আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে প্রাণনাশের হুমকি ফোন ! 'টার্গেট' পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান
ফের আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে ফোন-কলে 'প্রাণনাশের' হুমকি ! কাউন্সিলর,ভাইস-চেয়ারম্যানের পর এবার 'টার্গেট' পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান। থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে ৷

Published : August 21, 2025 at 7:32 AM IST
পানিহাটি, 21 অগস্ট: যত কাণ্ড পানিহাটিতে ! ফের আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে ফোন-কলে 'প্রাণনাশের' হুমকি!কাউন্সিলর,ভাইস-চেয়ারম্যানের পর এবার 'টার্গেট' পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান ! হুমকি ফোনের পাশাপাশি অচেনা একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে পুর চেয়ারম্যান সোমনাথ দে-র বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও হুমকি পোস্ট করা হয়েছে। এমনটাই দাবি তৃণমূল নেতার।
এই ঘটনায় পুলিশের দ্বারস্থও হয়েছেন পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান। ইমেল মারফত ঘোলা এবং খড়দা থানায় দায়ের হয়েছে অভিযোগও। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। তবে,ঘটনার তিন দিন পরেও আটক কিংবা গ্রেফতার, কোনওটাই করা সম্ভব হয়নি।

সবে কয়েকমাস হয়েছে পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সোমনাথ দে। তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে 23 নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সম্রাট চক্রবর্তীকেও ঠিক একইভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। চেয়ারম্যানের শপথগ্রহণ মিটতে না-মিটতে ফের তৃণমূলের দুই কাউন্সিলরের কাছে হুমকি ফোন আসে বলে অভিযোগ। এর মধ্যে একজন আবার পুরসভার ভাইস-চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন। দু'জনেরই দাবি ছিল, 'হুমকি ফোনগুলি এসেছিল আন্তর্জাতিক ফোন নম্বর থেকে।' সেই ঘটনার রেশ কাটতে না-কাটতে এবার +17 নম্বর থেকে হুমকি ফোন এল পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে-র কাছে। তা-ও দুই তৃণমূল কাউন্সিলরের হুমকি ফোনের চার মাসের মধ্যেই।
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে পানিহাটিজুড়ে। এই নিয়ে সোমনাথ দে বলেন, "গত 16 অগস্ট তাঁর কাছে প্রথম ফোন আসে। সেই সময় একটি অনুষ্ঠানে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। ফলে, তিনি ফোন ধরতে পারেননি। পরে, দেখেন সেটি একটি আন্তর্জাতিক নম্বর। এরপর 17 অগস্ট আবারও ফোন আসে তাঁর কাছে।" সেই সময় রিসিভ করতেই ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি পুর চেয়ারম্যানের।
তবে, এখানেই শেষ নয়! সোমবার এবং মঙ্গলবার, পরপর দু'দিন ওই একই ফোন নম্বর থেকে ফের তাঁর কাছে ফোন এসেছিল বলে দাবি করেছেন ওই তৃণমূল নেতা। যদিও বুঝতে পেরে তখন আর তিনি ফোন রিসিভ করার সাহস দেখাননি। সোমনাথের কথায়, "আগেও ওই ইন্টারন্যাশনাল নম্বর থেকে কাউন্সিলর সম্রাট চক্রবর্তীর কাছে হুমকি ফোন গিয়েছিল। তাই, সেই কথা মনে পড়ে যাওয়ায় আর ফোন রিসিভ করিনি।"
অন্যদিকে, হুমকি ফোন-কাণ্ডের নেপথ্যে কে বা কারা রয়েছে? কী উদ্দেশ্যেই বা বেছে বেছে শাসকদলের জনপ্রতিনিধিদের ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে? তা এখনও স্পষ্ট নয় পুলিশের কাছে। এর পিছনে বড়সড় কোনও চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যারাকপুর কমিশনারেটের এক পদস্থ পুলিশ কর্তা। সেই সঙ্গে ওই ফোন-কলের উৎসের সন্ধান পাওয়ারও চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

