ETV Bharat / state

নিউ টাউনে গড়ে উঠছে ‘দুর্গা অঙ্গন’, বরাদ্দ 262 কোটি টাকা

সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে 2027 সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে ‘দুর্গা অঙ্গন’ প্রকল্পের কাজ ৷ বরাদ্দ প্রায় 262 কোটি টাকা ৷

Durga Angan at New Town
নিউ টাউনে গড়ে উঠছে ‘দুর্গা অঙ্গন’ (প্রতীকী চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : September 19, 2025 at 10:52 AM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 19 সেপ্টেম্বর: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প হিসেবে নিউ টাউনে ইকো পার্কের উল্টোদিকে ওয়েস্টিন হোটেল লাগোয়া জমিতে তৈরি হচ্ছে বিশাল মাপের ‘দুর্গা অঙ্গন’। প্রায় 262 কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছে হিডকো (আবাসন পরিকাঠামো উন্নয়ন পর্ষদ)। ইতিমধ্যেই দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ, শুরু হয়েছে জমি সমতলকরণের কাজ ৷

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 21 জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকেই 'দুর্গা অঙ্গন’ তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন। অগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজ্য মন্ত্রিসভা আনুষ্ঠানিকভাবে এর অনুমোদন দেয় । মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, 22 অগস্ট হিডকো দরপত্র আহ্বান করে এবং 11 সেপ্টেম্বর ছিল জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৷ সরকারি নথি অনুযায়ী, প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে 261 কোটি 98 লক্ষ 30 হাজার 304 টাকা। নির্মাণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে 2 বছর। অর্থাৎ, সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে 2027 সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ৷

হিডকোর এক আধিকারিক ইটিভি ভারতকে বলেন, “আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি ৷ প্রথম ধাপে 12.6 একর জমি উঁচু করার কাজ চলছে । এই সময়সীমার মধ্যে প্রকল্প শেষ করার জন্য আমাদের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে।”

এই জমি নিউ টাউনের অন্যতম অভিজাত এলাকায়, রামকৃষ্ণ মিশনের জমির একেবারে পাশে । আশপাশেই রয়েছে পাঁচতারা হোটেল ও বাণিজ্যিক পরিকাঠামো। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই অবস্থান নিজেই প্রকল্পের গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলেছে । কারণ বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা-নেত্রীরা কলকাতায় এলে সাধারণত এই হোটেলে থাকেন ৷ এমনকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও কলকাতা সফরে এখানে থাকেন ৷ সেই হোটেলের কাছেই গড়ে উঠছে ‘দুর্গা অঙ্গন’।

এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনও সরগরম ৷ সমালোচকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে। সেই সুযোগ নিয়ে বিজেপি প্রায়শই অভিযোগ তোলে যে, রাজ্য সরকার সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতি করছে । বিজেপির দাবি, হিন্দু ভোটকে ঐক্যবদ্ধ করতেই তারা এই অভিযোগ বারবার সামনে আনছে । এ প্রসঙ্গে বিশ্লেষকদের একাংশের বক্তব্য, বিজেপির হিন্দুত্ব রাজনীতির জবাব দিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একের পর এক ধর্মীয় প্রকল্পে জোর দিচ্ছেন।

গত বছর অক্ষয়তৃতীয়ায় দিঘায় জগন্নাথধামের উদ্বোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মন্দির নির্মাণের কাজও পরিচালনা করেছিল হিডকো। অনেকেই মনে করছেন, তারই ধারাবাহিকতায় এবার নিউ টাউনে তৈরি হচ্ছে ‘দুর্গা অঙ্গন’। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি সর্বধর্ম সমন্বয়ের পক্ষপাতী। তাঁর কথায়, “আমরা মা দুর্গার পুজো যেমন করি, তেমনই ঈদও পালন করি। এই বাংলায় সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে থাকেন। তাই উন্নয়নের ক্ষেত্রেও আমি সেই দর্শনকেই সামনে রাখি।”

এদিকে, হিডকোর নেতৃত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে বড় পরিবর্তন হয়েছে । দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান ছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। কিন্তু গত ডিসেম্বরেই তাঁকে সরিয়ে দেয় রাজ্য সরকার। কিছুদিন প্রাক্তন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী দায়িত্ব সামলানোর পর সম্প্রতি এই পদে আসীন হয়েছেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। একইসঙ্গে হিডকোকে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের পরিবর্তে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর হাতে থাকা প্রশাসনিক সংস্কার ও কর্মিবর্গ দফতরের অধীনে নিয়ে আসা হয়েছে । ফলে কার্যত এই সংস্থাটি এখন সরাসরি নবান্নের নজরদারিতে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ‘দুর্গা অঙ্গন’ প্রকল্প শুধু ধর্মীয় দিক থেকে নয়, রাজনৈতিক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ । কারণ, আগামী বছরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই দাবি করেছেন, তৃণমূল এই নির্বাচনে আরও বেশি আসন পাবে। সেই প্রেক্ষিতে এই ধরনের প্রকল্প জনসমর্থন বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা নেবে বলেই অনেকের ধারণা।

ফলে, প্রশাসনিক মহলে যেমন আগ্রহ বাড়ছে, তেমনই রাজনৈতিক মহলেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষত, হিডকোর সাম্প্রতিক সক্রিয় ভূমিকা এবং মুখ্যমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নজরদারি প্রকল্পটির গতি বাড়াতে সাহায্য করবে বলেই মনে করা হচ্ছে । সব মিলিয়ে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই নিউ টাউনে মাথা তুলতে চলেছে বাংলার নতুন চিহ্ন—‘দুর্গা অঙ্গন’। যা একদিকে মমতার সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা বহন করবে, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মঞ্চেও বড় অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।