কানাইপুরে তৃণমূল নেতা খুনে জালে বিশার দাদা, ধৃত বেড়ে 4
দুষ্কৃতী বিশাকে জেরা করে তার দাদার কথা জানতে পারে পুলিশ ৷ এদিকে, তৃণমূল নেতা খুনের পরেই বদলি কানাইপুর ফাঁড়ির ইনচার্জকে ৷

Published : August 3, 2025 at 7:45 PM IST
কানাইপুর, 3 অগস্ট: হুব্বা শ্যামলের পর কোন্নগরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছিল কুখ্যাত দুষ্কৃতী বিশা ওরফে বিশ্বনাথ দাস ! দাদা ভোলানাথ দাস ওরফে বাঘার ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা ছিল বিশার ৷ এবার সেই বাঘাকে বাঁকুড়ার সোনামুখী থেকে গ্রেফতার করল চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ ৷
কানাইপুর পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য পিন্টু চক্রবর্তীকে খুনের ঘটনায় বাঘার যোগ রয়েছে বলে জানতে পারেন তদন্তকারীরা ৷ শনিবার বিশাকে বেলঘরিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয় ৷ এরপর তাকে জেরা করে বাঘার কথা জানতে পারে পুলিশ ৷ সেই সূত্র ধরে এদিন তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ এবার বাঘাকে জেরা করে পিন্টু চক্রবর্তী খুনের আসল কারণ এবং এর পিছনে জড়িত মাথাদের ধরার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা ৷
উল্লেখ্য, চন্দনগর এলাকার অন্যান্য ব্যবসায়ীরা পিন্টু চক্রবর্তীর খুনের পর থেকেই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন ৷ জেলার শাসকদলের একজন প্রভাবশালী নেতাকে যেভাবে খুন করা হয়েছে, তাতে যথেষ্ট আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে ৷ চিন্তা বেড়েছে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের আধিকারিকদেরও ৷
পুলিশ জানতে পেরেছে বাঘা ও বিশা কানাইপুর এলাকায় তাঁদের বেআইনি কাজকর্ম চালালেও, বর্তমানে নিমতা এলাকায় থাকছিল ৷ সেখান থেকেই দুষ্কৃতী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত নানান কাজকর্ম চালাত বাঘা ৷ রবিবার চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি অর্ণব বিশ্বাস বলেন, "পঞ্চায়েত সদস্য খুনের ঘটনায় বাঁকুড়া থেকে বাঘা নামে এক দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ বাকিদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আর্জি জানিয়ে শ্রীরামপুর আদালতে পেশ করা হয় ৷ বিচারক বিশাকে 8 দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন ৷ বাকি দু’জন বিশ্বজিৎ প্রামাণিক এবং দীপক মণ্ডলকে 14 দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত ৷"
পুলিশ বিশাকে জেরা করছে ৷ এবার বাঘাকে আদালতে পেশ করে হেফাজতে নিতে চান তদন্তকারীরা ৷ দুই ভাইকে আলাদাভাবে ও একসঙ্গে জেরা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ ৷ খুনের আসল কারণ জানতে ইতিমধ্যে চন্দননগর কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে ৷ কানাইপুরে যেখানে খুনটি হয়েছিল সেখান থেকে কিছুটা দূরেই রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর বাড়ি ৷ আর তার দেড় কিলোমিটারের মধ্যে কানাইপুর পুলিশ ফাঁড়ি ৷ তার মধ্যেই গত বুধবার সন্ধ্যায় বাজারের মধ্যে কুপিয়ে খুন করা হয় পিন্টু চক্রবর্তীকে ৷ জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় পুলিশি টহলের বিষয়টি নিয়েও সজাগ ছিল আঁততায়ীরা ৷
এমনকী কোন রাস্তা দিয়ে পালানো সহজ হবে, তাও আগে থেকে ঠিক করা ছিল ৷ এই ঘটনায় কানাইপুরে পুলিশি নজরদারি ও নিরাপত্তা নিয়ে একটা প্রশ্ন আগেই উঠেছিল ৷ তারপরেই কানাইপুর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ইনচার্জ রাহুল বিশ্বাসকে ৷ তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চন্দননগর থানার এএসআই বিশ্বজিৎ পালকে ৷ রাহুল বিশ্বাসকে চন্দননগর থানায় বদলি করা হয়েছে ৷

