ETV Bharat / state

'মমতা-সৌগত বাবর আমলের লোক', মেয়েদের বাইরে বেরনোর মন্তব্যে সুকান্ত'র খোঁচা

শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন ৷ এবার সাংসদ সৌগত রায়কেও বিঁধলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। অন্যদিকে, সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিমের দাবি, মমতা 1 নম্বর মিথ্যেবাদী ৷

SUKANTA SLAMS MAMATA
মেয়েদের বাইরে বেরনোর মন্তব্য ঘিরে সুকান্ত'র খোঁচা (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : October 13, 2025 at 8:08 PM IST

5 Min Read
Choose ETV Bharat

মালদা, 13 অক্টোবর: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়কে একযোগে বিঁধলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। রাতে মেয়েদের বাইরে বেরনো প্রসঙ্গে সুকান্ত বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সৌগত রায়ের কথা শুনে মনে হচ্ছে, এনারা বাবরের আমলের লোক। টাইম মেশিন থাকলে ওনাদের তাতে চাপিয়ে বাবরের আমলেই পাঠানো যেতো ৷"

গতকাল উত্তরবঙ্গ যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়ার গণধর্ষণ কাণ্ড নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, "ওই মেয়েটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে পড়ছিল ৷ সেখানে কার দায়িত্ব ? রাত সাড়ে 12টার সময় তাঁরা কী করে বাইরে গেল ? আমি যতটুকু জানতে পেরেছি, তাতে ঘটনাটি জঙ্গল এলাকায় ঘটেছে ৷ রাত সাড়ে বারোটায় কী ঘটেছে, জানি না ৷ তদন্ত চলছে ৷ তবে পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত করছে ৷" এরপরই দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ৷

বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার (ইটিভি ভারত)

এদিন সুকান্তর মন্তব্যে উঠে আসে মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন, বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূলের সভাপতি এমনকী রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর কথাও ৷ উত্তর মালদার সাংসদ খগেন মুর্মু ও শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের উপর হামলার প্রতিবাদে সোমবার বিক্ষোভ মিছিল ও জেলাশাসকের অফিসের সামনে প্রতিবাদ সভার কর্মসূচি নেয় মালদা জেলা বিজেপি।

SUKANTA SLAMS MAMATA
সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (ইটিভি ভারত)

এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, হবিবপুর ও মালদা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক জয়েল মুর্মু ও গোপাল সাহা-সহ বিজেপির অন্যান্য নেতা-কর্মীরা। দুপুর 2টো নাগাদ টাউন হলের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শহর পরিক্রমা করে জেলা প্রশাসনিকভবন চত্বরে পৌঁছয়। বিজেপি কর্মীরা প্রথমে ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে গেলে পরে বাঁশের খুঁটি দিয়ে তৈরি ব্যারিকেড টপকাতে পারেননি। সেই বাঁশের ব্যারিকেডে উঠে স্লোগান দিতে দেখা যায় সুকান্ত মজুমদার, জয়েল মুর্মুকে।

সভা মঞ্চ থেকে সুকান্ত বলেন, "ইংরেজবাজার পুরসভায় তৃণমূলের একজন নেতা আছেন, যিনি মমি হয়ে গিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে উনি চেয়ারম্যান হয়ে আছেন, নেতাগিরি করছেন। তাঁর কাছে আমার প্রশ্ন, খগেন মুর্মু মালদার ভূমিপুত্র। তাঁর মাথা থেকে রক্ত বেরোতে দেখে আপনাদের কেমন লেগেছিল ? যদি মালদা জেলার তৃণমূলের নেতাদের সেই দৃশ্য দেখে কষ্ট না-হয়ে থাকে, তবে আপনাদের মালদার বাইরে গিয়ে থাকা উচিত। মালদা জেলা তৃণমূলের সভাপতি রহিম বক্সি নিজেকে বড় বক্সার মনে করছেন । উনি যদি পুলিশকে সরিয়ে রাস্তায় বেরোন, তবে রিক্সাওয়ালারাও তাঁকে জুতো ছুড়ে মারবে। ওনার অত সাহস থাকলে এখনও আরএসপি দলেই থাকতেন, পালিয়ে তৃণমূলে আসতেন না।"

সুকান্ত আরও বলেন, "সাবিনা ইয়াসমিন নাকি বলেছেন, এসআইআরে একজনের নামও যদি ভোটার তালিকা থেকে বাদ যায় তবে উনি মোথাবাড়িকে লন্ডভন্ড করে দেবেন। সাবিনা ইয়াসমিন যেটা বলছেন, সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনের কথা। তাই সাধারণ মানুষকে তৈরি থাকতে বলছি। সব জায়গাতেই এরা লন্ডভন্ড করার চেষ্টা করবে। কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছনোর আগে পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে নিজেদেরই লড়তে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাঙালিদের সঙ্গে মীরজাফরগিরি করেছেন।"

মমতা-সৌগত বাবরের আমলের লোক

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুকান্ত জানান, মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বাংলার মানুষের মানসম্মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা নিজেদের মেয়েকে রক্ষা করতে পারছি না, ওড়িশা থেকে যিনি এসেছিলেন তাঁকেও রক্ষা করতে পারছি না।" রাতে মেয়েদের বেরনো প্রসঙ্গে সুকান্তর বক্তব্য, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সৌগত রায়ের কথা শুনে মনে হচ্ছে, এনারা বাবরের আমলের লোক। টাইম মেশিন থাকলে ওনাদের তাতে চাপিয়ে বাবরের আমলেই পাঠানো উচিত ৷"

এক নম্বর মিথ্যেবাদী মমতা

এদিকে, এই মন্তব্য সরব হয়েছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ৷ রাজ্যে ঘটে চলা একের পর ধর্ষণের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম মনে করেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এক নম্বর মিথ্যেবাদী ৷ ঠিক তেমনি রাতে মহিলাদের ঘর থেকে বেরোনো সংক্রান্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়াকে মৌলবাদী চিন্তাভাবনা বলেও কটাক্ষ করেছেন সেলিম। তিনি বলেন, "এক নম্বর মিথ্যেবাদী ও মৌলবাদী চিন্তাভাবনা মমতার ৷"

মমতার মৌলবাদী চিন্তাভাবনা

তিনি আরও বলেন, "আরজি কর কাণ্ডের পর কোনও শিক্ষা নেয়নি রাজ্য সরকার। আবার দুর্গাপুরে মেডিক্যাল ছাত্রীর গণধর্ষণের ঘটনা। তারপর, 36 ঘণ্টা পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাষণ দিলেন তা পুরুষতান্ত্রিক ভাবনা চিন্তা। মহিলারা রাত্রি ডিউটি করবেন না ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাম নন। লক্ষণও নন। কিন্তু, লক্ষণ রেখা এঁকে দিচ্ছেন। এটা তাঁর কাজ নয়। এটা আগে উত্তর ভারতে হত। মৌলবাদী চিন্তা ভাবনা। নিজে মহিলা হয়ে মহিলাকে দোষারোপ করছেন। এরপরে তো বলবে মেয়েরা স্কুলে যাবে না।"

এরপরই পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে সেলিম বলেন, "পুলিশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আরজি করে তো নির্যাতিতা বাইরে বেরাননি। কসবা ল'কলেজে কী হয়েছিল।"

মমতার 36 ঘণ্টা লাগল মিথ্যে বলতে

প্রসঙ্গত, দুর্গাপুরে নির্যাতিতার বাইরে বেরনোর সময়ে নিয়ে পুলিশি বক্তব্য ও কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য মিলছে না। তিনি রাত সাড়ে বারোটার কথা বলেছেন। যা নিয়ে মমতাকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন সেলিম। তিনি বলেন, "মিথ্যে বলার জন্যে কী পেতে হয় ? মুখ্যমন্ত্রী মিথ্যুক। মিথ্যেবাদী নম্বর 1, থুড়ি...দেশে প্রধানমন্ত্রী আছেন। রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী প্রথম। 36 ঘণ্টা লাগল মিথ্যে বলতে।"