সরকারি হাসপাতালে আট ঘণ্টা পরিষেবার পর চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ছাড় মমতার
সরকারি হাসপাতালে আট ঘণ্টা পরিষেবা দেওয়ার পরেই মিলবে প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ছাড় ৷ চিকিৎসকদের এদিনের বৈঠক থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷

Published : February 24, 2025 at 5:48 PM IST
কলকাতা, 24 ফেব্রুয়ারি: প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ছাড় দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তবে তার জন্য নির্দিষ্ট করে দিলেন সরকারি হাসপাতালে পরিষেবা দেওয়ার সময়সীমা ৷ এবার থেকে সরকারি হাসপাতালে আট ঘণ্টা পরিষেবা দেওয়ার পরই মিলবে চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগ ৷
প্রসঙ্গত, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা চলছিল । সাম্প্রতিক অতীতে আরজি কর আবহে শোনা যাচ্ছিল, এই প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করতে পারে রাজ্য । এক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে গেলে আলাদা করে নিতে হবে সরকারের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট । খুব স্বাভাবিকভাবেই এই কড়া পদক্ষেপের বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরে গিয়েই জমা পড়ে ।

সোমবার যখন চিকিৎকদের নিয়ে বৈঠকে বসলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেখানে তিনি স্পষ্টতই বুঝিয়ে দিলেন যে এই মুহূর্তে চিকিৎসকদের উপর প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের মতো কড়া পদক্ষেপ করতে রাজি নয় রাজ্য সরকার । বরং এবার তিনি তাঁদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের জন্য পরিধিটাও বাড়িয়ে দিলেন ।
এতদিন 20 কিলোমিটারের মধ্যে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারতেন । এদিন মুখ্যমন্ত্রী সেটা বাড়িয়ে 30 কিলোমিটার করে দিলেন । একইসঙ্গে চিকিৎসকদের প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধ, প্রাইভেট প্যাকটিস করুন তবে সরকারি হাসপাতালকে পুরো সময় দেওয়ার পর । অর্থাৎ রাজ্য সরকারের তরফ থেকে প্রাইভেট প্র্যাকটিসে কোনও আপত্তি নেই । তবে সরকারি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে চিকিৎসকদের পুরোপুরি সময় দিতে হবে ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে আমার কোনও আপত্তি নেই । করুন না । কিন্তু মনে রাখবেন সরকারি হাসপাতালে আপনাদের 8 ঘণ্টা দিতে হবে । মানুষের সেবা করতে হবে । তারপর প্রাইভেট প্র্যাকটিস করুন । প্রয়োজনে 20 কিমির জায়গা 30 কিমি এলাকা বাড়িয়ে দেওয়া হবে । তার মধ্যে কলকাতায় অনেক বেসরকারি হাসপাতাল আছে ।"
এদিন চিকিৎসকদের বৈঠকে থেকে জুনিয়র ডাক্তার এবং সিনিয়র হাউস স্টাফদের বেতন বৃদ্ধি-সহ একগুচ্ছ ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, কালচারাল প্রোগ্রাম ও স্পোর্টসের জন্য সুযোগ করে দিতে হবে ৷ মাঠের ব্যবস্থা করার বিষয়ে প্রত্যেক হাসপাতালের প্রিন্সিপালকে নজর দেওয়ার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী ।
চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "কয়েক লক্ষ ছেলেমেয়ের নিয়োগ বন্ধ হয়ে আছে । কারণ ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে একটা মামলা করা হয়েছে । যেহেতু এই মুহূর্তে মামলার কারণে নতুন করে নিয়োগ করা যাচ্ছে না, তাই আপাতত এক্স সার্ভিসম্যানদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ব্যবহার করা যেতে পারে ।" একইসঙ্গে সিভিকদের হোমগার্ডে উত্তীর্ণ হওয়ার আগে তাঁদের ভালো করে ট্রেনিং দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ।
মমতা এদিন বলেন, "মহিলা চিকিৎসকদের জন্য হস্টেলের ব্যবস্থা রয়েছে । কোথাও ওয়াশরুমের প্রয়োজন থাকলে তাও দ্রুত করতে হবে ।" মূলত হস্টেলের জন্য এদিন একটি অর্থের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী । এছাড়া হাসপাতালের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে, এবার থেকে হাসপাতালে সুরক্ষার দায়িত্বে প্রাক্তন পুলিশকর্মীদের নিয়োগের ভাবনা নেওয়া হয়েছে । তিনি বলেন, "মানুষদের কাছে চিকিৎসকদের অবদান অপরিসীম । চিকিৎসকদের রাজনীতির কোনও রং নেই । তাঁরা মানবতার মুখ ।"

