নেপালে শান্তি ফিরুক, আটকে থাকা বাংলার পর্যটকদের দ্রুত ফেরানো হবে: মমতা
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যবাসী যাতে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারেন তাই তিনি সারারাত উত্তরকন্যায় জেগে কাটিয়েছেন ৷

Published : September 10, 2025 at 4:20 PM IST
জলপাইগুড়ি, 10 সেপ্টেম্বর: অগ্নিগর্ভ নেপাল ৷ এই অস্থির পরিস্থিতিতে পড়শি দেশে আটকে বহু পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক ৷ নেপাল থেকে দ্রুত সেই সব পর্যটককে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে উত্তরবঙ্গ থেকে আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷
তিনি বলেন, "নেপালে যে সকল পর্যটক আটকে আছেন, তাঁরা চিন্তা করবেন না । তাঁদের দুই-একদিনের মধ্যেই ফেরানো হবে । রাজ্য সরকার উদ্যোগ নিয়েছে । নেপালে শান্তি ফিরুক এটাই চাই । পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় আগুন জ্বলছে আমরা শান্তির পক্ষে ।"

বুধবার জলপাইগুড়ির এবিপিসি ময়দানে সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ সেখান থেকে নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে তাঁকে উদ্বেগ প্রকাশ করতে শোনা যায় ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, "আজকে উত্তরবঙ্গে আসার বিশেষ কারণ রয়েছে । মঙ্গলবার থেকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে সমস্যা চলছে । আমি সারারাত উত্তরকন্যায় ছিলাম । আমাদের দিকে কোনও সমস্যা যাতে না-হয়, আপনারা যাতে নিশ্চিন্তে ঘুমোন, তাই আমি উত্তরকন্যাতে ছিলাম প্রশাসনকে নিয়ে ।"
এদিন বিকেলে উত্তরকন্যায় সাংবাদিক সম্মেলনেও নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ তিনি বলেন, "নেপালে গোটা দেশের পর্যটকরা বেড়াতে যান ৷ সেখানে বাংলার পর্যটকরাও রয়েছেন ৷ তাঁদের অনেকে আমাদের ফোন করছেন ৷ আমরা তাঁদের কয়েকটা দিন সাবধানে থাকতে বলেছি ৷ নেপালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমার কোনও মন্তব্য নেই ৷ এটা দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিষয় ৷ তবে নেপালে মাওবাদীরা রয়েছে ৷ নেপালের পরিস্থিতির জন্য আমি আজও এখানে থাকব ৷ পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে ফেরার চেষ্টা করব ৷ যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয় তাহলে হয়তো আমাকে এখানে থেকে যেতে হবে ৷ কারণ, আমাদেরও একটা দায়িত্ব রয়েছে ৷"
তিনি আরও বলেন, "আগেও দুর্দিনের সাথী হওয়ার চেষ্টা করেছি ৷ কেউ কেউ এর মধ্যে মাছ ধরতে জলে নামবে ৷ তারা নিজের স্বার্থে এসব কাজ করে ৷ তখন নিজের ইচ্ছেমতো একটা ইস্যু সামনে রাখতে হয় ৷ সেটা তারা রাখবে ৷ নেপালে তো মাও, বামপন্থী সরকার ছিল ৷ আমাদের তো বামপন্থীদের সঙ্গে সম্পর্ক নেই ৷ আমার একটি জিনিস খারাপ লেগেছে ৷ সেটা নিয়ে গতকাল রাতে একটা কবিতাও লিখেছি ৷ আমরা চাই, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো ভালো থাকুক ৷ বাংলা মানবিকতার জন্ম দেয় ৷ একটা জীবন্ত মানুষকে জ্বালিয়ে দিয়ে নৃত্যের মতো নানা ধরনের ভঙ্গিমা করে উল্লাস করা, এটা মানবিকতার কোনও অঙ্গ হতে পারে না ৷ কারও বিরুদ্ধে কারও ক্ষোভ থাকতেই পারে ৷ মতভেদ থাকতেই পারে ৷ কিন্তু এমন ঘটনা কাম্য নয় ৷"
উল্লেখ্য, তিনদিনের উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ মঙ্গলবারই তিনি বাগডোগরা পৌঁছন ৷ আর গতকাল থেকেই জ্বলছে নেপাল ৷ এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গ থেকে পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ এমনকি মঙ্গলবার তিনি নিজে সারারাত জেগে উত্তরবঙ্গের সচিবালয় উত্তরকন্যায় নিজের দফতরে কাটিয়েছেন ৷ কারণ নেপালের অশান্তির জেরে উত্তরবঙ্গে বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা । ফলে উত্তরকন্যার পাশে থাকা মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন কন্যাশ্রী থেকে ইন্দো-নেপাল সীমান্ত সম্পর্কে কোনও খবরাখবরই নিতে পারছিলেন না তিনি । তাই উত্তরকন্যায় নিজের অফিসে বসে একের পর এক প্রশাসনিক আধিকারিকদের ফোন করে সীমান্ত সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি ।
উত্তরবঙ্গে শিলিগুড়ি ও কালিম্পংয়ে দুটি জায়গায় রয়েছে ইন্দো-নেপাল সীমান্ত ৷ আর নেপালের বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলায় অনুপ্রবেশের ঝুঁকি রয়েছে ৷ তা যাতে না-ঘটে সেজন্য বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে এসএসবি থেকে পুলিশ প্রশাসনকে । মঙ্গলবার রাতেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এসএসবির সঙ্গে বৈঠক করেছেন উত্তরবঙ্গের আইজি রাজেশ কুমার যাদব । পাশাপাশি বুধবার সকালে এসএসবি'র উচ্চপদস্থ আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠকে বসেন রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী এদিন জলপাইগুড়ির প্রশাসনিক সভা থেকে দার্জিলিং জেলাকে অভিনন্দন জানান । তিনি বলেন, "তিস্তা বাজার ও পেশকের মধ্যে সেতু করে দেওয়া হল । পাহাড়বাসীকে অভিনন্দন জানাচ্ছি । জলপাইগুড়ি জেলার জন্য বড় বড় কাজ করেছি । রাজবংশী সমাজের প্রাণ পুরুষকে শ্রদ্ধা জানাই । আমরা আদিবাসীদের জন্য করম পুজোতেই ছুটি দিই ৷ আমরা অলচিকি, করুক ভাষাকে সম্মান জানাই ।"
তিনি জানান, 2011 সালের পর 6 লক্ষ 56 হাজারের বেশি পাট্টা দেওয়া হয়েছে । কৃষি পাট্টা, গৃহপাট্টা দেওয়া হয়েছে । 26 অগস্ট 14টা জেলা জুড়ে 7 হাজার পাট্টা দেওয়া হয়েছে । আজ 7 জেলায় 11 লক্ষ 6 হাজার পাট্টা দেওয়া হচ্ছে । 98টি পরিবার 2023 সালে বন্যায় ভেসে যায় । আজ 98টা পরিবারকেও পাট্টা বিলি করা হয়েছে । জলপাইগুড়িতে এদিন 400 কোটি টাকা প্রকল্পের শিল্যান্যাস ও উদ্বোধন করা হয়েছে । 1 লক্ষ 55 হাজার মানুষ পরিষেবা পাচ্ছেন । 1600 চা বাগানের লঙ্কা পাড়া চা সুন্দরী প্রকল্পের কাগজ দেওয়া হল । জলপাইগুড়ি 1053টি বাড়ি নির্মাণ হয়েছে ।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "পরিশ্রুত পানীয় জল বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতে জলপাইগুড়ি পুরসভার তরফে তা পরীক্ষা করা হচ্ছে । 76 কোটি টাকার প্রজেক্ট সেটি । অনেক মানুষ উপকৃত হবেন । জলপাইগুড়ি জেলার পানীয় জলের জন্য 36 কোটি টাকা দিয়ে করা প্রকল্পের উদ্বোধন হয়ে গিয়েছে । তিস্তার জলে জলপাইগুড়ি ভাসে ৷ সংকোশের জলে ভাসে । আমর ভারত সরকারকে বলেছি ইন্দো-ভুটান নদী কমিশনে আমাদের মেম্বার করা হোক । ওরাও ভালো থাক ৷ আমরাও ভালো থাকতে চাই ।"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এও বলেন, "উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস করার জন্য টাকা দেওয়া হয়েছে । জল্পেশে শিব মন্দির, দেবী চৌধুরানী মন্দিরের সংস্কার করে দিয়েছি । বানারহাটে রেড ব্যাংকে ক্রেস হাউজ করে দেওয়া হয়েছে । কোন কোন কাজ করা হচ্ছে, কোনটা করা হবে, তার জন্য বোর্ড লাগানোর নির্দেশ জেলাশাসককে দেওয়া হয়েছে । জলপাইগুড়ি পুরসভার সলিড ওয়েষ্টে ম্যানেজমেন্টের জন্য 13 কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে । জলপাইগুড়ি পুরসভার বিল্ডিং করা হচ্ছে ।"

