স্কুল পরিচালনায় অস্থায়ী শিক্ষক ! ব্যাহত জগদীশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন
এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দেশের শীর্ষ আদালতের রায়ে চাকরিহারা প্রায় 26 হাজার ৷ খালি হয়ে গিয়েছে একাধিক স্কুল ৷ শিক্ষা ব্য়বস্থা চলবে কীভাবে ?

Published : April 13, 2025 at 1:16 PM IST
রায়গঞ্জ, 13 এপ্রিল: সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাতিল হয়েছে 2016 সালের এসএসসি'র সম্পূর্ণ প্যানেল ৷ চাকরি হারিয়েছেন প্রায় 26 হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী ৷ এই আবহে ব্যাপক সমস্যায় রায়গঞ্জের জগদীশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা । স্কুলের একমাত্র স্থায়ী শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর চাকরি বাতিল হওয়ায় বিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্ব এসে পড়েছে অস্থায়ী এক কম্পিউটার শিক্ষকের কাঁধে । ফলে, লাটে উঠেচে পঠনপাঠন ৷ পাশাপাশি, অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে মিড ডে মিল পরিষেবাও ।
দেশের শীর্ষ আদালতের রায়ে চরম বিপদে পড়েছেন চাকরিহারারা ৷ পাশাপাশি, সমস্যা দেখা দিয়েছে বিদ্যালয়গুলিও ৷ রাজ্যের এমন বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে এক ধাক্কায় বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী চাকরি হারিয়েছেন ৷ এই আবহে সেই সমস্য় স্কুলগুলি পরিচালনা রীতিমতো অসম্ভব হয়ে উঠেছে ৷ একই সমস্যা দেখা দিয়েছে রায়গঞ্জ ব্লকের খাঁড়ি জগদীশপুর এলাকায় ৷
এলাকায় অবস্থিত জগদীশপুর জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয় । এই বিদ্যালয়ে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পঠনপাঠন চলে । পূর্বে এই বিদ্যালয় ছিলেন মোট দু'জন শিক্ষক এবং একজন অশিক্ষক কর্মী । দু'জন শিক্ষকের মধ্যে একজন আবার অস্থায়ী কম্পিউটার শিক্ষক । 2016 সালের প্যানেল বাতিল হয়ে যাওয়ায় এই বিদ্যালয়ের একমাত্র স্থায়ী শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীর চাকরি বাতিল বলে গণ্য হয় । ফলে, বর্তমানে বিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্ব এসে পড়েছে অস্থায়ী কম্পিউটার শিক্ষকের কাঁধে ।

বিপাকে পড়েছেন কম্পিউটার শিক্ষকও ৷ তাঁর একার পক্ষে এত বড় বিদ্যালয় পরিচালনা করা সম্ভব হয়ে উঠছে না । ফলে, পড়াশোনা কার্যত লাটে উঠেছে । সেই সঙ্গে, অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে স্কুলের মিড ডে মিল পরিষেবাও । এই প্রসঙ্গে অস্থায়ী কম্পিউটার শিক্ষক ভাস্কর ধারা বলেন, "এই বিদ্যালয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় 270 জন । আগে গড়ে রোজ 100 থেকে 115 জন পড়ুয়ার হাজিরা থাকত । এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে 50 থেকে 70 জন । রোজ 8টি করে ক্লাস নেওয়া একার পক্ষে সম্ভব নয় । ফলে, লাটে উঠেছে পড়াশোনা ।" তিনি আরও জানান, মুদি দোকান থেকে রান্নার গ্যাসের বিল বকেয়া থাকায় এখন মিড ডে মিল পরিষেবাও বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন ৷

অভিভাবক আলী আখতার বলেন, "বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে মাত্র একজন অস্থায়ী শিক্ষক শিক্ষাদান করছেন । অবিলম্বে এখানে আরও শিক্ষক প্রয়োজন । এলাকার ছাত্রছাত্রীরা এই বিদ্যালয়ের উপরই নির্ভরশীল ।" শিক্ষকের অভাবে সমস্যায় পড়েছেন ছাত্রছাত্রীরাও ৷ জগদীশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়ুয়া শাহিদা পারভিন বলেন, "শিক্ষকের অভাবে সমস্যা হচ্ছে পড়াশোনায় । একজন শিক্ষক অন্য ক্লাস নিতে গেলে বসে থাকতে হচ্ছে ।"

অপর এক পড়ুয়া নার্গিস পারভিন জানান, বিদ্যালয় আরও শিক্ষকের প্রয়োজন রয়েছে । শাহবাজ আলম নামের আরও এক পড়ুয়ার কথায়, শিক্ষক না থাকায় ভালো পড়াশোনা হচ্ছে না । পরীক্ষার আগে সিলেবাস কীভাবে শেষ হবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে তাঁদের মনে ৷ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাঁদের অভিভাবকরাও ৷

