গাফিলতি-লাইসেন্সও মেয়াদ উত্তীর্ণ, মালদায় নার্সিংহোম বন্ধের নির্দেশ প্রশাসনের
মানুষের জীবন ছেলেখেলা বরদাস্ত নয়, জানিয়েছেন জেলাশাসক ৷ মুখে কুলুপ নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের ৷

Published : February 6, 2025 at 7:44 PM IST
মালদা, 6 ফেব্রুয়ারি: লাইসেন্সই নেই, অথচ রোগী ভর্তি চলছে রমরমিয়ে ৷ চিকিৎসাও হচ্ছে ৷ রয়েছে আরও একাধিক গাফিলতির অভিযোগ ৷ কোনও কিছুকে পাত্তা না দিয়ে রহাল তবিয়তে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল নার্সিংহোম ৷ শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলাশাসক নার্সিংহোমটি সিল করে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন ৷
বৃহস্পতিবার তাঁর নির্দেশিকা সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর ৷ যদিও এই নিয়ে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে রাজি হয়নি ৷
নার্সিংহোমটি মালদা শহর লাগোয়া যদুপুর 1 নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের গাবগাছি এলাকায় ৷ দীর্ঘদিন ধরেই ওই নার্সিংহোমটির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল ৷ তার জেরে 2022 সালে জেলা প্রশাসনের নজরদারি দল সার্ভিল্যান্স টিম নার্সিংহোমটিতে হানা দেয় ৷ সেখানে একাধিক বেআইনি কাজকর্ম ধরা পড়ে ৷
অভিযোগ, মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ ও ইনজেকশন রোগীদের উপর প্রয়োগ করা হচ্ছিল ৷ গোটা নার্সিংহোমে একজনও প্রশিক্ষিত নার্স ছিলেন না ৷ ছিলেন না কোনও রেজিস্টার্ড মেডিক্যাল অফিসার ৷ এমনকি রোগীদের যে খাবার দেওয়া হচ্ছিল, তার মানও উন্নত ছিল না ৷ এসব খতিয়ে দেখে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে 14 লক্ষ টাকা জরিমানা করে জেলা প্রশাসন ৷ জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দফতর থেকেও ওই নার্সিংহোমে রোগী ভর্তি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ৷
অভিযোগ, কোনও নির্দেশই মানেনি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ৷ তারা প্রশাসনের জরিমানার নোটিশের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় ৷ ব্যবসাও চালিয়ে যেতে থাকে ৷ কিন্তু মামলা বিচারাধীন থাকায় প্রশাসন নার্সিংহোমটির বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করতে পারছিল না প্রশাসন ৷ এরই মধ্যে 2023 সালের নভেম্বরে নার্সিংহোমের লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায় ৷ কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেই লাইসেন্সের নবীকরণ না করিয়েই ব্যবসা চালিয়ে যেতে থাকে ৷
শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলার রায় ঘোষণা করে ৷ তারপরেই জেলাশাসকের দফতর থেকে ওই নার্সিংহোমে রোগী ভর্তি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৷ একই সঙ্গে 72 ঘণ্টার মধ্যে সেখানে ভর্তি থাকা সমস্ত রোগীকে সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে ৷

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ্ত ভাদুড়ি বলছেন, “এক বছরেরও বেশি সময় আগে জেলা সার্ভিল্যান্স টিমের হানায় ওই নার্সিংহোমে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে ৷ সার্ভিল্যান্স টিম সেখানে অনেক অনিয়ম খুঁজে পায় ৷ তার মধ্যে বেশ কিছু অনিয়ম গুরুত্বপূর্ণ ছিল ৷ যা মানুষের চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক ৷ তার ভিত্তিতে সিএমওএইচ হিসাবে আমি ওই নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে ক্লোজার নোটিশ ইস্যু করতে বাধ্য হই ৷’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘তারা ওই নোটিশের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয় ৷ প্রথমে জেলা আদালত, তারপর কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল ও ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি যায় ৷ শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের আবেদন খারিজ করে ৷ আদালত নির্দেশ দেয়, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে সিএমওএইচের নির্দেশ পালন করতে হবে ৷’’
মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক আরও বলেন, ‘‘এর মধ্যে তাদের লাইসেন্সও বাতিল হয়ে যায় ৷ লাইসেন্স নবীকরণ না করেই তারা রোগীদের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে ৷ তারা জেলা প্রশাসনের জরিমানাও পূরণ করেনি ৷ এনিয়েও তারা আদালতে গিয়েছিল ৷ কিন্তু আদালত সরকারের পক্ষেই রায় দেয় ৷ শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলাশাসক ওই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে রোগী ভর্তি বন্ধ করার পাশাপাশি নার্সিংহোম সিল করার নির্দেশ দিয়েছেন ৷”
মালদার জেলাশাসক নিতীন সিংহানিয়া বলেন, “ওই নার্সিংহোমে একাধিক গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে ৷ তার জেরে প্রশাসনের তরফে নার্সিংহোমটি সিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৷ আমরা মানুষের জীবন নিয়ে কাউকে ছেলেখেলা করতে দিতে পারি না ৷ তাই চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না ৷ জেলা প্রশাসনের সার্ভিল্যান্স টিম গোটা জেলা জুড়ে বিভিন্ন নার্সিং হোম ও ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের উপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে ৷ মাঝেমধ্যেই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চলছে ৷”

