ETV Bharat / state

আইনজীবীদের হেনস্তার ঘটনা আদালত অবমাননা, পুলিশ কমিশনারের রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের

বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য-সহ তিন আইনজীবীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঘটনায় অভিযুক্তদের নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দিল হাইকোর্ট ৷ পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে ৷

Lawyer Bikash Ranjan Bhattacharya
আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (ছবি: প্রবীণ আইনজীবীর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : May 2, 2025 at 4:13 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 2 মে: এসএসসি'র বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের তরফে তিন আইনজীবী- বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, ফিরদৌস শামিম এবং সুদীপ্ত দাশগুপ্তর চেম্বারের সামনে বিক্ষোভ এবং তাঁদের উপর চড়াও হওয়ার ঘটনায় আট অভিযুক্তের নাম সামনে এলো ৷ শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট এই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নোটিশ জারির নির্দেশ দেয় ৷ পাশাপাশি কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মাকে 19 মে-র মধ্যে ওই দিনের ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট জমারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । আইনজীবীর সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তাকে আদালত অবমাননাই হিসেবে দেখছে হাইকোর্ট ৷

এই ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে আট জনের নাম আছে ৷ তাঁরা হলেন- রাজু দাস, শুভেন্দু দাস, অতনু রায়, তপনকুমার মণ্ডল, চন্দন মৃদ্দা, শিবানী কুইট্টি এবং সঞ্জয় বৈরাগী নামে আট চাকরিপ্রার্থী ৷ এছাড়া অভিযোগের ঘটনায় ইন্ধন জোগানোর অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেতা ঘোষের বিরুদ্ধে ৷

ঘটনাটি ঠিক কী ?

গত 25 এপ্রিল, শুক্রবার বিকেলে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে কর্মশিক্ষা ও শারীর শিক্ষায় সুপার নিউমেরারি পোস্ট তৈরি সংক্রান্ত মামলার শুনানি শেষ হয় ৷ এরপরই এসএসসি-র 2016 সালের প্যানেলভুক্ত শিক্ষকদের তরফের আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য ও আইনজীবী ফিরদৌস শামিম-দের চেম্বারের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন এই আট চাকরিপ্রার্থী ৷ তিন আইনজীবী দায়ের করা মামলার জন্য ওই প্রার্থীদের নিয়োগ আটকে গিয়েছে বলে দাবি করে স্লোগান দেওয়া হতে থাকে ৷ এরই সঙ্গে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তোলা হয় ৷ ওইদিন রাতে আইনজীবীরা তাঁদের চেম্বার থেকে বেরনোর সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তিও হয় ৷

আদালতের পর্যবেক্ষণ

বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ভিডিয়ো ফুটেজ দেখে এই ঘটনাকে ফৌজদারি অপরাধের সমান বলেই মনে করা হচ্ছে । বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা ৷ এ ব্যাপারে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল ৷ আমরা সমস্ত ফুটেজ এবং নথি দেখেছি ৷ পেন ড্রাইভে দেওয়া ফুটেজ দেখেছি ৷ দেখে আমাদের মনে হয়েছে এটা একটা ক্রিমিনাল কন্টেম্পট ৷ আদালত অবমাননা করা হয়েছে ৷ অভিযুক্তদের নোটিশ দেওয়া হোক ৷ তাঁরা কী প্রতিক্রিয়া দেন বা তাঁদের বক্তব্য কী সেটা জানা প্রয়োজন ৷" এই মামলার পরবর্তী শুনানি 19 মে ৷ ওই দিন বেলা সাড়ে বারোটায় মামলা শুনবে বেঞ্চ ৷


পুলিশকে নির্দেশ বেঞ্চের

আবেদনকারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন অভিযুক্তদের নোটিশ পাঠান ৷ অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে তাঁদের বক্তব্য জানানোর জন্য 14 দিন সময় দিয়েছে হাইকোর্ট ৷ পুলিশ প্রশাসনকে আদালতের নির্দেশ, ঘটনার দিনের ওল্ড পোস্ট অফিস ও কিরণ শঙ্কর রায় রোডের সিসি ফুটেজ বেলা 3টে রাত 9টা পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে ৷ সিসি ফুটেজ দেখে কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে হবে ৷ এরপর মে মাসের 19 তারিখের মধ্যে পুলিশকে রিপোর্ট জমা করতে হবে ৷ পরবর্তী সময়ে এই ঘটনা যেন আর না ঘটে এবং হাইকোর্ট চত্বরে আইনজীবীদের নিরাপত্তা যেন ব্যাহত না হয়, সেই বিষয়টি খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মাকে ৷