2019-এ সন্দেশখালিতে তিন বিজেপি কর্মী খুনে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের
এর আগে আদালতের নির্দেশে সিআইডি তদন্ত করেছিল ৷ কিন্তু সিআইডির চার্জশিটে ছিল না মূল অভিযুক্ত শেখ শাহজাহানের নাম ৷ এই নিয়ে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট ৷

Published : June 30, 2025 at 7:48 PM IST
কলকাতা, 30 জুন: 2019 সালে উত্তর 24 পরগনার সন্দেশখালিতে তিন বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট । সোমবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত এই নির্দেশ দিয়েছেন ৷ তাঁর নির্দেশ, সিবিআইয়ের জয়েন্ট ডিরেক্টরের নেতৃত্বে ও নিম্ন আদালতের নজরদারিতে হবে তদন্ত ।
সন্দেশখালিতে 2019 সালের 6 জুন ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) তিনজন কর্মীকে খুন করে দেহ লোপাট করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে ৷ এই অভিযোগ প্রদীপ মণ্ডল, দেবদাস ও সুকান্ত মণ্ডল নামে ওই তিন কর্মীর পরিবারের তরফেই তোলা হয় ৷ ওই ঘটনায় দু’টো এফআইআর দায়ের হয় । সুপ্রিয়া মণ্ডল ও পদ্মা মণ্ডল এফআইআর দায়ের করেন । আদালতের নির্দেশেই সিআইডি তদন্ত হয় । দু’টি মামলাতেই মূল আসামি ছিলেন শেখ শাহজাহান । তাছাড়া একটিতে 28 জন এবং আরেকটিতে 24 জন অভিযুক্ত ছিলেন ।
কিন্তু আশ্বর্যজনকভাবে দু’টি মামলাতেই চার্জশিট থেকে শেখ শাহজাহানের নাম বাদ দেওয়া হয় । এরপর গত বছর 8 জানুয়ারি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাতধরে ওই তিন বিজেপি কর্মীর পরিবার ফের সিবিআই তদন্তের আর্জি নিয়ে হাইকোর্টে আসে । বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত দীর্ঘ শুনানির পর এদিন সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন । তবে মামলার শুনানি আগেই শেষ হয়েছিল ৷ সেদিন রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন বিচারপতি ৷
যেদিন মামলার শুনানি শেষ হয়, সেদিন আদালতে হাজির হয়েছিলেন এই মামলার তদন্তকারী আধিকারিক ৷ তাঁকে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, "সাক্ষীর গোপন জবানবন্দিতে অভিযুক্তদের তালিকায় এক নম্বরে শাহজাহান শেখের নাম রয়েছে ৷ তা সত্ত্বেও শাহজাহান শেখের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দিলেন কী করে ?"
তদন্তকারী অফিসার বলেন, ‘‘বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি সাক্ষীকে ।’’ তখন বিচারপতি বলেন, "আপনি ঠিক করবেন কে বিশ্বাসযোগ্য আর কে বিশ্বাসযোগ্য নয় ?" সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ ঠিকমতো করা হয়নি বলেই অভিমত আদালতের ।
অন্যদিকে গতবছর সন্দেশখালির ঘটনা সামনে আসার পর পুলিশ তড়িঘড়ি ফের শাহজাহানের নাম অন্তর্ভুক্ত করে চার্জশিট দিতে তোড়জোড় শুরু করে । তাতে ক্ষুব্ধ বিচারপতি মামলার শুনানিতে বলেন, "এতদিন ধরে কী করছিলেন ? চার-পাঁচ বছর ধরে এক অবস্থান, আজ এতদিনে হঠাৎ কী এমন ঘটলো যে আপনারা অতিরিক্ত চার্জশিট দিতে মরিয়া হলেন ?’’
বিচারপতির আরও প্রশ্ন, ‘‘আগে কেন মূল অভিযুক্তর নাম বাদ গেল ? আর আজ হঠাৎ তাঁর নাম জুড়েই বা চার্জশিট দেওয়ার চেষ্টা কেন ? এটা ঠিক নয় । মানুষের বুঝতে কিছু বাকি থাকে না ।"

