাসপাতালে । আপাতত শিশুটির বিপদ কেটে গিয়েছে। তবে হাসপাতালে রেখে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করাতে হবে । অন্যদিকে শিশুটির চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিবারের সদস্য়দের । তাঁরা সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন সরকারের কাছে ।
সুমন বলেন, ‘‘গত 13 জানুয়ারি সকাল থেকে মেয়ে পা নাড়াতে, উঠে বসতে পারছিল না । কোচবিহারে এক চিকিৎসক মেয়েকে শিলিগুড়িতে আনার পরামর্শ দেন । সেদিনই মেয়েকে শিলিগুড়ি নিয়ে আসি। পথে মেয়ের শরীরের অঙ্গ অসাড় হয়ে যাচ্ছিল । এখানে চিকিৎসক দেখে মেয়েকে বর্ধমান রোডের এক নার্সিংহোমে ভর্তি করাতে বলেন । সেখানে চিকিৎসকরা বিভিন্ন পরীক্ষার পর জানান যে, মেয়ের জিবিএসের সংক্রমণ হয়েছে । পুরোপুরি সুস্থ হতে দেড়–দু’মাস ফিজিওথেরাপি করাতে হবে ।’’
নার্সিংহোমে শিশুটির দৈনিক চিকিৎসা খরচ 45-50 হাজার টাকা । ছোট্ট গ্যারাজ চালানো সুমন মেয়ের চিকিৎসার খরচ মেটাতে সরকারের কাছে আবেদন করেছেন । তিনি বলেন, ‘‘সোশাল মিডিয়ায় মেয়ের অসুস্থতা জানানোর পরে কিছু সহযোগিতা পেয়েছিলাম । সেটা দিয়ে নার্সিংহোমে কিছু টাকা জমা করেছি । কিন্তু আর সম্ভব হচ্ছে না ।’’

শিশুটির চিকিৎসক বলেন, ‘‘জিবিএসের সংক্রমণে শিশুটি দুর্বল । নার্ভগুলি অকেজো হচ্ছিল । জিবিএস সংক্রমণ নিয়ে নিশ্চিত হয়েই শিশুটিকে ভেন্টিলেশনে দিয়েছিলাম । একজন শিশু নিউরোলজিস্টও দেখছেন । এখনও শিশুটি শারীরিকভাবে প্রচণ্ড দুর্বল । তাকে ভেন্টিলেশন থেকে বের করে হাইফ্লো-নেজাল ক্যানুলার মাধ্যমে বাইরে থেকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে । আশা করছি, দ্রুত সুস্থ হবে । এই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে যে কোনও সময় শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে পারে ।’’

