শ্মশান ও লোকাল প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আরজি করের নির্যাতিতার দেহ দাহ হয়েছে: সুকান্ত - RG Kar Doctor Rape and Murder
Sukanta Majumdar on RG Kar Incident: "ওটা অপরাধ-স্থল নাকি গরু চড়ার মাঠ, সেটাই তো বোঝা দায়! নাটকের স্ক্রিপ্ট আগে থেকেই তৈরি ছিল। 'আরজি কর-কাণ্ডে ভাইরাল ভিডিয়ো প্রসঙ্গে এমনই মন্তব্য সুকান্তর। তিনি বললেন, "স্থানীয় বিধায়ক শ্মশান ও লোকাল প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অন্য মৃতদেহ টপকে আরজি কর হাসপাতালের ডাক্তারি পড়ুয়ার দেহ দাহ করেছে।"

Published : August 26, 2024 at 11:00 PM IST
ব্যারাকপুর, 26 অগস্ট: সোমবার সন্ধ্যায় নির্যাতিতার বাড়িতে যান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। সেখানে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেন তিনি। এরপরই আরজি কর-কাণ্ডে ভাইরাল হওয়া ভিডিয়ো প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার মন্তব্য করেন, "ওটা ক্রাইম স্থল নাকি গরু চড়ার মাঠ! সেটাই তো বোঝা দায়!দেখে মনে হচ্ছে, নাটকের পুরো স্ক্রিপ্ট রচিত হয়েছে আগেই।"
তিনি বলেন, "ওই ভিডিয়োতে সবকিছু প্রকাশ্যে চলে এসেছে। দেখে মনে হয়েছে ,কী করতে হবে। কী বলতে হবে। সেই চিত্রনাট্য যেন আগে থেকেই তৈরি। এখন তো আমার মনেও সন্দেহ, যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে আদৌ অপরাধী কি না!" তাই, এর নেপথ্যে অন্য কেউ থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
পরে, এনিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, "রবিবার ধরনা মঞ্চ থেকে জানিয়েছিলাম, আরজি করের নিহত চিকিৎসকের বাড়িতে গিয়ে দেখা করব তাঁর বাবা, মা'র সঙ্গে। সেই মতো সোমবার সন্ধ্যায় নির্যাতিতার বাড়িতে এসে তাঁদের সমবেদনা জানালাম। ওর বাবা, মা অত্যন্ত মর্মাহত। তাই বেশি সময় ছিলাম না। ওঁরা সবাইকে অনুরোধ করেছেন আন্দোলন চালিয়ে যেতে যাতে ন্যায় বিচার হয়। পরিবারের সন্দেহ, আন্দোলন থেমে গেলে ন্যায় বিচার হবে না। সে জন্য আমিও আবেদন জানাচ্ছি সকলের কাছে। রাজনৈতিক রং দূরে সরিয়ে সকলে সামিল হন আন্দোলনে। যেভাবে আন্দোলন চলছে, তার থেকেও তীব্র প্রতিবাদ হওয়া উচিত।"
সুকান্ত মজুমদার আরও বলেন, "কী কারণে মেয়ের এই পরিণতি হল? সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজছেন নির্যাতিতার বাবা ও মা। কোনও ধর্ষিতা এই রাজ্যে ন্যায় পাচ্ছে না। এর সব থেকে বড় উদাহরণ কামদুনি। তখন আইজি, সিআইডি ছিলেন বিনীত গোয়েল। এখন উনিই কলকাতার পুলিশ কমিশনার। "
এদিকে, আরজি কর-কাণ্ডে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ নিয়েও এদিন সরব হয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর কথায়, "অপরাধীরা শাস্তি পাচ্ছে না-বলেই মানুষ প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। কারণ প্রমাণ নেই। প্রমাণ গায়েব করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রমাণ ছিল মৃতদেহ। স্থানীয় বিধায়ক শ্মশান ও লোকাল প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অন্য মৃতদেহ টপকে নির্যাতিতার দেহ দাহ করেছে। এরকম ঘটনা অন্য কোনও রাজ্যে ঘটেছে কি না, আমার জানা নেই।"
অন্যদিকে, আগামিকালের নবান্ন অভিযানে পুলিশের অনুমতি না-থাকা প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, "পুলিশ ও মুখ্যমন্ত্রী ভয়ে আছেন।কোনও অভিযানের জন্য অনুমতির প্রয়োজন হয় না। নবান্ন অভিযান অরাজনৈতিক। এর প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন আছে। আগেও বলেছি সেখানে যাব না। তবে, এমন পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয় যেখানে আমাদের পথে নামতে বাধ্য করা হয়।" নবান্ন অভিযানে পুলিশ দমন-পীড়ন করলে, বিজেপি পাল্টা নবান্ন অভিযানের ডাক দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

