কলকাতায় ফের ধর্ষণের শিকার কলেজ ছাত্রী, এবার ঘটনাস্থল আনন্দপুর
26 সেপ্টেম্বরের ঘটনা৷ অভিযোগ দায়ের হয় 8 অক্টোবর৷ অভিযুক্ত সন্তোষপুরের বাসিন্দা৷ আপাতত অভিযুক্ত পলাতক৷

Published : October 10, 2025 at 7:53 PM IST
কলকাতা, 10 অক্টোবর: ফের এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল৷ অভিযোগের তির ওই ছাত্রীরই এই সহপাঠীর দিকে৷ কলকাতার আনন্দপুর থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে ঘটনাটি ঘটে৷ পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে৷ এখনও পলাতক অভিযুক্ত৷
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রী কলকাতার একটি বেসরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ে৷ তাঁর বাড়ি উত্তর 24 পরগনার ব্যারাকপুরে৷ তবে পড়াশোনা ও কলেজে যাতায়াতের সুবিধার্ধে তিনি আনন্দপুর থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতেন৷ তাঁর সঙ্গে আরও একজন ছাত্রী থাকতেন৷ ওই ফ্ল্যাটেই গত 26 সেপ্টেম্বর ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে৷
পুলিশকে ওই ছাত্রী জানিয়েছেন যে অভিযুক্ত তরুণ তাঁর সহপাঠী৷ গত 26 সেপ্টেম্বর ওই তরুণ তাঁকে ফোন করেন৷ জানান যে ফ্ল্যাটে কিছু জিনিস ওই তরুণ ফেলে গিয়েছেন৷ সেগুলি নিতে এসেছেন৷ সেই সময় ওই ফ্ল্যাটে একাই ছিলেন নির্যাতিতা তরুণী৷ তাঁর অভিযোগ, ফ্ল্যাটে এসে তাঁকে ঠান্ডা পানীয় খেতে দেন ওই তরুণ৷ ওই পানীয়তে মাদক মেশানো ছিল৷ তিনি তা পান করেই অজ্ঞান হয়ে যান৷ সেই সুযোগে ওই তরুণ তাঁকে ধর্ষণ করে৷
বিষয়টি জানতে পারার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন ওই তরুণী৷ স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আসতে তাঁর কিছুদিন সময় লেগে যায়৷ শেষে তিনি গত 8 অক্টোবর পুলিশের দ্বারস্থ হন৷ আনন্দপুর থানায় ওই তরুণের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন৷ পুলিশ নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণের মামলা রুজু করেছে৷ শুরু হয়েছে তদন্ত৷
কিন্তু এই নিয়ে এখনই পুলিশের আধিকারিকরা বিস্তারিত কিছু বলতে নারাজ৷ কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার বলেন, "গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ৷ পাশাপাশি এই ঘটনায় বাকিদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে৷" তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতার মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়েছে৷ আদালতে তাঁর গোপন জবানবন্দির জন্য আবেদন করা হয়েছে৷ আগামী 13 অক্টোবর তিনি আদালতে গোপন জবানবন্দি দেবেন৷
এদিকে অভিযুক্ত যুবক পলাতক৷ তাঁর খোঁজে তল্লাশি চলছে৷ আপাতত পুলিশ জানতে পেরেছে যে ওই যুবকের বাড়ি কলকাতার সন্তোষপুর এলাকায়৷ তাঁর খোঁজ পেতে বন্ধুদের সঙ্গেও কথা বলছেন তদন্তকারীরা৷ প্রয়োজনে কলেজে গিয়েও কথা বলবেন তাঁরা৷
উল্লেখ্য, গতকাল ছিল 9 অক্টোবর৷ আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক পড়ুয়াকে ধর্ষণ ও খুনের 14 মাস পূরণ হল ওইদিন৷ ঠিক তার আগের দিনই কলকাতা পুলিশের কাছে দায়ের হল আরও একটি ধর্ষণের অভিযোগ৷ আরজি কর-কাণ্ড নিয়ে উত্তাল হয়েছিল কলকাতা৷ আন্দোলন-ধরনা কার্যত অচল করে দিয়েছিল মহানগরকে৷ সেই ঘটনার রেশ কাটার আগেই কসবায় একটি আইন কলেজের মধ্যেই এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে৷ সেই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিল ওই কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ও অস্থায়ী কর্মী মনোজিৎ মিশ্র৷ তিনি আবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা৷
আরজি করের ঘটনাতেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল৷ ফলে রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই নিয়ে সরব হয়েছিল৷ কসবার ক্ষেত্রে বিরোধীদের পথে নামতে দেখা গিয়েছিল৷ তাছাড়া রাজ্যে নারী সুরক্ষা একেবারে তলানিতে বলে বারবার সরব হতে দেখা গিয়েছে বিরোধীদের৷ কিন্তু এনসিআরবি-র পরিসংখ্যান হাতিয়ার করে প্রতি ক্ষেত্রেই বিরোধীদের জবাব দিয়েছে তৃণমূল৷ আর সেই রাজনৈতিক দড়ি টানাটানির মধ্যে শহরে ঘটে গেল আরও একটি নারী নির্যাতন৷

