চুরি-দুর্নীতি-পুলিশকে শিরদাঁড়া উপহার ! দেখানো হল রাজ্যপালের লেখা নাটকে, প্রশংসা ঋতুপর্ণার
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের মতে, 'চৌরঙ্গীর ফুল' নাটকের থেকেও বেশি কিছু । এটি একটি দৃষ্টিভঙ্গি ।

Published : July 27, 2025 at 6:18 PM IST
কলকাতা, 27 জুলাই: রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের লেখা ছোট গল্প অবলম্বনে তৈরি 'চৌরঙ্গীর ফুল' শীর্ষক নাটক অনুষ্ঠিত হল রাজভবনে ৷ সেখানে রাজ্যের চুরি, দুর্নীতি থেকে পুলিশকে শিরদাঁড়া উপহার দেওয়ার কাহিনি উঠে এল সকলের সামনে ৷ এই নাটকের গল্পকে প্রশংসায় ভরালেন আমন্ত্রিতরা ৷
তার মধ্যে ছিলেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তও ৷ নাটকের বিষয়ে তিনি বলেন, "নাটকটি আমার খুব ভালো লেগেছে । বিশেষ করে শর্বরী মুখোপাধ্যায় খুব ভালো অভিনয় করেছেন ৷ ওঁর সঙ্গে আমি আগেও কাজ করেছি ৷ রাজ্যপাল খুব ভালো গল্পটা লিখেছেন ৷ এটা একটা রিয়েল স্টোরি ৷ প্রত্যেকেরই অভিনয় মন কেড়েছে, এখানে সকলকে দেখার মতো ৷ রাজ্যপালের লেখক হিসাবে প্রতিভা এখানে উঠে এসেছে ৷ রাজ্যপাল যেটা বললেন, উনি কেরলে ফিরে যেতে চান না ৷ এখানে থাকতে চান ৷ এটা খুব ভালো লাগল ৷"
মূলত চুরি, দুর্নীতি কিংবা খুন-ধর্ষণ বর্তমান রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চিত বিষয় । প্রায় প্রতিদিনই শাসক ও বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে এসব নিয়ে তর্জা চলছে ৷ একইরকমভাবে শিল্প, সাহিত্য ও নাটকে প্রতিবাদ ও সমালোচনা তুলে ধরা হয় । আর সেই নিয়েই শনিবার সন্ধ্যায় কলকাতার রাজভবনে 'চৌরঙ্গীর ফুল' শীর্ষক একটি নাটক প্রদর্শিত হয় ।

এই নাটকে শহর কলকাতার বস্তি এবং ভিক্ষুক সমাজকে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করা হয়েছে । আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে কাঠ চুরি কিংবা শ্মশান-কবরস্থানের ফুলমালা চুরি কোনও কিছুই বাদ যায়নি । উঠে এসেছে কলকাতা পুলিশের পদস্থ কর্তাকে প্রতিবাদের হাতিয়ার-সহ শিরদাঁড়া উপহার দেওয়ার প্রসঙ্গও । চুরি-দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্লোগানও উঠেছে নাটকে । ফুটপাথে থাকা শিশুদের কীভাবে ভিক্ষা করানো হয়, তাও চিত্রায়িত করা হয়েছে । বস্তি কীভাবে পরিচালিত হয়, বস্তিবাসী মানুষ বিভিন্ন উৎসব কীভাবে উদযাপন করেন, তাও তুলে ধরা হয়েছে নাটকে । সার্বিকভাবে কলকাতার অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট উঠে এসেছে নাটকের মাধ্যমে ।

আর দর্শক আসনে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা অনেকেই গত কয়েক বছরের কলকাতা এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে চলা ঘটনার সঙ্গে নাটকের অনেকটাই মিল পেয়েছেন বলে মনে করছেন । কিন্তু, সংবাদমাধ্যমের সামনে কেউই সেই নিয়ে মুখ খুলতে চাননি । কারণ নাটকেই বলা হয়েছে, "অন্যায়কে চোখ বুজে চুপ করে সহ্য করলেই নিজের আখের গোছানো যাবে । কোপ পড়বে না চাকরিতে, রিটায়ারমেন্টের পরে প্রভিডেন্ট ফান্ডে ।"

রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস তাঁর লেখা নাটক সম্পর্কে বলেন, "চৌরঙ্গীর ফুল নাটকের থেকেও বেশি কিছু । এটি একটি দৃষ্টিভঙ্গি । যা কলকাতার হৃদয়, এর স্থায়ী ঐতিহ্য এবং এর জনগণের অদম্য চেতনাকে প্রতিফলিত করে ।"

সিভি আনন্দ বোস বিভিন্ন ভাষায় সাতটি উপন্যাস এবং তিনটি নাটক-সহ 83টি বইয়ের লেখক । তাঁর প্রশংসিত বই 'চেখভ অ্যান্ড হিজ বয়েজ'-এর মধ্যে একটি গল্প নিয়ে 'চৌরঙ্গীর ফুল' নাটকটি অনুষ্ঠিত হয় ৷ ওই বইটি মালয়ালাম, ইংরেজি, বাংলা, হিন্দি এবং তামিল ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে । নাট্যদল 'নয়াবাদ তিতাস' নাটকটি উপস্থাপন করেন । EZCC-এর তত্ত্বাবধানে নাটকটি পরিচালনা করেছেন মনোজকুমার সাহা (আবীর) । এই নাটকে অভিনয় করেছেন রাজ্য বিজেপির অন্যতম নেত্রী শর্বরী মুখোপাধ্যায়-সহ 'নয়াবাদ তিতাসে'র কলাকুশলীরা । হিন্দি-বাংলা বিভিন্ন গান ব্যবহার করা হয়েছে নাটকে ।

নাটকে বস্তির পুজোর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মুহূর্ত তুলে ধরতে চটুল নাচ ও গান ব্যবহৃত হয়েছে ৷ রাজভবনের মতো ঐতিহ্যবাহী ভবনে এই ধরনের চটুল নাচ গান পরিবেশিত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে । আর নাটকটির দর্শক আসনে প্রথম সারিতে ছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস, তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী আনন্দ বোস, অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও মুনমুন সেন-সহ রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা ।


