ETV Bharat / state

লুপ্তপ্রায় প্রাণীদের DNA সংরক্ষণে নজির, দেশের প্রথম 'ফ্রোজেন জু' দার্জিলিংয়ে

জানুয়ারিতে দার্জিলিংয়ের চিড়িয়াখানায় বায়ো ব্যাঙ্কিংয়ের সূচনা হয় ৷ এখানে বিভিন্ন প্রাণীর জেনেটিক নমুনা সংগ্রহের পর সংরক্ষণ করা হয় ৷ এবার 'ফ্রোজেন জু'-এর শিরোপা পেল ৷

Padmaja Naidu Himalayan Zoological Park
দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিকাল পার্ক বা দার্জিলিং চিড়িয়াখানা (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : March 19, 2025 at 7:01 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

দার্জিলিং, 19 মার্চ: দেশের মধ্যে প্রথম 'ফ্রোজেন জু'-এর শিরোপা পেল দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিকাল পার্ক বা দার্জিলিং চিড়িয়াখানা ৷ রাজ্যের চিড়িয়াখানার এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত রাজ্য বন দফতর ও চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ৷ সেন্ট্রাল জু অথরিটির তরফে চলতি সপ্তাহে এই শিরোপা দেওয়া হয়েছে ৷

সারা দেশে রেড পান্ডা, স্নো লেপার্ডের মতো বিলুপ্ত প্রায় শিডিউল ওয়ান প্রজাতির প্রাণীর প্রজনন ও সংরক্ষণে জাতীয় স্তরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরেও নজির সৃষ্টি করেছে দার্জিলিং জু । এছাড়া, জানুয়ারিতে 'বায়ো ব্যাঙ্কিং ফেসিলিটি ও মিউজিয়াম' তৈরি করে ভারতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিকাল পার্ক ৷ এবার চিড়িয়াখানার মুকুটে নতুন পালক 'ফ্রোজেন জু' ৷

Bio Bank in Padmaja Naidu Himalayan Zoological Park
দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিকাল পার্ক বা দার্জিলিং চিড়িয়াখানার বায়ো ব্যাঙ্ক (ইটিভি ভারত)

2024 সালের জুলাই থেকে দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় 'বায়ো ব্যাঙ্কিং'-এর কাজ শুরু হয় ৷ পরে জানুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে সফল ব্যাঙ্কিংয়ের সূচনা করে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ৷ এই ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন প্রাণীর জেনেটিক সামগ্রী সংগ্রহ করে তা সংরক্ষণ আরম্ভ করেন ৷ রেড পান্ডা, হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ার, স্নো লেপার্ড–সহ নানা প্রাণীর জেনেটিক নমুনা সংগ্রহ করা হয় ৷ কেন্দ্রীয় জু অথরিটির অধীনে কনসোর্টিয়াম অফ জু'স অ্যান্ড বায়ো ব্যাঙ্কিং-এর অধীনে দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় এই 'বায়ো ব্যাঙ্ক' তৈরি করা হয় ৷

দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিকাল পার্ক দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থিত ৷ তাই প্রজনন, সংরক্ষণ এখানে সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা ৷ ওই বায়ো ব্যাঙ্কে বিলুপ্তপ্রায় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতির প্রাণীদের ডিএনএ, জিনোম, গ্যামেটের মতো অংশের নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে ৷ এই নমুনা দিয়েই আগামীতে গবেষণা করার সুযোগ পাওয়া যাবে ৷ জীবজগতে প্রাণীদের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, প্রাণীদের মিউটেশনের কারণ ও প্রভাব, জীব বৈচিত্র্য-সহ একাধিক বিষয়ে গবেষণা করা যাবে বায়ো ব্যাঙ্কে সংরক্ষিত এই সব নমুনা দিয়ে ৷

জানা গিয়েছে, বায়ো ব্যাঙ্কের নমুনা দিয়ে কেন্দ্রীয় জু অথরিটির অনুমোদনে গবেষণা করা যাবে ৷ বায়ো ব্যাঙ্কে অন্ততপক্ষে 40-50 বছর পর্যন্ত নমুনা সংরক্ষণ করে রাখা যাবে ৷ প্রথম পর্যায়ে ন'টি প্রজাতির প্রায় 20টি নমুনা সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে এখানে ৷

দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় বিলুপ্তপ্রায় শিডিউল ওয়ান প্রজাতির প্রায় 19টি প্রাণী রয়েছে ৷ এর মধ্যে রেড পান্ডা, স্নো লেপার্ড, সাইবেরিয়ান টাইগার, মিশমি টাকিনের মতো প্রাণী আছে ৷ এই বায়ো ব্যাঙ্কের মাধ্যমে এইসব বিলুপ্তপ্রায় শিডিউল ওয়ান প্রজাতির প্রাণীদের ডিএনএ, জিনোম ও গ্যামেট ইতিমধ্যে সংরক্ষণের কাজ শুরু করেছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ৷

এছাড়া, পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্কে সংরক্ষিত থাকবে হিমালয়ের বন্য পশুদের ডিএনএ ৷ স্টিলের ট্যাঙ্কে তরল নাইট্রোজেনে -196 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে ডুবিয়ে রাখা হবে সেই ডিএনএ ৷ এই পুরো প্রক্রিয়াটি হচ্ছে দার্জিলিং চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এবং হায়দরাবাদে অবস্থিত সেন্টার ফর সেলুলার অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজির যৌথ উদ্যোগে ৷ ক্রায়োজেনিক সংরক্ষণের উদ্যোগই তাদের মূল লক্ষ্য ৷ এভাবে সংরক্ষণ করা হলে বনের পশুদের জেনেটিক ব্লুপ্রিন্ট একই রকম থাকবে ৷

এই বিষয়ে রাজ্যের চিফ ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন দেবল রায় বলেন, "এটা ডিএনএ সংরক্ষণ করার একটা প্রচেষ্টা ৷ আমরা বন্য পশুদের নমুনা সংগ্রহ করছি ৷ যদি কোনও পশু স্বাভাবিকভাবে মারা যায় বা তার অকালমৃত্যু ঘটে, তাহলে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলিকে এভাবে সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি ৷"

দার্জিলিং চিড়িয়াখানার ডিরেক্টর বাসবরাজ হোলেইয়াচি বলেন, "চিড়িয়াখানার ভিতরে গড়ে তোলা গবেষণাগারে এই ডিএনএগুলি থাকবে ৷ এই 'ফ্রোজেন জু'-এ থাকবে অপরিবর্তনশীল জেনেটিক সামগ্রী ৷ এগুলি দিয়ে নানাবিধ পরীক্ষা–নিরীক্ষা করা যাবে ৷ এখানে ক্রমাগত তরল নাইট্রোজেন সরবরাহ করা হবে ৷"