বড়মার পুজোর ভিড় সামলাতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ পুলিশের, দীপাবলির পরদিন আসবেন অভিষেক
প্রথা মেনে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন হয়েছে কাঠামো পুজো৷ 20 অক্টোবর বড়মার পুজো৷ তার আগে 13 অক্টোবর থেকে পুজোর কাউন্টার খুলে দিচ্ছে মন্দির কর্তৃপক্ষ৷

Published : October 7, 2025 at 8:36 PM IST
নৈহাটি (উত্তর 24 পরগনা), 7 অক্টোবর: বড়মার কাঠামো পুজোর মধ্যে দিয়ে নৈহাটিতে শুরু হয়ে গেল কালীপুজোর প্রস্তুতি। পুজোর পরের দিন অর্থাৎ 21 অক্টোবর বড়মাকে পুজো দিতে আসবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বড়মার পুজোর ভিড় সামলাতে ও অভিষেকের সফরের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রস্ততির জন্য নৈহাটির অরবিন্দ রোডের এলাকাটি ইতিমধ্যে সরজমিনে খতিয়ে দেখেছেন ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা। বড়মার মন্দির কমিটির অফিসে এই নিয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকও করেছেন তিনি। কোন রাস্তা দিয়ে সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায় আসবেন, লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড় কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তার জন্য অরবিন্দ রোডের গোটা এলাকাটি পায়ে হেঁটে ঘুরে তার পরিকল্পনাও করেন পুলিশ কমিশনার।

তবে, অভিষেকের সফরসূচি নিয়ে এখনই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইছে না প্রশাসন। সাধারণত ভিআইপি কোনও ব্যাক্তির সফর প্রসঙ্গে গোপনীয়তা বজায় রাখা হয় পুলিশ-প্রশাসনের তরফে। এক্ষেত্রেও তেমনটাই করা হচ্ছে। যদিও মন্দির কমিটি সূত্রে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড়মাকে পুজো দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বড়মাকে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি তিনি মন্দিরে মায়ের কষ্টিপাথরের মূর্তিতেও পুজো দেবেন বলে ঠিক হয়ে রয়েছে এখনও অবধি।

এই বিষয়ে ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার বলেন, "যেকোনও ভিআইপি-দের ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এটা নতুন কিছু নয়। বড়মার পুজোর ভিড় সামলানোর জন্য একগুচ্ছ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নজরদারি চালাতে পর্যাপ্ত সিসিটিভির পাশাপাশি ড্রোনেরও ব্যবস্থা থাকছে। সুষ্ঠুভাবে পুজো সামাল দেওয়াই হবে মূল লক্ষ্য।

প্রসঙ্গত, এবার নৈহাটির বড়মার পুজো 102 বছরে পা দিল। 22 ফুট উচ্চতার ঘন কালো কৃষ্ণবর্ণের কালী প্রতিমা পূজিত হন অরবিন্দ রোডে। শুধু বড়মা নয়, ব্যস্ত অরবিন্দ রোডে সাতটি বড় কালীপুজো হয়ে থাকে। ইতিমধ্যে সবক’টি পুজোরই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে, জাগ্রত বড়মার প্রতিমা বিসর্জন না-হওয়া অবধি নৈহাটির কোনও কালীপুজোর বিসর্জন হয় না। যুগ যুগ ধরে এই নিয়মই হয়ে আসছে নৈহাটিতে।

কালীপুজোর খ্যাতির কথা যদি বলতে হয়, তাহলে সবার প্রথমে আসে নৈহাটির বড়মার নাম। এমনিতেই সারা বছর ভক্তদের ভিড় লেগে থাকে সেখানে। কালী পুজোর সময় সেই ভিড় ছাপিয়ে যায় সব কিছুকে। এবছরও তার ব্যতিক্রম হবে না বলেই মনে করছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। তার জন্য বড়মার মন্দিরে কাঠামো পুজোর দিন থেকেই প্রস্ততি নেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। ভিড় সামাল দিতে এদিনই মন্দির কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়েছে ব্যারাকপুর কমিশনারেট।

সাংসদ, বিধায়কের উপস্থিতিতে হওয়া সেই প্রশাসনিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে৷ অপ্রীতিকর কোনও ঘটনা যাতে না-ঘটে তার জন্য এবার আরও উন্নত পরিকল্পনা করা হবে। ভিআইপি-সাধারণ মানুষ যাতে একসঙ্গে বড়মার দর্শন করতে পারে সেই ব্যবস্থা এবং নজরদারির জন্য পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি থাকবে ড্রোনের ব্যবস্থাও।
এছাড়া বড়মার কালীপুজো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রেল পুলিশ, পিডব্লিউডি, বিদ্যুৎ দফতর। সকলকে নিয়ে একসঙ্গে বৈঠক করা হবেও আলোচনা হয়েছে এদিনের বৈঠকে। প্রতি বছরই পুজোর সময় দণ্ডি কেটে বড়মার কাছে বহু ভক্ত 'মানত' করেন। তা করতে গিয়ে ভক্তদের যাতে কোনও সমস্যা না-হয় তার দিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়া হবে বলেও জানা গিয়েছে প্রশাসন সূত্রে।

এদিকে, কালীপূজার চারদিন 22 ফুট উচ্চতার ঘন কালো কৃষ্ণবর্ণের বড়মাকে দেখতে যে রেকর্ড ভিড় হবে, সেই আভাস মিলেছে কাঠামো পুজোর দিন থেকেই।
ভক্তদের ভিড়ের কথা মাথায় রেখে এবছর কালীপুজোর সাত দিন আগে থেকেই পুজো গ্রহণ করা হবে। এমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বড়কালী পুজো সমিতি। মন্দির কমিটি সূত্রে খবর, গতবারের মতো এবারও অনলাইনে পুজো দেওয়ার ব্যবস্থা থাকছে। কুপন নেওয়ার পর অনলাইনে ভক্তের নাম-গোত্র পাঠিয়ে দিলেই হবে। পুজো হয়ে যাবে সেই ভক্তের। বিগত বছরগুলির মতো এবছরও নৈহাটির শিল্পী শুভেন্দু সরকার বড়মার প্রতিমা তৈরি করছেন। কালীপুজোর দিন সুউচ্চ ‘বড়মা’কে সোনা ও রুপোর গয়না দিয়ে সাজানো হবে।

এই বিষয়ে নৈহাটি বড়কালী পুজো সমিতির সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য বলেন, "প্রতি বারই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন বড়মার কাঠামো পুজো হয়। এদিন থেকেই কালী আরাধনা শুরু হয়ে যায় নৈহাটিতে। 20 অক্টোবর রাতে মায়ের পুজো হবে। সেদিন বাইরে থেকেও প্রচুর ভক্ত আসেন বড়মার পুজো দিতে। তাই এছর আমরা 13 অক্টোবর থেকে পুজো দেওয়ার কাউন্টার খুলে দিচ্ছি। ভিড়ের কথা মাথায় রেখে নৈহাটিবাসীদের কাছে আবেদন করব, আপনারা পুজোর রাতে না এসে আগের দিন রাতে এসে পুজো দিয়ে যান। পুলিশের পাশাপাশি বহু স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন থাকবে মন্দির চত্বরে। যাতে ভক্তরা নির্বিঘ্নে পুজো দিতে পারেন।"

