ETV Bharat / state

আরজি করের নির্যাতিতার মায়ের চোট কি শাস্তিযোগ্য অপরাধ ? তদন্তের নির্দেশ আদালতের

গত 9 অগস্ট নবান্ন অভিযানের দিন কপালে চোট পান আরজি করের নির্যাতিতার মা ৷ পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে ৷

Calcutta High Court
কলকাতা হাইকোর্ট (ফাইল ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : September 10, 2025 at 1:57 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 10 সেপ্টেম্বর: নবান্ন অভিযানের দিন আরজি করের নির্যাতিতার মায়ের কপালে আঘাত লাগে ৷ পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অভিযোগ করে তিনি এবং তাঁর স্বামী ৷ বিজেপিও একই অভিযোগ করে ৷ এই ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্ট কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মাকে নির্দেশ দিল ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার এক আধিকারিককে নিযুক্ত করে এই ঘটনার তদন্ত করতে হবে ৷

বুধবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ নির্দেশে জানিয়েছেন, বেসরকারি হাসপাতাল আরজি করের নির্যাতিতার মায়ের চিকিৎসার যে রিপোর্ট দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখবেন ওই তদন্তকারী আধিকারিক ৷ প্রয়োজনে তিনি এফআইআর দায়ের করবেন ৷ তিনি বিবেচনা করে দেখবেন, এই ঘটনায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের মতো কোনও ঘটনা ঘটেছে কি না ৷ যদি সেরকম কিছু না-ঘটে থাকে, তাহলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের থেকে অনুমতি নিয়ে মামলা বন্ধ করে দেবেন ৷

এদিন আরজি করের নিহত চিকিৎসকের মায়ের চিকিৎসা সংক্রান্ত বেসরকারি হাসপাতালের রিপোর্টে দেখা যায় তাঁর কপালে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে ৷ তারপরই বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জানান, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এটি ন্যায়বিচারের স্বার্থে ৷ তাই এই বিষয়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে তদন্ত করে দেখতে হবে ৷

এই ঘটনায় নিউ মার্কেট থানার পুলিশ ও শেক্সপিয়র থানার পুলিশের দেওয়া রিপোর্টে সন্তুষ্ট নয় কলকাতা হাইকোর্ট ৷ কারণ দু'টি রিপোর্টেই উল্লেখ করা হয়েছে, তেমন গুরুতর কিছু হয়নি ৷ তাই এই মামলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ৷ আরজি করের নির্যাতিতার মাকে ধর্মতলা থেকে পার্কস্ট্রিট যাওয়ার মুখে আটকে দেয় পুলিশ ৷ সেখানেই মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন অভয়ার মা ৷

বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, "বেসরকারি হাসপাতালটি রিপোর্টে জানিয়েছে কপালে আঘাত রয়েছে ৷ সত্য উদঘাটনের জন্য কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে, ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার একজনকে নিযুক্ত করতে নির্দেশ দিচ্ছি ৷ তিনি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে রিপোর্ট নিয়ে খতিয়ে দেখবেন এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ কি না ৷ না-হলে সিজেএম কলকাতাকে জানিয়ে মামলা বন্ধ করে দেবেন ৷"

গত বছরের 9 অগস্ট সকালে আরজি কর হাসপাতালের চারতলায় সেমিনার হলে তরুণী চিকিৎসকের দেহ পাওয়া যায় ৷ তদন্তে জানা যায়, তাঁকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে ৷ এই ঘটনার বর্ষপূর্তিতে চলতি বছর 9 অগস্ট নবান্ন অভিযানের ডাক দেয় বিরোধী বিজেপি ৷ এই অভিযানে অংশ নেন নির্যাতিতার বাবা ও মা ৷

অভিযানের সময় কিড স্ট্রিট ও জওহরলাল নেহেরু রোডের জংশনে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি হয় ৷ তখনই আহত হন আরজি করের নির্যাতিতার মা ৷ পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, নির্যাতিতার বাবা ও মায়ের উপর পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে ৷ রাস্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েন নিহত চিকিৎসকের মা ৷ তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ সেখানে সাময়িক চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় ৷

এই ঘটনার পরদিন নির্যাতিতা ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রীর মেডিক্যাল রিপোর্ট বদল দিয়েছে বেসরকারি হাসপাতাল ৷ তিনি বলেন, "বাইপাসের ধারের ওই বেসরকারি হাসপাতালের ভূমিকায় আমরা মোটেই সন্তুষ্ট নই। গতকালের মেডিক্যাল রিপোর্টের সঙ্গে আজকের মেডিক্যাল রিপোর্টের কোনও মিল নেই। বিস্তর ফারাক রয়েছে ৷ যে রিপোর্টটা রবিবার আমাকে দেখিয়েছিল, যেটায় আমার থেকে সই নিয়েছিল, সেটায় যা লেখা ছিল আর আজ যে রিপোর্ট আমার হাতে তুলে দিচ্ছে, সেটা অন্যরকম ৷ সেটায় অন্য কিছু লেখা রয়েছে ৷ যেমন, আজ রিপোর্টে বলছে, একটা র‌্যালি থেকেই দুর্ঘটনা ঘটছে। পুলিশ যে মেরে ঘটিয়েছে, সেটার উল্লেখ নেই ৷ অথচ গতকাল পুলিশের মারার বিষয়টি রিপোর্টে উল্লেখ ছিল ৷"

এমনকী এই ঘটনার অভিযোগ দায়ের করতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হয়েছেন তিনি ৷ শেষ পর্যন্ত তিনি এফআইআর কোথায় করতে হবে তা জানতে চেয়ে পুলিশ কমিশনারকে ইমেল করেন । সেই ইমেলে ডিসি সাউথ, ডিসি সেন্ট্রাল, পার্কস্ট্রিট এবং নিউমার্কেট থানাও সিসিতে রয়েছে ।

এদিন বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এই আঘাত পুলিশের দ্বারা হতে পারে ৷ নবান্ন অভিযানের দিন যে জনসমাগম হয়েছিল সেই জনসমাগমের হুড়োহুড়ি থেকেও হতে পারে ৷ অথবা ধাক্কাধাক্কিতে কোথাও পড়ে গিয়ে হতে পারে ৷ এর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন ৷