ETV Bharat / state

স্কুল পরিচালনায় অস্থায়ী শিক্ষক ! ব্যাহত জগদীশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন

এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দেশের শীর্ষ আদালতের রায়ে চাকরিহারা প্রায় 26 হাজার ৷ খালি হয়ে গিয়েছে একাধিক স্কুল ৷ শিক্ষা ব্য়বস্থা চলবে কীভাবে ?

SSC SCAM IN WEST BENGAL
বিদ্যালয়ে নেই শিক্ষক (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : April 13, 2025 at 1:16 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

রায়গঞ্জ, 13 এপ্রিল: সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাতিল হয়েছে 2016 সালের এসএসসি'র সম্পূর্ণ প্যানেল ৷ চাকরি হারিয়েছেন প্রায় 26 হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী ৷ এই আবহে ব্যাপক সমস্যায় রায়গঞ্জের জগদীশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা । স্কুলের একমাত্র স্থায়ী শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর চাকরি বাতিল হওয়ায় বিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্ব এসে পড়েছে অস্থায়ী এক কম্পিউটার শিক্ষকের কাঁধে । ফলে, লাটে উঠেচে পঠনপাঠন ৷ পাশাপাশি, অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে মিড ডে মিল পরিষেবাও ।

দেশের শীর্ষ আদালতের রায়ে চরম বিপদে পড়েছেন চাকরিহারারা ৷ পাশাপাশি, সমস্যা দেখা দিয়েছে বিদ্যালয়গুলিও ৷ রাজ্যের এমন বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে এক ধাক্কায় বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী চাকরি হারিয়েছেন ৷ এই আবহে সেই সমস্য় স্কুলগুলি পরিচালনা রীতিমতো অসম্ভব হয়ে উঠেছে ৷ একই সমস্যা দেখা দিয়েছে রায়গঞ্জ ব্লকের খাঁড়ি জগদীশপুর এলাকায় ৷

ব্যাহত জগদীশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন (ইটিভি ভারত)

এলাকায় অবস্থিত জগদীশপুর জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয় । এই বিদ্যালয়ে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পঠনপাঠন চলে । পূর্বে এই বিদ্যালয় ছিলেন মোট দু'জন শিক্ষক এবং একজন অশিক্ষক কর্মী । দু'জন শিক্ষকের মধ্যে একজন আবার অস্থায়ী কম্পিউটার শিক্ষক । 2016 সালের প্যানেল বাতিল হয়ে যাওয়ায় এই বিদ্যালয়ের একমাত্র স্থায়ী শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীর চাকরি বাতিল বলে গণ্য হয় । ফলে, বর্তমানে বিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্ব এসে পড়েছে অস্থায়ী কম্পিউটার শিক্ষকের কাঁধে ।

SSC SCAM IN WEST BENGAL
জগদীশপুর উচ্চ বিদ্যালয় (নিজস্ব চিত্র)

বিপাকে পড়েছেন কম্পিউটার শিক্ষকও ৷ তাঁর একার পক্ষে এত বড় বিদ্যালয় পরিচালনা করা সম্ভব হয়ে উঠছে না । ফলে, পড়াশোনা কার্যত লাটে উঠেছে । সেই সঙ্গে, অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে স্কুলের মিড ডে মিল পরিষেবাও । এই প্রসঙ্গে অস্থায়ী কম্পিউটার শিক্ষক ভাস্কর ধারা বলেন, "এই বিদ্যালয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় 270 জন । আগে গড়ে রোজ 100 থেকে 115 জন পড়ুয়ার হাজিরা থাকত । এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে 50 থেকে 70 জন । রোজ 8টি করে ক্লাস নেওয়া একার পক্ষে সম্ভব নয় । ফলে, লাটে উঠেছে পড়াশোনা ।" তিনি আরও জানান, মুদি দোকান থেকে রান্নার গ্যাসের বিল বকেয়া থাকায় এখন মিড ডে মিল পরিষেবাও বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন ৷

SSC SCAM IN WEST BENGAL
ক্লাস নিচ্ছেন একমাত্র অস্থায়ী শিক্ষক (নিজস্ব চিত্র)

অভিভাবক আলী আখতার বলেন, "বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে মাত্র একজন অস্থায়ী শিক্ষক শিক্ষাদান করছেন । অবিলম্বে এখানে আরও শিক্ষক প্রয়োজন । এলাকার ছাত্রছাত্রীরা এই বিদ্যালয়ের উপরই নির্ভরশীল ।" শিক্ষকের অভাবে সমস্যায় পড়েছেন ছাত্রছাত্রীরাও ৷ জগদীশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়ুয়া শাহিদা পারভিন বলেন, "শিক্ষকের অভাবে সমস্যা হচ্ছে পড়াশোনায় । একজন শিক্ষক অন্য ক্লাস নিতে গেলে বসে থাকতে হচ্ছে ।"

SSC SCAM IN WEST BENGAL
শিক্ষকের অভাবে খালি ক্লাসরুম (নিজস্ব চিত্র)

অপর এক পড়ুয়া নার্গিস পারভিন জানান, বিদ্যালয় আরও শিক্ষকের প্রয়োজন রয়েছে । শাহবাজ আলম নামের আরও এক পড়ুয়ার কথায়, শিক্ষক না থাকায় ভালো পড়াশোনা হচ্ছে না । পরীক্ষার আগে সিলেবাস কীভাবে শেষ হবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে তাঁদের মনে ৷ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাঁদের অভিভাবকরাও ৷

পড়ুন: 28 জন শিক্ষিকার মধ্যে 12 জনের চাকরি গিয়েছে, স্কুল চালাতে হিমশিম অবস্থা রানিগঞ্জে