মাধ্যমিকের নম্বরে কারচুপির অভিযোগ ছাত্রীর, আসল উত্তরপত্র তলব হাইকোর্টের
2023 সালে প্রাপ্য নম্বর না মেলায় মাধাতালিকা থেকে নাম পড়েছে দিশানীর ৷ যা নিয়ে সিবিআই তদন্ত দাবি করেছেন ওই ছাত্রী ৷

Published : August 13, 2025 at 11:23 PM IST
কলকাতা, 13 অগস্ট: মাধ্যমিক পরীক্ষায় নম্বরে কারচুপির অভিযোগে ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন এক পরীক্ষার্থী ৷ হুগলির আরামবাগের আলিপুর সন্তোষ সাধারণ বিদ্যাপীঠের ছাত্রী দিশানী হাজরা অভিযোগ করেছেন, তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর জেরে 2023 সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় মাত্র দু’নম্বরের জন্য দশম স্থান হাতছাড়া হয়েছে তাঁর।
উল্লেখ্য, 2023 সালে 700 নম্বরের পরীক্ষায় দিশানীর প্রাপ্ত নম্বর ছিল 681। সেই বছর দশম স্থানাধিকারীর নম্বর ছিল 683। নিজের উত্তরপত্রের কপি হাতে পেয়েই দিশানীর দাবি, পরীক্ষক যেখানে সঠিক উত্তরের জন্য নম্বর দিয়েছিলেন, সেখানে পরবর্তী পর্যায়ে ওভাররাইট করে নম্বর কমানো হয়েছে। এই নিয়ে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।
বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানিতে দিশানীর আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরী বলেন, “সঠিক উত্তর দিয়ে প্রাপ্য নম্বর থেকেও বঞ্চিত হয়েছে দিশানী। এর ফলে মেধাতালিকায় নাম ওঠার সুযোগ হারিয়েছে সে। একজন মেধাবী ছাত্রীর কাছে এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কী হতে পারে !”
অন্যদিকে, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের আইনজীবীর দাবি, বোর্ডের পক্ষে জানা সম্ভব নয় যে, কীভাবে এমনটা ঘটে থাকতে পারে ৷ দু'পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছে, ওই ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরপত্রের সত্যতা যাচাই করা আবশ্যক। তাই আগামী 25 অগস্টের মধ্যে দিশানীর আসল উত্তরপত্র আদালতে জমা দিতে হবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে।
হাইকোর্ট সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক পরীক্ষার্থী একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। অভিযোগ, সঠিক উত্তর দেওয়া সত্ত্বেও প্রাপ্য নম্বর কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে ৷ ফলে মেধাতালিকার প্রথম দশের মধ্যে স্থান হারাচ্ছেন অনেকেই। সেই তালিকাতেই এবার যোগ হল দিশানীর নাম ৷

