রাজ্যের আপত্তি খারিজ, জিটিএ'র নিয়োগ-দুর্নীতি মামলা ফিরল বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে
রাজ্য সরকারের আপত্তিতে মামলা ছেড়েছিলেন বিচারপতি বসু। মঙ্গলবার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ফের মামলাটি পাঠিয়ে দিলেন তাঁর এজলাসেই।

Published : March 4, 2025 at 10:46 PM IST
কলকাতা, 4 মার্চ: জিটিএ'র নিয়োগ দুর্নীতি মামলা শুনবেন না বলে গতসপ্তাহে জানান কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। রাজ্যের ভূমিকায় হতাশা প্রকাশ করেছিলেন বিচারপতি। কারণ, বিচারপতি বসু এই মামলা শুনতে পারেন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন রাজ্যের এজি কিশোর দত্ত। এরপর বিরক্তি প্রকাশ করে মামলা ছেড়ে দেন বিচারপতি। মঙ্গলবার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ফের মামলাটি পাঠিয়ে দিলেন বিচারপতি বসুর এজলাসেই। শুক্রবার এই মামলার শুনানি।
জিটিএ'র নিয়োগ-দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছিল প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়,দলের যুবনেতা তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে জিটিএ-র সভাসদ বিনয় তামাং সহ-একাধিক নেতার। দীর্ঘদিন ধরে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু মামলার শুনানি করছেন। সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশও দিয়েছিলেন অতীতে। তাদের তদন্ত নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। যদিও রাজ্যের বক্তব্য ছিল, এই নিয়োগে কোনও বেনিয়ম হয়নি। পদ্ধতিগত ত্রুটি থাকতে পারে।
জলপাইগুড়ির সার্কিট বেঞ্চ থেকে মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টের মুল বেঞ্চে এসেছিল। কিন্তু আচমকা মামলা আর শুনবেন না বলে মনস্থির করে মামলা ছেড়ে দেন বিচারপতি। কিন্তু মামলাটি ফের প্রধান বিচারপতি তাঁর বেঞ্চেই ফেরত পাঠিয়েছেন। মামলার দ্রুত নিস্পত্তি করার জন্য বিচারপতি বসু আইনজীবী কৌশিক গুপ্তকে আদালত বান্ধব হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন আগে।
তিনি আদালতে সিআইডি তদন্তের বিষয়ে জানান, এই ক্ষেত্রে যে ধারা দেওয়া হয়েছে তাতে সাক্ষীকে 41-এ ধারায় সমন পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। সুপ্রিম কোর্টের রায়েও বলা আছে এই ধরনের ক্ষেত্রে যদি তদন্তকারী সংস্থা সঠিক সময়ে নোটিশ না দেয় তাহলে তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। বিচারপতি এর আগের শুনানিতে সি আই ডি-র ডিআইজিকে আদালতে তলব করেছিলেন।
বিচারপতি জানতে চান-
- অভিযোগ দায়েরর পরও কেন অভিযুক্তদের 41এ ধারার নোটিশ দিয়ে ডাকা হল না ?
- পুরো ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ?
- কিছু নাম প্রকাশ্যে এসেছে অথচ তাঁদের একবারও ডাকা হল না কেন ?
- বিনয় তামাং-সহ কয়েকজন নোটিশ পাঠানো হল না কেন ?
পালটা রাজ্যের আইনজীবী রুদ্র নন্দী বলেন, "সিআইডি এখনও তদন্তের সেই পর্যায় পৌঁছয়নি । তাই নোটিশ এর প্রয়োজন হয়নি। একটা বেনামী চিঠির ভিত্তিতে এফআইআর করে তদন্ত শুরু হয় । তদন্ত চলছে ।" তারপরই রাজ্যের এজি কিশোর দত্ত দাবি করেন, এই মামলা শোনার এক্তিয়ার এই বেঞ্চের নেই। এই মামলার শোনার এক্তিয়ার জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের।
বিচারপতি মন্তব্য করেছিলেন, রাজ্যের এজি যে প্রশ্ন তুলেছেন তাতে তিনি আশাহত। একইভাবে তাঁর আর এই মামলা শোনার ব্যাপার কোনও ব্যাক্তিগত অভিপ্রায় নেই। তিনি মামলা শুনবেন না। রাজ্যের দাবির বিরুদ্ধে মামলাকারীর তরফে আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, "আদালতকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি বসুর এজলাসেই। পরবর্তীকালে জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে মামলা উঠলে তিনি রেজিস্ট্রারকে দিয়ে মামলাটি পাঠিয়ে দেন মূল বেঞ্চ অর্থাৎ বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে। তাই এই মামলা শোনার এক্তিয়ার রয়েছে এই এজলাসেরই। "
- পুরসভায় বাম আমলের কর্মীদের পেনশন-সহ বাকি সুবিধায় 'না' হাইকোর্টে

