বিজেপির সমর্থক নই, মুচলেকা দিতে গিয়ে তৃণমূল কার্যালয়ে মহিলার যৌন নিগ্রহ !
তিনি বিজেপির সমর্থক নন। তা জানাতে তৃণমূলের কার্যালয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতনের 'শিকার' মহিলা ৷ অভিযোগ, তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন ৷

Published : March 9, 2025 at 7:48 PM IST
নারায়ণগড়, 9 মার্চ: অঞ্চল সভাপতির কাছে মুচলেকা জমা দিতে তৃণমূল কার্যালয়ে গিয়েছিলেন এক মহিলা ৷ অভিযোগ, সে সময় তৃণমূল কার্যালয়ে তাঁর উপর যৌন নির্যাতন করেন শাসক শিবিরের অঞ্চল সভাপতি লক্ষ্মীকান্ত শীট ৷ আরও অভিযোগ, ওই মহিলা বিজেপি সমর্থক ছিলেন ৷ কিন্তু তৃণমূলের তরফে তাঁকে রাজনীতি ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল ৷ বিরোধী দলের সমর্থক হওয়ায় তাঁর উপর যৌন নির্যাতন করেছেন অঞ্চল সভাপতি ৷ এমনটাই দাবি নির্যাতিতার পরিবারের। এই বিষয়ে জেলার পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার জানিয়েছেন, ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশের কাছে দু'পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে ৷ পুরো বিষয়টা জেলা পুলিশ খতিয়ে দেখছে ৷
কী অভিযোগ?
নির্যাতিতার দাবি, রবিবার সকাল 10টার সময় এই ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় থানা এলাকায় ৷ তিনি বিজেপিকে সমর্থন করতেন ৷ তাই এলাকার প্রভাবশালী ব্লক সভাপতি তাঁকে বারবার রাজনীতি ছাড়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন ৷ চাপের মুখে তিনি বিজেপি ছেড়ে দেন ৷ কিন্তু বিজেপি ছাড়ার কথা তাঁকে লিখিত জমা দিতে বলা হয় ৷ এদিন সকালে তাঁকে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয় ৷ তিনি সেই লিখিত চিঠি নিয়ে গিয়েছিলেন তৃণমূল কার্যালয়ে ৷ তারপর তৃণমূল নেতারা যৌন নির্যাতন চালান বলে তাঁর অভিযোগ ৷
নির্যাতিতার পরিবার কী বলছে ?
এই ঘটনায় নির্যাতিতা মহিলার স্বামী বলেন, "আগে আমার স্ত্রী বিজেপি করতেন ৷ কিন্তু তারপর বিভিন্নভাবে চাপ দিতে থাকেন তৃণমূলের নেতারা। বাধ্য হয়ে তিনি বিজেপি ছেড়ে দিয়েছেন ৷ কিন্তু এখানকার ব্লক সভাপতির বক্তব্য তাঁকে লিখিতভাবে পার্টি অফিসে এসে জানাতে হবে যে, তিনি বিজেপি ছেড়েছেন ৷ এই লেখাটি নিয়ে তিনি পার্টি অফিসে গিয়েছিলেন ৷ সেখানেই তাঁর উপর অত্যাচার হয় ৷ স্ত্রী আমাকে বলেছেন, তুমি কোনওভাবে লক্ষ্মী শীটকে ছাড়বে না ৷ আমার মনে হয় ওঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে ৷"
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুরের শেষ প্রান্ত নারায়ণগড় থানার ডাওকা এলাকায় ওই দম্পতি থাকেন ৷ তাঁদের একটি ওষুধের দোকান রয়েছে ৷ নির্যাতিতার স্বামী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ৷ অভিযোগে তিনি এলাকার ব্লক সভাপতি তথা মকরামপুরের অঞ্চল সভাপতি লক্ষ্মীকান্ত শীটের নাম উল্লেখ করেন ৷ তিনি জানান, তৃণমূল নেতার চাপের মুখে তাঁর স্ত্রী বিজেপি ছেড়ে দেন ৷
নির্যাতিতা কেমন আছেন ?
এই ঘটনার পর স্ত্রী পার্টি অফিসেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মাটিতে পড়ে যান বলে স্বামী জানিয়েছেন ৷ তাঁকে এলাকার কয়েকজন তৃণমূল নেতাই প্রথমে মকরামপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান ৷ সেখান থেকে তাঁকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে আসা হয় ৷ এরপরই এই তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয় থানায় ৷ এই ঘটনায় মেদিনীপুর শহরে পুলিশ সুপারের দফতরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন বিজেপি নেতারা ৷ তাঁরা ওই তৃণমূলর নেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ৷
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, "এরকম একটি ঘটনার খবর শুনেছি ৷ থানায় অভিযোগ হোক ৷ ওই মহিলার মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হোক ৷ যদি ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হয়, তাহলে আমরা দল থেকে কাউকে রেয়াত করব না ৷ এই ঘটনার সঙ্গে যদি তৃণমূলের ব্লক সভাপতি জড়িয়ে থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে দল ৷" বিজেপির জেলার সহ-সভাপতি রমাপ্রসাদ গিরি বলেন, "এই মহিলা অনেকদিন আগেই বিজেপি ছেড়ে দিয়েছেন ৷ কারণ, ওখানকার শাসকদলের নেতারা চাপ দিচ্ছিলেন । তারপরও আজ তাঁকে আক্রান্ত হতে হল ৷ এলাকার তৃণমূল ব্লক সভাপতি তাঁকে চাপ দিয়ে লিখিত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন ৷ যা দিতে গিয়েই তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হলেন ৷ আমরা পুলিশকে বলে ওই মহিলাকে উদ্ধার করতে পেরেছি ৷ এরই সঙ্গে শাসকদলের এই নেতা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি ৷"

