এপারের 3 পরিযায়ী শ্রমিককে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ বিএসএফের বিরুদ্ধে
বিজিবি তাঁদের বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি । তাই তাঁরা বাংলাদেশের পাটগ্রাম থানা এলাকার একটি মাঠে রয়েছেন । এলাকাটি শ্রীরামপুর বিজিবির অধীনে ।

Published : June 15, 2025 at 6:53 PM IST
মুর্শিদাবাদ, 15 জুন: মুম্বইয়ে কাজে গিয়ে মুর্শিদাবাদের তিন পরিযায়ী শ্রমিকের ঠাঁই হল বাংলাদেশের জিরো পয়েন্টের মাঠে । অভিযোগ, তিনজনের কাছে ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁদের মারধর করে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দিয়েছে বিএসএফ । শনিবার ভোরে ওই তিনজনকে একটি বাংলাদেশি দলের সঙ্গে কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানা এলাকার চ্যাংড়াবান্দা সীমান্ত এলাকা দিয়ে সেদেশে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ ।
জানা গিয়েছে, বিজিবি তাঁদের বাংলাদেশ প্রবেশের অনুমতি দেয়নি । তাই তাঁরা বাংলাদেশের পাটগ্রাম থানা এলাকার একটি মাঠে রয়েছেন । এলাকাটি শ্রীরামপুর বিজিবির অধীনে । ওই তিন ভারতীয় নাগরিক হলেন হরিহরপাড়া থানার তরতিপুরের বাসিন্দা নাজিমুদ্দিন মণ্ডল, বেলডাঙা থানার কাজিশাহের বাসিন্দা মিনারুল শেখ এবং ভগবানগোলা থানার রাধিকান্তপুরের বাসিন্দা মেহেবুব শেখ । এদিকে মুর্শিদাবাদে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এই তিনজনের পরিজনেরা । তাঁদের ফিরিয়ে আনতে আত্মীয়স্বজন জেলা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন ।
অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (হেড কোয়ার্টারর্স) মজিদ ইকবাল বলেন, "অভিযোগ পেয়েছি । পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে । দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।"
স্থানীয় সূত্রে খবর, কেউ দেড় বছর, কেউ এক বছর মুম্বইয়ে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করছিলেন । গত 12 জুন মুম্বইয়ের কানকিয়া থানার পুলিশ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি সন্দেহে তাঁদের আটক করে । মুর্শিদাবাদের তিন বাসিন্দা নিজেদের পরিচয় পত্র দেখানোর পরও পুলিশ সেগুলিকে ভুয়ো বলে সন্দেহ করে বলে দাবি তিন শ্রমিকের । মিনারুলের দাদা মানিজুল শেখ বলেন, "আমরা কয়েক পুরুষ ধরে ভারতীয় । ভিটে, জমি, সরকারি নথি সব প্রমাণ রয়েছে । কিন্তু মুম্বই পুলিশ আসল বলে মানতে চায়নি ।"

13 জুন বাংলাদেশি দলের সঙ্গে ওই তিনজনকে বিএসএফের উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের শিলিগুড়ি হেড কোয়ার্টারের হাতে তুলে দেয় মুম্বই পুলিশ । 14 জুন ভোর চারটে নাগাদ চ্যাংড়াবান্দা বর্ডার দিয়ে সকলকে বাংলাদেশে পাঠানো হয় । কিন্তু বিজিবি তাঁদের বাংলাদেশ অনুপ্রবেশের অনুমতি দেয়নি । সকলের ঠাঁই হয় পাটগ্রাম থানা এলাকার মাঠে । সেখান থেকে দেশে ফেরানোর আহ্বান জানিয়ে একটি ভিডিয়ো বার্তা সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয় । যদিও ওই ভিডিয়ো বার্তার সত্যতা যাচাই করেনি ইটিভি ভারত ।
এদিকে স্বামী বাংলাদেশে রয়েছে, কীভাবে ফিরবে, আদেও ফিরবে কি না এই আতঙ্কে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মেহেবুব শেখের স্ত্রী শবনম খাতুন ও নাজিমুদ্দিন মণ্ডলের স্ত্রী রাশিদা বিবি । তাঁদের কথায়, "মুখ্যমন্ত্রী আমাদের স্বামীদের ফেরানোর ব্যবস্থা করুন ৷ বাড়িতে ছোট ছেলেমেয়ে রয়েছে ৷ না খেতে পেয়ে আমরা মরে যাব ৷"

