ETV Bharat / state

নয়া শিক্ষাবর্ষের ক্লাসে পড়ুয়ার সংখ্যা কম, উদ্বেগ কলেজগুলিতে

ক্লাস শুরু হলেও ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বিগত বছরের তুলনায় অনেক কমেছে । এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল কলকাতার নামী কলেজ । কেন কমল পড়ুয়ার সংখ্যা ?

COLLEGE ADMISSION
প্রতীকী ছবি (ফাইল চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 29, 2025 at 9:01 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 29 অগস্ট: কলেজগুলিতে আজ থেকে শুরু হয়েছে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস । প্রথম ধাপের ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করে শুক্রবার থেকে ক্লাস চালু হয়েছে । তবে এ বছর ভর্তি সংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম । অভিন্ন পোর্টালের মাধ্যমে এবার কলেজে ভর্তি হয়েছে মোট 2,25,825 জন । যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অধিকাংশ কলেজের অধ্যক্ষরা ।

লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজের অধ্যক্ষা শিউলি সরকার জানান, 2024 সালে তাঁর কলেজে আসন সংখ্যা ছিল 629 । প্রথম দফায় আবেদন করেছিলেন 230 জন, দ্বিতীয় দফায় তা বেড়ে দাঁড়ায় 500-তে—ফলে আসন দ্বিগুণ করতে হয়েছিল । কিন্তু এবছর পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন ।

তাঁর কথায়, "দেরি হওয়ার কারণে স্নাতক স্তরের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে । কেন্দ্রীয় পোর্টালেও নানা সমস্যা রয়েছে । অনেকে মনে করছে মেধাতালিকায় নাম এলেই ভর্তি নিশ্চিত । কিন্তু আসলে বরাদ্দের পর ফি জমা দিয়ে কলেজে শারীরিক যাচাই করাতে হয় । আবার লেডি ব্র্যাবোর্নের নাম 'L' দিয়ে শুরু হওয়ায় বেথুন বা অন্য কলেজগুলোর পর নাম আসছে । অনেক সাইবার ক্যাফে ছাত্রছাত্রীদের হয়ে ভুলভাবে কলেজ সিলেক্ট করছে । ফলে প্রথম লটে ভর্তি মাত্র 30% হয়েছে । দ্বিতীয় লটে কিছুটা বাড়তে পারে, তবে আলাদা ভর্তি প্রক্রিয়া চালু করতে হতে পারে ।"

তিনি আরও জানান, প্রতিবছর কিছু আসন ফাঁকা থাকেই । তাই শুধু ওবিসি ইস্যুর কারণে নয়, এমনিতেও শূন্য আসনের সমস্যা থাকে । ইতিমধ্যেই স্কটিশ, সেন্ট পলস, সেন্ট জেভিয়ার্সের মতো কলেজ ক্লাস শুরু করে দিয়েছে ।

আরেকটি বড় সমস্যা হল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস । বিশ্ববিদ্যালয় এখন এনইপি মডেল অনুযায়ী পড়াচ্ছে । যেখানে তিনটি মেজর/মাইনর বিষয়, মূল্যভিত্তিক কোর্স, গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্নশিপ এবং সব বিষয়ে একসঙ্গে পাশ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে । এর তুলনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশি নমনীয়তা থাকায়, প্রচলিত বিষয় যেমন গণিত ও পদার্থবিদ্যায় আগ্রহ কমছে এবং অনেকেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছে ।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের হোম সায়েন্স বিভাগের প্রধান অধ্যাপিকা পূর্বা চট্টোপাধ্যায়ও ভর্তি কমার বিষয়টি স্বীকার করেছেন । তিনি বলেন, "প্রতি বছর যেমন আমরা নিউট্রিশন বিভাগে 60 জন ভর্তির আশা করতাম, এবারও তেমনই করেছিলাম । কিন্তু হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট বিভাগে ভর্তি ভয়াবহভাবে কমেছে—প্রথম লটে মাত্র 15–16 জন ভর্তি হয়েছে । ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তার কারণে ছাত্রছাত্রীরা আর এই বিষয়ে আগ্রহী নয় । অন্যদিকে, ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশনে এখনও সুযোগ রয়েছে কারণ এটি দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত এবং চাকরির ক্ষেত্রও আছে । তবে ছাত্রছাত্রীরা ক্রমশ বেসরকারি কলেজে ঝুঁকছে, কারণ তারা মনে করছে সেখানে তৎক্ষণাৎ সুযোগ পাওয়া যায়—কনটেন্ট ক্রিয়েশন বা ইউটিউবের মতো বিকল্প ক্যারিয়ারও মিলছে । ধীরে ধীরে মূল একাডেমিক পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে ।"