অদূরে চিকেন'স নেক ! উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বাড়াতে বড় পদক্ষেপ রেলের
শিলিগুড়ির কাছেই আছে চিকেনস নেক ৷ প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত প্রয়োজনে এই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বাড়াতে বড় পদক্ষেপ করল রেল ৷

Published : August 1, 2025 at 1:38 PM IST
শিলিগুড়ি, 1 অগস্ট: উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের কাটিহার ডিভিশনের আলুয়াবাড়ি রোড থেকে নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে তৃতীয় এবং চতুর্থ রেললাইন নির্মাণের অনুমোদন দিল রেল মন্ত্রক। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত ঘোষণা করা হয় ৷ মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তে উত্তর-পূর্ব ভারতের রেল সংযোগ ও পরিষেবায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তার একটা বড় কারণ, শিলিগুড়িতেই আছে চিকেনস নেক ৷ নিরাপত্তার দিক থেকে এর গুরুত্ব অপরিসীম ৷
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের অধীনে মোট 57 কিলোমিটারের ওই প্রকল্পের জন্য প্রায় 1786 কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পরিবহণের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে ৷ অতিরিক্ত ট্র্যাক চালু করার মাধ্যমে একদিকে যেমন যানজট কমবে, অন্যদিকে, যাত্রী এবং মালবাহী ট্রেন আরও দ্রুত চলাচল করতে পারবে। ফলে যাত্রার সময় কমবে এবং পরিষেবার সামগ্রিক উন্নতি হবে। পাশাপাশি চা, কাঠ এবং কৃষি পণ্যের মতো সামগ্রী পরিবহণও আগের থেকে সহজ হবে ৷ এর ফলে স্থানীয় এবং আঞ্চলিক অর্থনীতি আরও ত্বরান্বিত হবে।
রেলমন্ত্রী কী বলছেন ?
আলুয়াবাড়ি রোড থেকে নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে তৃতীয় এবং চতুর্থ রেললাইন নির্মাণের কথা ঘোষণা করেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ৷ তিনি জানান, উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের অন্য অংশের সংযোগের জন্য এই রুটটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ৷ এই দুটি লাইনের কাজ শেষ হয়ে গেলে আলুয়াবাড়ি এবং তার চারপাশে এলাকায় আরও সহজে পৌঁছে যাওয়া যাবে ৷

রেলমন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিরক্ষার দিক থেকেও এই অংশের আলাদা তাৎপর্য আছে ৷ সেদিক থেকে এই নতুন দু'টি লাইন তৈরি হয়ে গেলে বিভিন্ন সামগ্রীর পাশাপাশি বিশেষ প্রয়োজনে সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে আধা সামরিক বাহিনীর কর্মীদের আরও সহজে বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দেওয়া যাবে ৷ নিরাপত্তার দিক থেকে তা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে বলে মনে করেন মোদি মন্ত্রিসভার এই সদস্য় ৷
রেল মন্ত্রকের বক্তব্য
রেল মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পটি দিল্লি-গুয়াহাটি হাই ডেনসিটি নেটওয়ার্ক রুটের অংশ ৷ ভুটান, বাংলাদেশ এবং নেপালের মতো আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় কৌশলগত গুরুত্বও বহন করবে। ট্র্যাকটি বিহারের কিষাণগঞ্জের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং এবং উত্তর দিনাজপুর জেলাগুলির মধ্য দিয়ে যাবে। যাত্রী এবং মালবাহী পরিবহণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবেও কাজ করবে। এই ট্র্যাকের পাশাপাশি 7টি স্টেশন, 99টি সেতু এবং তিনটি রোড ওভার ব্রিজ এবং আটটি রোড আন্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পের সাহায্যে প্রতি বছর 2.14 কোটি লিটার ডিজেলের সাশ্রয় হবে। পরিবেশগত দিকের পাশাপাশি আর্থিক দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

এই বিষয়ে উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জন সংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা বলেন, "সার্বিকভাবে দেখলে বোঝা যাবে, আলুয়াবাড়ি রোড– নিউ জলপাইগুড়ি তৃতীয় ও চতুর্থ রেললাইন প্রকল্প কেবলমাত্র একটি রেল পরিকাঠামো উন্নয়ন নয় ৷ আদতে এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বিকাশ থেকে শুরু করে আঞ্চলিক সংহতি এবং জীবনমানের উন্নয়নের একটি প্রভাবশালী মাধ্যম হয়ে উঠবে। বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে পরিবহণের গতি ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই প্রকল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোরে যানজট হ্রাসে সহায়ক হবে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের উন্নয়ন ও সংযোগ বৃদ্ধিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"

