কোচবিহারে শুভেন্দুর কনভয়ে হামলা ! উদয়ন-পুলিশ সুপারকে দুষলেন বিরোধী দলনেতা
কনভয়ে হামলার নেপথ্যে রোহিঙ্গারা আছে বলে মনে করছেন শুভেন্দু ৷ বিরোধী দলনেতা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় সর্বাত্মক প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে রাজ্য় বিজেপি ৷

Published : August 5, 2025 at 1:36 PM IST
কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি, 5 অগস্ট: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলা ৷ বিজেপির অভিযোগ মঙ্গলবার দুপুরে কোচবিহারে খাগড়াবাড়ি এলাকায় হাতে কালো পতাকা নিয়ে 'জয় বাংলা' স্লোগান দিতে দিতে একদল তৃণমূল সমর্থক এই হামলা চালিয়েছে ৷ তার জেরে কনভয়ে থাকা কয়েকটি গাড়ির কাচ ভেঙেছে ৷ ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিজেপি ৷ রাজ্যের সর্বত্র প্রতিবাদ সংগঠিত করার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য় সভাপতি তথা রাজ্য়সভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য ৷ সদ্য় প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পথে নেমে প্রতিবাদ হবে ৷
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে খাগরাবাড়িতে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়লেন শুভেন্দু। হামলার জন্য সরাসরি রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ এবং কোচবিহারের পুলিশ সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্য দায়ী করেছেন এই বিজেপি নেতা ৷ তাঁর দাবি, রোহিঙ্গাদের সামনে রেখেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে ৷
কীভাবে হামলা ?
অভিযোগ, পুলিশের সামনেই শুভেন্দু অধিকারির কনভয়ে হামলা চালিয়েছেন তৃণমূল কর্মীরা । এদিন সকাল থেকে শুরু হয় প্রতিবাদ-কর্মসূচি ৷ শুভেন্দু অধিকারি আসার আগ থেকে কোচবিহারের 19টি জায়গায় অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন শাসক শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা। কর্মসূচিতে যোগ দেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীও। তিনি বলেন, "যারা বাংলা ভাষাকে আক্রমণ করবে তাদের বিরুদ্ধে কালো পতাকা দেখানো হবে। বিক্ষোভ হবে। তারা যেখানে যাবে সেখানেই প্রতিবাদ হবে ৷ কোচবহারের মাটিতেও এটাই হবে। কোচবিহারের প্রত্যেক এলাকায় বিজেপির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করব। কোচবিহারকে আমরা বিজেপি মুক্ত করে ছাড়ব ৷"
সংঘাতের প্রেক্ষাপট
কয়েকদিন আগে থেকেই কোচবিহারের পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করার সময় চাইছেন বিরোধী দলনেতা। কিন্তু সেই সময় না পেয়ে বিজেপির কালচিনির বিধায়ক বিশাল লামা কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিটে বেঞ্চের দ্বারস্থ হন। পুলিশের সুপারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেয় আদালত। শনিবার জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এই মর্মে নির্দেশ দেন ৷ সেই মতো শুভেন্দু ও বিশাল-সহ বিধায়করা কোচবিহারের দিকে রওনা দেন ৷ এদিন দুপুর দেড়টা থেকে দুটোর মধ্যে দেখা করার কথা ছিল ৷ তার আগেই শুভেন্দুর কনভয়ে হামলা হল ৷
রোহিঙ্গা-যোগের দাবি শুভেন্দুর
হামলা প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, "আমাদের উপর প্রাণঘাতী হামলা হয়েছে। প্রত্যক্ষভাবে উদয়ন গুহ আক্রমণ করেছেন ৷ কোচবিহারের পুলিশ সুপারের মদতেই এই আক্রমণ হয়েছে। বুলেট প্রুফ গাড়ি ভেঙেছে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিয়ে এসে আক্রমণ করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের নির্দেশ মেনেই আমি কোচবিহারের জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। পুলিশ আগে থেকেই এই কর্মসূচির কথা জানত। তারপরও খাগরাবাড়িতে মন্ত্রী উদয়ন গুহের নেতৃত্বে আক্রমণ করা হয়। আমার বুলেট প্রুফ গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। আমি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হব। শুধু বুলেট প্রুফ গাড়িতে ছিলাম বলে বেঁচে গিয়েছি।" পরে কাচ ভাঙা গাড়ি নিয়েই রওনা দেন শুভেন্দু ৷ সেখান থেকে সরাসরি কোচবিহরের বিজেপি কার্য৷লয়ে পৌঁছন ৷ সেখান থেকে হেঁটে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের দিকে রওনা দেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক ৷
সর্বাত্মক আন্দোলনের ডাক শমীকের
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এক অডিও বার্তায় বলেছেন, "সংসদীয় গণতন্ত্রে মুখ্য়মন্ত্রীর পরই বিরোধী দলনেতার স্থান ৷ এখন বিজেপির কর্মী থেকে শুরু করে বিধায়করা আক্রান্ত হচ্ছেন ৷ আমাদের বহু কর্মী এখনও ঘরছাড়া ৷ আজ বিরোধী দলনেতার উপর ঘৃণ্য আক্রমণ হয়েছে ৷ তৃণমূলের আচরণের প্রতিবাদে রাজ্যের সর্বত্র পথঅবরোধ থেকে শুরু করে পথসভা করতে হবে ৷ কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ এবং সাগর থেকে পাহাড়-রাজ্যের যেখানে যত বিজেপি কর্মী আছেন সবাই পথে নামুন ৷ আজ যে হামলা হয়েছে তা শুধু বিরোধী দলনেতার উপর আক্রমণ নয়, সার্বিকভাবে বিজেপির উপর আক্রমণ ৷ রাজ্যের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর আক্রমণ ৷ সর্বশক্তি দিয়ে এর প্রতিবাদ করতে হবে ৷"
জলপাইগুড়িতেও অশান্তি
শিলিগুড়ি থেকে কোচবিহার যাওয়ার পথেও রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে তৃণমূলের প্রতিবাদের মুখে পড়তে হয়। জলপাইগুড়ির পাহাড়পুর মোড়ে 27 নম্বর জাতীয় সড়কে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ কর্মসূচী নেওয়া হয়। শুভেন্দুর কনভয় দেখে “চোর! চোর! চোরটা! শিশির বাবুর ছেলেটা "-এই স্লোগান তুলে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের। যে পথ দিয়ে শুভেন্দু অধিকারির কনভয় গিয়েছে সেখানে গোবর জল দিয়ে 'শুদ্ধিকরণ-এর কর্মসূচিও নেন শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক দেবজিৎ সরকারের অভিযোগ, "শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় যাওয়ার ফলে রাস্তা “অপবিত্র” হয়েছে। আমরা গোবর জল ও গঙ্গাজল দিয়ে রাস্তার শুদ্ধিকরণ করলাম।"

