ETV Bharat / state

উপচে পড়ছে জঞ্জালের পাহাড়, হাওড়ার বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ধাপায় ফের শুরু বায়োমাইনিং

মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদার জানান, দ্রুত বায়োমাইনিং শুরু করার জন্য টেন্ডার ডাকা হবে ৷ নতুন কোম্পানিকে কাজের বরাত দেওয়া হবে ।

Biomining in Dhapa
ধাপায় ফের শুরু হতে চলেছে বায়োমাইনিং (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : April 27, 2025 at 2:39 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 27 এপ্রিল: শহরের পাশাপাশি আশেপাশের পুরসভার জঞ্জাল এসে জমা হচ্ছে ধাপায় ৷ যার ফলে উপচে পড়ছে ধাপার জঞ্জালের পাহাড় ৷ বেলগাছিয়ার ভাগাড়ে বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি যাতে না-হয় তাই ফের বায়োমাইনিং শুরু হতে চলেছে ধাপায় ৷

বিশেষজ্ঞদের থেকে জানা গিয়েছে, বছরের পর বছর হাওড়ার বেলগাছিয়ার ভাগাড়ে জঞ্জাল ফেলা হলেও তার প্রক্রিয়াকরণে কোনও পদক্ষেপ ছিল না সেই অর্থে । ফলে লাগামহীন দূষণ তো বটেই, সম্প্রতি ধসের মতো বড় বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে সেই ল্যান্ডফিল সাইট । কলকাতার ধাপা ডাম্পিং গ্রাউন্ডে উপচে পড়ছে জঞ্জাল । প্রতিমুহূর্তে চোখ রাঙাচ্ছে বিপদের আশঙ্কা । সেই বিপর্যয় ঠেকাতেই এবার সেখানে বন্ধ থাকা বায়োমাইনিং ফের চালু করবে কলকাতা পুরনিগম । এই বিষয়ে জঞ্জাল সাফাই বিভাগের দায়িত্বে থাকা মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদার বলেন, "দ্রুত আমরা বায়োমাইনিং শুরু করার জন্য টেন্ডার ডাকব ৷ নতুন কোম্পানিকে বরাত দেব ।"

Biomining in Dhapa
ধাপার জঞ্জালের পাহাড় (নিজস্ব ছবি)

প্রসঙ্গত, হাওড়া ল্যান্ডফিল সাইট বিপর্যয়ের পরবর্তী সময়ে কলকাতার ধাপার নিরাপত্তা নিয়ে সম্প্রতি প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে । তিনি নিরাপত্তাজনিত একাধিক প্রশ্ন তোলেন । উত্তরে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদার জানান, ধাপায় বৈজ্ঞানিকভাবে বর্জ্য ফেলা হয়নি বা এখনও সেভাবে হয় না । সেখানে উন্মুক্তভাবে বর্জ্য ফেলা হয় । তাতে দুই ধরনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় । আগুন জ্বলে মাঝে মাঝে । জল ছিটিয়ে নেভাতে হয় । আর অভ্যন্তরে মিথেন জমতে থাকে । এর আগে হাওড়ার মতো ভয়াবহ না-হলেও ধাপায় ছোটখাটো ধস হয়েছে ।

কলকাতা পুরনিগম সূত্রে খবর, কলকাতার এই ডাম্পিং গ্রাউন্ডে 40 লাখ মেট্রিক টন জঞ্জাল জমেছে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই । দূষণ বা ধসের মতো বিপর্যয় রুখতে বায়োমাইনিং শুরু করা হয়েছিল । একটি বেসরকারি সংস্থাকে তার বরাত দেওয়া হয়েছিল । চুক্তি ছিল, 2017 থেকে তিন বছরের মধ্যে অর্থাৎ 2020 সালের মধ্যেই এই বিপুল পরিমাণ জমা জঞ্জাল বায়োমাইনিং করে কমিয়ে দেওয়া হবে । তবে পরবর্তী সময়ে আশানুরূপ কাজ না-করায় সেই সময়কাল 2025 পর্যন্ত ধার্য করা হয় । কিন্তু এই সময়কালে মাত্র 15 লক্ষ টন জঞ্জাল বায়োমাইনিং করতে পেরেছে ওই সংস্থা । কাজ অপছন্দ হওয়াতে শেষমেষ কলকাতা পুরনিগমের তরফে কালো তালিকাভুক্ত করা হয় ওই সংস্থাকে । ফলে একদিকে যেমন বায়োমাইনিং বন্ধ হয়ে যায়, তেমনই ফের বাড়তে থাকে জঞ্জালের পাহাড় ।

এর ফলে বেশ অনেকদিন হতে চলল বন্ধ ধাপায় বায়ো মাইনিং । এই বায়োমাইনিংয়ের মধ্যে দিয়ে জমে থাকা জঞ্জালকে প্রথমে পৃথকীকরণ করা হয় ৷ এর মধ্যে পচনশীল জঞ্জাল থেকে সার, প্রাকৃতিক গ্যাস তৈরির কাঁচামাল যোগান দেওয়া হয় । পাশাপাশি প্লাস্টিক জাতীয় জঞ্জাল প্রক্রিয়াকরণের মধ্যে দিয়ে তৈরি হয় বিভিন্ন জিনিসপত্র ।

মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদার বলেন, "আমি কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের দায়িত্ব নেওয়ার পর 5500 মেট্রিক টন প্রতিদিন জঞ্জাল পড়ে ধাপায় । তাই আরেকটি জমি নিচ্ছি ল্যান্ডফিল সাইটের জন্য । হাওড়ার মতো হবে না । প্রতিদিন এখন 500 মেট্রিকটন আশপাশের পুর এলাকার জঞ্জাল পড়ে । অস্বীকার করার জায়গা নেই চাপ বাড়ছে আমাদের । কমপ্যাক্টর স্টেশন চালু করার পর ময়লার চাপ অনেকটা কমেছে । সার, প্লাস্টিক প্রক্রিয়াকরণ, সিএনজি গ্যাস, আইডিএফ প্ল্যান্ট, থার্মোকল প্রক্রিয়াকরণ করার মধ্যে দিয়ে জমা বর্জ্যের পরিমাণ কমানো হয় । ল্যান্ডফিল সাইট ভালো রাখতে উৎস থেকে বর্জ্য পৃথকীকরণ করার দিকে জোর দিতে হবে পুর প্রতিনিধিকে । এটাই সমাধানের মূল পথ ।"