পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া, পুরনিগমের সামনে বিক্ষোভ অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মীদের
পাঁচমাস পেরিয়ে গেলেও মেলেনি মাস মাইনে ৷ বাড়িতে খাবার জুটছে না ৷ বাধ্য হয়ে পুরনিগমের গেটে ওড়না বেঁধে বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ দেখালেন অস্থায়ী স্বাস্থ্য়কর্মীরা ৷

Published : March 19, 2025 at 4:46 PM IST
হাওড়া, 19 মার্চ: কয়েকমাস পেরিয়ে গেলেও মাইনে পাননি ৷ সেই কারণে বুধবার হাওড়া পুরনিগমের গেটে ওড়না বেঁধে বসে বিক্ষোভ দেখালেন কয়েকশো মহিলা । চোখে চাপা ক্ষোভ, মুখে অসহায়তা । কারও কোলে শিশুর জলের বোতল, কারও হাতে পোস্টার ৷ পাশে থাকা পুরুষকর্মীরা সকলেই গম্ভীর । কাজ করার পরেও পাঁচমাসের বেতন বকেয়া ৷ তাই নিয়ে টানাটানি সংসারে, বাজারে, স্কুলের ফি-তে । কীভাবে জীবন চলবে ? বিক্ষোভ দেখিয়ে পুরনিগমের কাছে এই প্রশ্নই করতে চান ওরা ৷
অভিযোগ, মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও মেলে না মাইনে। অথচ তাঁদের দায়িত্ব, ঘর ছেড়ে প্রতিদিন রাস্তায় নামা ৷ মশার উৎস খোঁজা, মানুষের দরজায় দরজায় গিয়ে বোঝানো, কীভাবে রোখা যাবে ডেঙ্গু-জ্বর । নিজের ঘরের চালের হাঁড়ি ফাঁকা, তবু অন্যের দরজায় স্বাস্থ্যের পাঠ দিতে হয় ৷
হাওড়া পুরনিগমের 50টি ওয়ার্ডে নিযুক্ত এই তিন হাজার অস্থায়ী মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী ও 226 জন স্প্রে-ম্যান দিনের পর দিন কাজ করেও টাকা পাননি । মঙ্গলবার তাই ওড়না দিয়ে গেট বেঁধে জানিয়ে দিলেন, আর নয় । দাবি একটাই, বকেয়া মাইনে মিটুক, সংসার চলুক । বিক্ষোভে সামিল হয়ে এক মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, "ঘুরে ঘুরে স্বাস্থ্য সচেতন করে বেড়াই, অথচ নিজের বাড়ির শিশুর দুধ জোটে না । কতদিন এভাবে চলবে ?" পাশে থাকা এক স্প্রে-ম্যান যোগ করেন, "দিনরাত পুরনিগম ঘুরে কাজ করেও বাড়িতে চাল নেই ।"
বিক্ষোভের জেরে কার্যত এক ঘণ্টা অচল হয়ে পড়ে হাওড়া পুরনিগম ৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ, র্যাফ । অনেক বোঝানোর পরেও অবরোধ তোলেননি বিক্ষোভকারীরা । শেষে ব্যারিকেড দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় ।
এই ঘটনায় পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, অর্থাভাবে বেতনের জট । পুরনিগমের মুখ্য প্রশাসক সুজয় চক্রবর্তী আশ্বাস দেন, "আজ-কালের মধ্যে এক মাসের বেতন দেব । বাকি পাওনার ব্যাপারে বিভাগে কথা বলছি ।"
তবে প্রশ্ন রয়ে যায়, প্রতিশ্রুতি শুনে দিনের শেষে বাড়ি ফিরে হাঁড়ি চাপবে কী করে, পেট ভরবে কীসে ? তাই প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের দিকে কর্মীরা যাবেন বলে জানিয়েছেন ।

