ETV Bharat / state

কীভাবে ভবানীপুর উপনির্বাচন থেকে জিতে এলেন মমতা ? হাইকোর্টে শুরু হচ্ছে শুনানি

ভবানীপুর বিধানসভার নিয়ে বিতর্ক নতুন নয় ৷ দীর্ঘদিন বাদে আবার কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি শুরু হতে চলেছে ৷

BHABANIPUR BY ELECTION
ভবানীপুর উপনির্বাচন সংক্রান্ত মামলা (ফাইল ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 13, 2025 at 4:39 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 13 অগস্ট: দীর্ঘদিন বাদে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন সংক্রান্ত মামলার শুনানি শুরু হতে চলেছে ৷ পুজোর পর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে'র ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলাটি শুনবে বলে জানা গিয়েছে। 2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে হেরে যাওয়ার পর এই ভবানীপুর থেকে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তাঁর নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই মামলা দায়ের হয়েছে ৷
2011 সালে মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা ৷ সেবারও সরকার গঠনের পর ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে বিধানসভার উপ-নির্বাচনে জেতেন ৷ 2016 সালের বিধানসভা নির্বাচনেও ওই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন ৷ তবে গত বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে লড়াই করেন ৷ তাঁকে পরাজিত করেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী ৷ পরে তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ৷ নিয়ম অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য যে কোনও মন্ত্রী হওয়ার 6 মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিধায়ক হতে হয় ৷ এমতাবস্থায় ভবানীপুর কেন্দ্রের তৎকালীন জয়ী প্রার্থী শোভনদেব চট্টোোপাধ্যায় পদত্যাগ করেন ৷ কয়েক মাস বাদে হওয়া উপনির্বাচনে জয়ী হন মমতা ৷ এখানেই মামলার আবেদনকারীদের প্রশ্ন, নির্দিষ্ট একজনকে জিতিয়ে আনার জন্য এভাবে কি উপনির্বাচন করা যায় ?

বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর মমতার উপনির্বাচন ঘিরে খানিকটা জটিলতার সৃষ্টি হয় ৷ সে সময় রাজ্যের মুখ্যসচিব বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছিলেন, ওই কেন্দ্রে নির্বাচন না হলে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হবে। মুখ্যসচিবের জারি করা বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের মামলা দায়ের করেন আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিষয়ে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের ডিভিশন বেঞ্চ 2021 সালের 17 নভেম্বর নির্দেশ দিয়েছিলেন নতুন করে এই মামলা নথিভুক্ত করতে । এতদিন পর সেই প্রক্রিয়া শেষে মামলা দায়ের হল ৷

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপ-নির্বাচন নিয়ে আইনি জটিলতার পাশাপাশি প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক তৎপরতাও চোখে পড়েছিল সে সময় ৷ করোনা পরিস্থিতি-সহ একাধিক কারণে বিধানসভার উপনির্বাচন কবে হয় তা নিয়ে নানা মহলে আগ্রহের সঞ্চার হয়েছিল ৷ হিসেব মতো মে মাসে শপথ নেওয়া মমতাকে নভেম্বর মাসের আগে বিধায়ক হতে হত ৷ শেষমেশ নির্ধারিত সময়ের কিছুদিন আগে তাঁর নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় ৷ আর তার ফলে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়তে হয়নি ৷

এদিকে, নির্বাচন কমিশন কী করবে তা বুঝতে না পেরে ওই সময়ে রাজ্য প্রশাসনের তরফে বিধান পরিষদ গঠনের তৎপরতাও শুরু হয়েছিল ৷ সেই মর্মে প্রস্তাবও গিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ৷ তবে তা নিয়ে আর তেমন কিছু হয়নি ৷ নানা ঘটনা প্রবাহের পর ভবানীপুরের বিধানসভার উপ-নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয় ৷ জয়ী হন মমতা ৷ তখনকার মতো তরজার সমাপ্তি হয় ৷ এবার হাইকোর্টে নতুন করে মামলার শুনানি হবে ৷